ড্রোন ক্যামেরায় হারিয়ে যাওয়া নদী খুঁজে বের করার আহ্বান ড. আবেদ চৌধুরীর

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬

ড্রোন ক্যামেরায় হারিয়ে যাওয়া নদী খুঁজে বের করার আহ্বান ড. আবেদ চৌধুরীর

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ১১ মার্চ ২০২৬ : জেলায় হারিয়ে যাওয়া নদী ও খালগুলো শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতনামা জিন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া নদীগুলোকে সনাক্ত করা সম্ভব। সরকার ও প্রশাসন চাইলে এ কাজে তিনি এবং তার সহকর্মীরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

Manual7 Ad Code

বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) মৌলভীবাজারে মাহে রমাদান উপলক্ষে আয়োজিত এক ইফতার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জেলার পরিবেশ, নদী ও হাওর রক্ষায় সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Manual3 Ad Code

ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, “মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন নাগরিকদের একত্রিত করতে ‘আপ মৌলভীবাজার (UpMoulvibazar)’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হবে। এতে জেলার সমাজসচেতন ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা যুক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।”

তিনি আরও বলেন, হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ সকলকে নিয়ে জেলার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Manual2 Ad Code

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় এক হাজারেরও বেশি ছোট নদী ও খালের অস্তিত্ব রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। কিন্তু সরকারি তালিকায় মাত্র ১৩৩টি নদী ও খালের উল্লেখ থাকায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে দায়সারা ধরনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, “আমাদের পলকি নদী কোথায়? কুশিয়ারা নদী থেকে কাউয়াদিঘি হাওরে প্রবেশ করা রত্না নদী গেল কোথায়? এখনও যে নদী ও খালগুলো প্রবাহমান রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে তালিকা করা হলে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।”

তারা আরও বলেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সততা ও প্রয়োজনীয় পরিশ্রমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন না করলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিপূর্বে পাহাড় ও হাওর অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার একর সরকারি ভূমি ও জলাভূমি বিভিন্ন প্রভাবশালী চক্রের দখলে চলে গেছে বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন।

Manual7 Ad Code

বক্তারা বলেন, “তালিকায় তথ্য গোপন করা এবং সরকারি সম্পদের মালিকানা হারানো একই ধরনের অন্যায়। প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।” তারা নদী, খাল, বিল, হাওর ও পাহাড়সহ জেলার পরিবেশ রক্ষায় তালিকা সংশোধন ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আ স ম ছালেহ সোহেলের সভাপতিত্বে এবং এম খছরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ-খ্যাত সাহিত্যিক (সিলেটি বংশোদ্ভূত) জিয়া হায়দার রহমান, ডা. এম এ আহাদ, অধ্যাপক মো. সেলিম মিয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নেতা ও আয়কর উপদেষ্টা বদরুল হোসেন, নারী নেত্রী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী এবং ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবুল ফজল।

এ সময় শুভেচ্ছা ও সংহতি বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক নেতা সরওয়ার আহমদ, হাওর রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা মো. খায়রুল ইসলাম, মৌলভীবাজারস্থ কুলাউড়া সমিতির সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক কাজল দেব, ছাত্রনেতা রাজীব সূত্রধরসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের জন্য ম্যাজিক প্রদর্শন করেন ম্যাজিক মোহন।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরী, ন্যাপ নেতা সৈয়দ আব্দুল মোতালিব রঞ্জু, সিপিবি নেতা জহুর লাল দত্ত, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, আব্দুর রব, তুহিন জুবায়ের, সাহিত্যিক সৈয়দ কামাল আহমদ, মহিদুর রহমান, কবি মুজাহিদ আহমদ, অ্যাডভোকেট বনমালী নন্দী, সমাজসেবী সাম্মির হাবিব চৌধুরী রবিনসহ বিভিন্ন উপজেলার দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে হাওর রক্ষা আন্দোলনের সংগ্রামী নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন হাওর ও পরিবেশ রক্ষার জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। তিনি দোয়ায় হাওর রক্ষা আন্দোলনের প্রয়াত নেতা গজনফর আলী চৌধুরী, সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা, কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, মাওলানা বয়তুল হোসেন, আব্দুল হান্নান, জবান মিয়া, চেরাগ আলী চৌধুরীসহ সকল মৃত ব্যক্তির মাগফেরাত কামনা করেন।