ইজরাইলের এক পয়সা খরচ হয়নি!

প্রকাশিত: ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৫

ইজরাইলের এক পয়সা খরচ হয়নি!

Manual5 Ad Code

শাফি হক |

অনেকেই ভাবছে ইজরাইলের অনেক পয়সা খরচ হলো ইরানের সাথে লাগতে যেয়ে।
আসলে ইজরাইলের এক পয়সা খরচ হয়নি!

ওদের সকল যুদ্ধের খরচ এবং অস্ত্রের খরচ যোগায় আমেরিকা।

হয়তো ভাবছেন আমেরিকা নিজে পকেট থেকে বছর বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়।
জ্বি না, সেটাও না।

আমেরিকাও এক পয়সা নিজ পকেট থেকে দেয় না।

Manual4 Ad Code

ইজরাইলের অস্ত্র থেকে শুরু করে ওদের ডাইপার কেনার পয়সা সৌদি, কাতার আর দুবাই দেয়।

ট্রাম্প জেতার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল মিডিলিস্টে।

প্রতি চার বছর পর পর আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট যেই আসুক, সে এই তিন দেশে ভ্রমণ করে।
এবং এই তিন দেশ আগের চার বছরে তেল বেঁচে যে পয়সা কামায়, তার অর্ধেক আমেরিকা এসে খাজনা হিসেবে নিয়ে যায়।

তবে আমেরিকা এই টাকা পুরোটা একা খায় না।
সে এখান থেকে ৩০/৪০% টাকা প্রতি বছর ইজরাইলকে ডোনেশন হিসেবে দেয়।

Manual3 Ad Code

মধ্যপ্রাচ্যের এই তিন গান্ডু নামে মুসলিম রাষ্ট্র, সরাসরি ইজরায়েলকে টাকা দিতে পারেনা, শরম লাগে।

Manual2 Ad Code

তাই এই টাকা আমেরিয়াকর প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে চাঁদাবাজি দেখিয়ে ইজরায়েলে পাঠায়।

খেয়াল করে দেখেন গত ৭০ বছর যাবৎ ইজরায়েল ফিলিস্তিনে এবং অন্যান্য দেশে বোমা মেরে যে ক্ষতি করে আসছে, এগুলো পুনরায় তৈরী করার জন্য ঐ তিন দেশ সবসময় টাকা দেয়।

ইজরায়েল ৪/৫ বছর পর আবার বোমা মেরে সেগুলো সব ধ্বংস করে। সৌদিরা আবার টাকা দিয়ে সেগুলো তৈরী করে দেয়।

ঐ তিন দেশ জীবনেও কোনদিন একটি গুলিও ছুড়ে প্রতিবাদ করেনা।
কিন্তু প্রত্যেকবার টাকা দেয় নতুন করে বিল্ডিং করার জন্য।

এভাবেই ঐ তিন ইতর নামে মুসলিম দেশ, ইজরায়েলের যুদ্ধের খরচ বহন করে আসছে।

এবার ট্রাম্প সৌদি থেকে ১ ট্রিলিয়ন , কাতার এবং দুবাই থেকে ১.৪ ট্রিলিয়ন করে ২.৮ ট্রিলিয়ন চাঁদাবাজির খাজনা নিয়েছে।

মোট ৩.৮ ট্রিলিয়ন তেল বেচার টাকা নিয়ে গেছে ট্রাম্প।

এক ট্রিলিয়নে কয়টা শূন্য বসে এগুলো আমাদের মতো আমজনতার মাথায় ধরবে না।
কত টাকা হতে পারে, তা হিসাব করে বের করা সম্ভব নয়।

Manual6 Ad Code

চীন বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে এক বিলিয়ন দিলেই খবরের কাগজে বিশাল হেডলাইন হয়।

সেখানে এবার ট্রাম্পের ইহুদি মেয়ের জামাই জেরার্ডের কোম্পানিকে সৌদি ২ বিলিয়ন দিয়েছে ডোনেশন হিসেবে।

জেরার্ডের সেই কোম্পানি আবার একটি অস্ত্র কোম্পানিতে ইনভেস্ট করে, যেটার মালিক ইজরাইলের ইহুদী গোষ্ঠী।

মূলত সৌদি টাকায় ইজরায়েল অস্ত্র বানায়, আর সেগুলো লিবিয়া, সিরিয়া, লেবাননের বিরুদ্ধে এবং এবার ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলো।

তাহলে কিছু বুঝলেন, ইজরাইলের সকল অস্ত্রের টাকা কোথা থেকে আসে!

বাংলাদেশের গরিব কৃষক গনি মিয়া সারাজীবন না খেয়ে তিল তিল করে টাকা জমায় শেষ জীবনে হজ্জ্ব করার জন্য।
এছাড়া তার মনে আর কোন ইচ্ছা কাজ করে না।

সে কোনদিন কক্সেসবাজারে হলিডে করতে যায়না, শহরে কোনদিন যায় না, চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে।

পরিবার নিয়ে কোনদিন উপজেলাতে গিয়ে কোন রেস্টুরেন্টে ভালমন্দ খায় না, কারণ সে হজ্জের জন্য টাকা জমাচ্ছে।

তার সারা জীবনের কঠোর পরিশ্রমের কয়েক লক্ষ টাকা জমিয়ে শেষ পর্যন্ত গনি মিয়া সৌদি গিয়ে হজ্জ্ব করে ঠিকই।

কিন্তু সেই গনি মিয়া জানে না, তার হজ্জের খরচের ৬ লক্ষ টাকার মধ্য থেকে কিছু অংশ সৌদি সরকার আমেরিকাকে দিয়ে দেয়, এবং সেখান থেকে আমেরিকা সরাসরি টাকা অথবা অস্ত্র কিনে ইজরায়েলকে দেয় মুসলিম দেশের উপর হামলা করে নিরীহ মুসলমানদের মারার জন্য।
#
Written by @Shafi Haque

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ