ভালো থেকো, সাম্য!

প্রকাশিত: ৪:২১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২৪

ভালো থেকো, সাম্য!

Manual6 Ad Code

বিশ্বপ্রিয় ভট্টাচার্য কাব্য |

১৯ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর ১টায় এক ছোট ভাইয়ের কল আসে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার জন্য। আমি তৎক্ষণাৎ পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে সেখানে যাওয়া উদ্দেশ্যে রওনা হই। গিয়ে দেখি তাদের বন্ধু (সাম্য দে; বয়স ১৬ বছর) আর নেই! সে এবং তার পরিবার আমাদের বাসায় বিগত ৮-৯ বছর যাবত ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছে। বলতে গেলে আমরা একসঙ্গে ছোট থেকে বড় হয়েছি। তো সেখানে গিয়ে দেখলাম যে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা বা সাহায্য করার মতো সত্যিকার অর্থে কোনো ‘মানুষ’ নেই! তার বন্ধুরা আমার সামনে এসে কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়ল এবং আমি নিজেকে সামলে আমার বাবাকে ফোন দিলাম। উনি সাম্য’র বাবাকে সাথে করে নিয়ে আসলেন এবং সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা কি জানেন? উনি এসেই প্রথমে ছেলের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে মুখখানা দেখলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই আর্তনাদে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তখনো মানুষ দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে এবং ছবি তুলছে! আমি দৌড়ে এসে আঙ্কেলকে সামলানোর জন্য হাত বাড়ালাম কিন্তু আঙ্কেলের আর্তনাদ দেখে আমি নিজেও ভেঙ্গে পড়লাম। কিছু সময় পর আন্টি আসলেন এবং তিনিও মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়লেন। সামনে সন্তানের মৃতদেহ, পাশে মা এবং বাবা মাটিতে বসে হাহাকার করছেন; এই ছবিটা হয়তো আমার তোলা সবচেয়ে বেদনাদায়ক একটি ছবি!

Manual6 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার বন্ধুদের থেকে জানতে পারি- তারা ৫ জন লাউয়াছাড়ায় ঘুরতে গিয়েছিল এবং সেখানে গিয়ে তারা রেল ক্রসিংয়ের আশেপাশে ছবি তুলতে থাকে এবং এটি কোনো অস্বাভাবিক কিছু না কারণ এই রেল ক্রসিংটি অনেক জনপ্রিয় একটি স্থান এবং অধিকাংশ পর্যটক এই জায়গায় ছবি তুলেন আর সচরাচর ক্যামেরাম্যানও সেখানে উপস্থিত থাকেন পর্যটকদের ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। তো তারা রেললাইন দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে ছবি তুলতে থাকে এবং তারা আলোচনা করেছিলো যে ট্রেন আসলে ওরা দ্রুত সরে যাবে। ছবি তোলা শেষ করার পর ওরা হঠাৎ ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পায়। তবে তাদের একজন বলে যে, ট্রেন মাঝবরাবর এসে হুইসেল বাজায়, শুরু ইঞ্জিন থাকায় খুব দ্রুতগামী ছিল এবং এই শব্দ শুনে ওরা ৩ জন সরে গেলেও ২ জন দৌড় দেয়। সেই ২ জনের একজন রেললাইন থেকে ঝাঁপ দেয় এবং তার দাঁত ভেঙে যায় এবং হাতে/পায়ে একটু ব্যথা পায়। তবে তার অবস্থা গুরুতর নয়! কিন্তু সাম্য সে অবস্থা থেকে বের হতে পারেনি। সে হয়তো ঝাঁপ দেয়ার আগেই সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেনের বগি ছাড়া শুরু ইঞ্জিনের আঘাতে রেললাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে এবং গুরুতর আহত হয়। বন্ধুরা তাকে নিয়ে সিএনজিতে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উদ্দেশ্যে রওনা হয় কিন্তু সিএনজিতে থাকা অবস্থায় গ্রেন সুলতান সংলগ্ন এলাকায় সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে জানা যায়।

এই হচ্ছে আসল ঘটনা। ঘটনাটি নিতান্তই অপ্রত্যাশিত ও হৃদয়বিদারক একটি দুর্ঘটনা মাত্র। ট্রেনের সাথে সেলফি তুলতে গিয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। তবে অনেক মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি এই ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে নানান গালগল্প তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি তাকে অনেক শিক্ষিত মানুষরাও টিকটকার বলে মন্তব্য করছেন যা সত্যিই দুঃখজনক। এখন আমাদের উচিত কোন ঘটনা সম্পর্কে সত্যতা না জেনে আজেবাজে মন্তব্য না করা। আর গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা।

Manual3 Ad Code

সবশেষে আমরা সবাই মিলে ওর জন্য প্রার্থনা করি যাতে ওর আত্মা চিরশান্তি লাভ করে। ভালো থেকো, সাম্য!❣️

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ