এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার: এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার: এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে ভোটাধিকারের বয়স ১৬ বছর করা, আগামী ৫ বছরে দেশে ১ কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং এককালীন তহবিল দিয়ে রিভার্স ব্রেন ড্রেইন (মেধাবীদের দেশে ফেরানো) করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এনসিপির ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা জোট (জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য) করার ফলে এই প্রশ্ন এসেছে যে নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা আছে কি নেই। জোট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমাদের নতুন বন্দোবস্তের লড়াই, আমরা এখনো সেই দাবিতেই আছি। এটা আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অর্জন করতে হবে। আমরা অনেক সুযোগ মিস করেছি, আবার অনেক অর্জনও হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, আমরা পুরোনো দলের সঙ্গে জোট করে নতুন বন্দোবস্তের লক্ষ্য থেকে সরে এলাম কি না। আমরা স্পষ্ট করেছি, এই জোটে কিছু ন্যূনতম জায়গায় রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে। এটা মূলত একটা নির্বাচনী জোট। আমাদের চেষ্টা থাকবে, এই জোটের মধ্য দিয়ে সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন। আমরা আমাদের অগ্রাধিকারগুলোই বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’

বেলা সাড়ে তিনটার পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এনসিপির এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর নির্বাচনী প্রচারের ‘থিম সং’ বাজানো হয়। এরপর বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। পরে ইশতেহারের উপজীব্য বিষয়গুলো উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল।

এনসিপির ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান এহতেশাম হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম (নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন), ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক গাউসুল আজম (স্বাস্থ্যব্যবস্থা) এবং ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সেক্রেটারি ইশতিয়াক আকিব (শিক্ষা ও গবেষণা)।

এনসিপির ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷

৩৬ দফায় যা আছে

Manual3 Ad Code

এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারটি ১২ ভাগে বিভক্ত। সেগুলো থেকে জনগণের জীবন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ৩৬ দফাকে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্বাচন করেছে দলটি। এনসিপির ইশতেহারের সেই ৩৬টি দফা হলো–

Manual6 Ad Code

১. জুলাই সনদের যে দফাগুলো আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, তা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো তৈরিতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।

২. জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে।

৩. ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং জাতি-পরিচয়ের কারণে যেকোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নকে প্রতিহত করতে স্বাধীন তদন্তের এখতিয়ারসম্পন্ন মানবাধিকার কমিশনের একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে।

৪. মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সব জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বাৎসরিক আয় ও সম্পদের হিসাব, সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দের বিস্তারিত ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ ও হালনাগাদ করা হবে।

৫. আমলাতন্ত্রে ‘ল্যাটেরাল এন্ট্রি’ (সমান্তরাল নিয়োগ) বৃদ্ধি করা হবে এবং স্বাধীন পদোন্নতি কমিশনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির শতভাগ পদোন্নতি হবে পারফরম্যান্সভিত্তিক। পে-স্কেল মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি তিন বছরে হালনাগাদ করা হবে এবং পে-স্কেলে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

৬. বিভিন্ন কার্ডের ঝামেলা ও জটিলতা দূর করতে এনআইডি কার্ডকেই (জাতীয় পরিচয়পত্র) সব সেবা প্রাপ্তির জন্য ব্যবহার করা হবে।

৭. জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা, বাধ্যতামূলক কর্মসুরক্ষা বিমা ও পেনশন নিশ্চিত করে শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

৮. টিসিবির বিদ্যমান এক কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডব্যবস্থাকে ট্রাকের লাইনে দাঁড়িয়ে নয়, বরং নিবন্ধিত মুদিদোকানে ব্যবহারযোগ্য করা হবে।

৯. সুনির্দিষ্ট বাড়িভাড়া কাঠামো তৈরি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ/ওয়াকফ সুকুক ভিত্তিতে সামাজিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।

১০. গরিব ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা কমিয়ে, কর ফাঁকি বন্ধ করে কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা হবে ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।

১১. পরিকল্পিতভাবে এলডিসিতে (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণের জন্য আগাম এফটিএ-সিইপিএ করা হবে। রপ্তানি বৈচিত্র্য ও নতুন শিল্প গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক খাত (ব্যাংকিং, ইনস্যুরেন্স ও পুঁজিবাজার) শৃঙ্খলা ফেরানো হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ, কঠোর আইন, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যাহার নিশ্চিত করা হবে।

১২. স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে, ৯৯৯-এর মতো হটলাইন চালু ও জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

১৩. মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো হবে, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর অর্থনৈতিক ডেটা প্রকাশ বন্ধ করা হবে, রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা চালু করে জনগণের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হবে।

১৪. ভোটাধিকারের বয়স হবে ১৬ এবং তরুণদের কণ্ঠকে প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করতে ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল গঠন করা হবে।

১৫. আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এসএমই খাতে ক্যাশ ফ্লোভিত্তিক ঋণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, নিবন্ধন খরচ হ্রাস ও প্রথম ৫ বছরের করমুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

Manual7 Ad Code

১৬. সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্লেসমেন্ট, ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ নিরাপদ ও দক্ষ প্রবাসী কর্মী গড়ে তোলা হবে।

১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে বিদ্যমান সব ধরনের শিক্ষার মাধ্যম ও পদ্ধতিগুলোর একটি যৌক্তিক সমন্বয় করা হবে। শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন ও ৫ বছরে ৭৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হবে।

১৮. উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সংযোগ স্থাপন করতে স্নাতক পর্যায়ে ছয় মাসের পূর্ণকালীন ইন্টার্নশিপ/থিসিস রিসার্চ বাধ্যতামূলক করা হবে৷

১৯. প্রবাসী গবেষকদের সিনিয়রিটি ও ল্যাবের জন্য এককালীন ফান্ডিং দিয়ে রিভার্স ব্রেন ড্রেইন করা হবে। কম্পিউটেশনাল গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার জন্য একটি ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার তৈরি করা হবে।

২০. হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, ট্রমা, বন্ধ্যত্ব, জটিল অস্ত্রোপচারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন (এসএইচজেড) গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশে মেডিকেল ট্যুরিজমের বিকল্প তৈরি করা হবে।

২১. দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বজনীন জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স ও প্রি-হসপিটাল ইমার্জেন্সি সিস্টেম গঠন করা হবে, যেখানে ইমার্জেন্সি প্যারামেডিক রেসপন্স টিম সংযুক্ত থাকবে। সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে অত্যাধুনিক ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট গড়ে তোলা হবে। প্রতি জেলা হাসপাতালে অন্তত একটি অত্যাধুনিক সুবিধাসংবলিত আইসিইউ ও সিসিইউয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

২২. প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড এবং কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে সব নাগরিককে ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

২৩. নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধিদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে, যার সংখ্যা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস করা হবে।

২৪. সব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বেতনে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারি কর্মক্ষেত্রে ঐচ্ছিক পিরিয়ড লিভ চালু করা হবে এবং ডে-কেয়ার সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হবে।

২৫. উপজেলাভিত্তিক বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামোতে স্যানিটারি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় নারীবান্ধব স্বাস্থ্য সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সরকারি স্কুল ও কলেজে সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

Manual1 Ad Code

২৬. একটি ‘ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল’ (ওয়ান-স্টপ সার্ভিস) গড়ে তোলা হবে, যেখানে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, কনস্যুলার সেবা, বিনিয়োগ ইত্যাদি সবকিছু অনলাইনে করা যাবে। বিমানবন্দর ও দূতাবাসে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর মনিটরিং চালু করা হবে।

২৭. প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণের বিপরীতে বিনিয়োগ ও পেনশন–সুবিধা এবং বিমানে RemitMiles নামে ট্রাভেল মাইলস প্রদান করা হবে।

২৮. প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভোটাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে একক কর্তৃপক্ষের আওতায় সমন্বিত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে এবং মালবাহী ট্রেন বাড়িয়ে সড়কপথে ট্রাকের চাপ কমানো হবে।

৩০. দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ, পরিচ্ছন্ন যানবাহন ও সবুজ প্রযুক্তি নিশ্চিত করা হবে। ৫ বছরে বিদ্যুতের অন্তত ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন ও সরকারি ক্রয়ে ৪০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকেল চালু করা হবে।

৩১. দেশের সব শিল্পকারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে এবং এর ব্যয় কমাতে কর ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। শিল্পে দূষণ, নদী-খাল দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

৩২. জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরাসরি ক্যাশব্যাকের মাধ্যমে সার, বীজ ও যন্ত্রে ভর্তুকি দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিক্রয় কেন্দ্র, মাল্টিপারপাস কোল্ডস্টোরেজ ও ওয়্যারহাউস স্থাপন করে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয় নিশ্চিত করা হবে।

৩৩. দেশি বীজ গবেষণা, সংরক্ষণ ও বিতরণসক্ষমতা বৃদ্ধি করে শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নয়, খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে। খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে৷

৩৪. ভারতের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনা, অসম চুক্তিসহ সব বিদ্যমান ইস্যুতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃঢ় ভূমিকা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আদালতে যাওয়া হবে।

৩৫. দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান ও আসিয়ানে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা হবে।

৩৬. সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রেগুলার ফোর্সের দ্বিগুণ আকারের রিজার্ভ ফোর্স তৈরি করা হবে। পাঁচ বছরে সেনাবাহিনীতে একটি UAV (Unmanned Aerial Vehicle– ড্রোন) ব্রিগেড গঠন ও মাঝারি পাল্লার অন্তত আটটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি অধিগ্রহণ করা হবে।