স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার চান বিধবা রহিমা

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬

স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার চান বিধবা রহিমা

Manual7 Ad Code
  • ‘এতিম সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তির হক থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে’—সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০১ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের ও তিন সন্তানের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক বিধবা নারী।

তিনি দাবি করেছেন, প্রথম পক্ষের ছেলেরা তাকে স্বীকৃতি না দিয়ে তার সন্তানদেরও পিতার উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম পক্ষের এক ছেলে বলেছেন, রহিমা বেগম সত্যিই তাদের বাবার স্ত্রী হয়ে থাকলে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হবে।

শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শহরের সুরভী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম।

Manual6 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৫ সালে শ্রীমঙ্গল শহরের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ইয়াকুব আলী খাঁনের আরও দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই মেয়ে রয়েছে। রহিমা বেগমের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়।

রহিমা বেগমের ভাষ্য, বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে শহরের সুরভীপাড়া এলাকায় চার শতক জমির ওপর নির্মিত একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন। ২০১৪ সালের মে মাসে হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের মৃত্যু হলে তিনি তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খাঁনের মাধ্যমে তাকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিন সেই অর্থ পেলেও ২০২৩ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে মনজুর আলী খাঁনের মৃত্যু হলে আর কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে, তার স্বামীর প্রথম পক্ষের বড় ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহাদৎ আলী খাঁন একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে ওয়ারিশনামা তৈরি করেছেন, যেখানে তার সন্তানদের উত্তরাধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা।

তিনি জানান, গত ৩১ মে সকালে তার বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন বিষয়টি জানতে সৎভাইদের বাসায় গেলে সেখানে তাকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে সেদিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহাদৎ আলী খাঁন এবং তাদের স্বজন ইমন ও জীবন তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ঘটনার পর তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির দাবিকে কেন্দ্র করে আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

রহিমা বেগম বলেন, তার বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকায় প্রথম পক্ষের সন্তানরা সেই সুযোগ নিচ্ছে। তবে হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের স্ত্রী হিসেবে তার পরিচয়ের পক্ষে একাধিক সরকারি নথি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টিকাদান কার্ড, পৌরসভার নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্রে হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের নাম তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

Manual7 Ad Code

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম পক্ষের তিন ছেলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাজি ইয়াকুব আলী খাঁন তাদের ত্যাজ্য করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে সেই ছেলেরাই তার সন্তানদের সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন রহিমা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে রহিমা বেগম বলেন, তিনি একজন প্রতিবন্ধী নারী এবং চরম কষ্টে তিন সন্তানকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তার ভাষায়, “স্বামীর সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। কিন্তু আমার এতিম সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে আইনগত ও ধর্মীয়ভাবে যে অধিকার রয়েছে, সেটি যেন তারা পায়—এটাই আমার একমাত্র দাবি।”

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের প্রথম পক্ষের ছোট ছেলে সাহাদৎ আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগমকে তার বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, “রহিমা বেগম সত্যিই যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি দেখে সমাধানের চেষ্টা করব।”

উল্লেখ্য, রহিমা বেগমের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।