মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় সিভিক ডিফেন্ডারস ওয়েব পোর্টালের উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় সিভিক ডিফেন্ডারস ওয়েব পোর্টালের উদ্বোধন

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং নাগরিক পরিসরে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ রক্ষায় একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা হলো।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মোহাম্মদপুরে ওয়াই ডাবলিউ সিএ মিলনায়তনে উদ্বোধন করা হয় “সিভিক ডিফেন্ডারস অফ বাংলাদেশ” নামের নতুন ওয়েব পোর্টালের।

Manual2 Ad Code

বেসরকারি অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী, মানবাধিকারকর্মী, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual7 Ad Code

পোর্টালটির লক্ষ্য হলো— দেশে নাগরিক পরিসরে ঘটে যাওয়া অধিকার লঙ্ঘন, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, ডিজিটাল দমন-পীড়ন এবং বিশেষত লিঙ্গভিত্তিক অপতথ্যের ঘটনা সমন্বিতভাবে তুলে ধরা ও নথিভুক্ত করা।

আলোচকদের বক্তব্য

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নীতি পর্যালোচক ড. অনন্য রায়হান, নারীবাদী অধিকার কর্মী সামিনা ইয়াসমিন, উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ টনি মাইকেল গোমেজ এবং আদিবাসী অধিকার কর্মী ডালিয়া চাকমা।

ড. অনন্য রায়হান বলেন, “ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে অধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জোরদার করতে দেশে কিছু আইনগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এই ওয়েব পোর্টাল সেসব প্রক্রিয়ায় পরিপূরক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”

নারীবাদী অধিকার কর্মী সামিনা ইয়াসমিন মনে করেন, “নারীবাদী আন্দোলন ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে লিঙ্গভিত্তিক অপতথ্য মোকাবিলা করতে পারবে। নারী সাংবাদিকদের জন্যও এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, “এটি একটি অ্যাডভোকেসি ও ক্ষমতায়নের হাতিয়ার। বিশেষ করে যুবসমাজ, তৃণমূল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।”

আদিবাসী অধিকার কর্মী ডালিয়া চাকমা বলেন, “ওয়েব পোর্টালে জনপরিসরের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করে নথিভুক্ত করা হচ্ছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরও অর্থবহ পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করবে।”

Manual3 Ad Code

প্রকল্পের লক্ষ্য ও গুরুত্ব

Manual8 Ad Code

পোর্টালটির পাশাপাশি ভয়েস তাদের চলমান প্রকল্প “কোল্যাবোরেটিভ অ্যাকশন্স ফর প্রোমোটিং ডিজিটাল এন্ড সিভিক স্পেস এন্ড কমব্যাটিং জেন্ডার ডিজইনফরম্যাশন”–এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। সংগঠনের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা জানান, এ উদ্যোগ মূলত সমাজে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার এক প্রচেষ্টা।

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, “ওয়েব পোর্টালটি প্রযুক্তিভিত্তিক একটি নথির ভান্ডার হিসেবে কাজ করবে। এটি আসলে জনপরিসরে ঘটে যাওয়া সময়োপযোগী ঘটনাগুলোর দলিল। আগামীর গবেষক ও অধিকারকর্মীদের জন্য এই সমন্বিত তথ্য অত্যন্ত কার্যকর হবে।”

সামগ্রিক তাৎপর্য

সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, ডিজিটাল দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা এবং লিঙ্গভিত্তিক অপতথ্যের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে ওয়েব পোর্টালটি এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু তথ্যভান্ডার নয়; বরং গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো রক্ষা ও প্রসারের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করবে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ