বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে জীবন দিয়েছিলেন বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৪

বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে জীবন দিয়েছিলেন বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত

Manual5 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ জুলাই ২০২৪ : ভারতবর্ষের মহান স্বাধীনতার জন্য বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম করতে গিয়ে ফাঁসিতে জীবন দিয়েছিলেন বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত।

Manual1 Ad Code

১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই। আজকের দিনে মৃত্যুঞ্জয়ী বীর শহীদ দীনেশ গুপ্তর ফাঁসি হয়েছিল। ৯৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে তাঁকে জানাই আমাদের শ্রদ্ধা।

বিপ্লবী দীনেশের জন্ম ১৯১১ সালের ৬ই ডিসেম্বর ঢাকার মুন্সিগঞ্জে। তাঁর পিতার নাম সতীশ চন্দ্র গুপ্ত ও মাতা বিনোদিনী দেবী।

Manual1 Ad Code

দীনেশের ডাক নাম নসু, চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে দীনেশ ছিলেন তৃতীয় সন্তান। সতীশ চন্দ্র ছিলেন ডাক বিভাগের কর্মচারী আর সেই সূত্রে বদলি হওয়ায় দীনেশের শিক্ষারম্ভ হয় গৌরীপুর পাঠশালাতেই। পরে ৯ বছর বয়েসে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। ছোট থেকেই দীনেশ ছিলেন নির্ভীক, বেপরোয়া ও বাগ্মী। এই সময় থেকেই তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশ বিরোধিতার মতাদর্শ সঞ্চারিত হয়েছিল।

Manual1 Ad Code

স্কুলে থাকাকালীন তিনি বি ভি (বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স) নামক গুপ্ত সংগঠনের সদস্য হন, ১৯২৬ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মেদিনীপুরে কর্মরত বড়দাদা জ্যোতিষচন্দ্র গুপ্তের কাছে বেড়াতে আসেন, আর এই সময় থেকে মেদিনীপুর শহরে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলতে চান। কিন্তু দলের নির্দেশে তাঁকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়। ১৯২৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষা দেন, কিন্তু এই পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন, এবং মেদিনীপুরে গিয়ে পড়াশুনো করার সিদ্ধান্ত নেন। দলের পক্ষ থেকে দীনেশকে মেদিনীপুর জুড়ে শাখা স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি সংগঠন তৈরি ও সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি পড়াশুনোও চালিয়ে যান। ঢাকা কলেজে পড়াকালীন ১৯২৮ সালে দীনেশ ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা সেশনের প্রাক্কালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সংগঠিত বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সে যোগ দেন, খুব অল্প সময়ে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স একটি সক্রিয় বিপ্লবী সংগঠনে পরিবর্তিত হয়, অত্যাচারী ও কুখ্যাত ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করে। স্থানীয় বিপ্লবীদের আগ্নেয়াস্ত্র চালনা শেখান দীনেশ মেদিনীপুরে।

তাঁর প্রশিক্ষিত বিপ্লবীরা ডগলাস, বার্জ ও পেডি এই তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পর পর হত্যা করেছিল। এরপর বিপ্লবীরা জেলের ইন্সপেক্টর সিম্পসনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন যে জেলখানায় বিপ্লবীদের উপর অত্যাচার করায় কুখ্যাত ছিল। বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত করেন যে তাঁরা শুধু সিম্পসনকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হবেন না বরং তাঁরা কলকাতা ডালহৌসি স্কয়ারে ব্রিটিশ সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করে ব্রিটিশদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করবেন। রাইটার্স অভিযানের দায়িত্ব পরে বিনয় বসু ও বাদল গুপ্তের সাথে দীনেশের উপর, ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর সকালে ইউরোপীয় পোশাকে সজ্জিত বিনয়, বাদল ও দীনেশ রাইটার্সে প্রবেশ করেন ও সিম্পসনকে হত্যা করেন। লাল বাজার থেকে আসে শত শত সশস্ত্র পুলিশ, রাইটার্স এর অলিন্দে ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ শুরু হয় তিন বিপ্লবীর। টোযাইনাম, প্রেন্টিস ও নেলসন এর মত পুলিশ অফিসার সহ বেশ কিছু পুলিশ কর্মী গুলিতে আহত হয়। এদিকে গুলি ফুরিয়ে আসে বিপ্লবীদের, শোনাযায় সেই সময় বিনয় ও দীনেশের পিস্তলে মাত্র একটা কেটে গুলি ছিল, আর বাদল এর পিস্তলে কোন গুলি ছিল না। বিপ্লবীরা ব্রিটিশ এর হাতে ধরা পড়ার চেয়ে আত্মহত্যা করা শ্রেয় মনে করলেন। বাদল পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরন করেন আর বিনয় ও দীনেশ নিজেদের মাথায় নিজেরা গুলি করেন। দুজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, বিনয় নিজের ক্ষতে আঙ্গুল দিয়ে বিষাক্ত করে দিয়ে ১৯৩০ সালের ১৩ই ডিসেম্বর মারা যান। দীনেশ ধীরে ধীরে সুস্থ হন, শুরু হয় বিচারের প্রহসন, সরকারবিরোধী কাজকর্ম ও খুনের অভিযোগে তাঁর ফাঁসির অর্ডার হয়।
১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে দীনেশের ফাঁসি হয়।

Manual3 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ