উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি নেটওয়ার্ক (WEE-NET)–এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি নেটওয়ার্ক (WEE-NET)–এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

Manual5 Ad Code
জ্বালানি রূপান্তরে নারীর নেতৃত্ব নিশ্চিতের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : দেশের ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তরে নারীর নেতৃত্ব ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি নেটওয়ার্ক (WEE-NET)’–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)–তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ)–এর উদ্যোগে এবং দেশের ৩৪টি নাগরিক সমাজ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্কের যাত্রা শুরু হয়।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। এই বাস্তবতায় WEE-NET নারীদের কেবল ভোক্তা নয়, বরং নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও নজরদারিকারী হিসেবে জ্বালানি খাতের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসার জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামসের পরিচালক বনস্রী মিত্র নিয়োগী, ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন লিড ওয়াসিউর রহমান তন্ময় এবং WEE প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি অফিসার মৌসুমি ইয়াসমিন।

এছাড়াও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর পক্ষে বক্তব্য দেন ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (WE)–এর শরীফা খাতুন, ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ–এর সানজিদা রহমান এবং পাঠচলা ফাউন্ডেশন–এর আমাইরা ইরতেজা ইরা।

জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা বলেন, একটি ন্যায়সংগত (Just) জ্বালানি রূপান্তর সম্ভব নয় যদি জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হয়। বিশেষ করে জ্বালানি পরিকল্পনা, অর্থায়ন, ভর্তুকি বণ্টন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীর কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

WEE-NET এই বাস্তবতা পরিবর্তনে নীতিগত সংস্কার ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করার আহ্বান জানায়।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার দাবি

সংবাদ সম্মেলনে WEE-NET সরকারের প্রতি জাতীয় জ্বালানি অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের দাবি জানায়।

Manual6 Ad Code

নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়াচ্ছে।

এ কারণে—
নতুন কোনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন বন্ধ,
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ভর্তুকি সরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ,
ইলেকট্রিক যানবাহন ও পরিষ্কার জ্বালানি প্রযুক্তিতে কর ও শুল্ক হ্রাস—এই দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীর সুযোগ সম্প্রসারণ
WEE-NET নেতৃবৃন্দ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীদের জন্য বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনও সীমিত।

নেটওয়ার্কের দাবি অনুযায়ী—
নারীদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ জোরদার,
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে বিশেষ সহায়তা,
জ্বালানি ভ্যালু চেইনে কর্মরত নারীদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

Manual7 Ad Code

বক্তারা আরও বলেন, নারীদের নেতা, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ক্ষমতায়ন ছাড়া বাংলাদেশে একটি টেকসই, ন্যায়সংগত ও জনগণকেন্দ্রিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম

WEE-NET–কে একটি দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক সমাজ জোট হিসেবে উল্লেখ করে আয়োজকরা জানান, এই নেটওয়ার্ক গবেষণা, নীতিগত সংলাপ, অ্যাডভোকেসি এবং তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে জেন্ডার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে WEE-NET–এর যাত্রা শুরুকে বক্তারা বাংলাদেশের জ্বালানি ও জলবায়ু ন্যায্যতার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ