নোটারীর মাধ্যমে বাল্যবিবাহে সহায়তা: নোয়াখালীতে এক নারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২৫

নোটারীর মাধ্যমে বাল্যবিবাহে সহায়তা: নোয়াখালীতে এক নারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | নোয়াখালী | ০১ অক্টোবর ২০২৫ : নোয়াখালী জজকোর্টের এক নারী আইনজীবী বাল্যবিবাহে সহায়তার অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, বয়স না হলেও নোটারীর মাধ্যমে কিশোরী মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে বিয়ে সম্পন্নের এফিডেভিট করে দিচ্ছেন এডভোকেট বিলকিস জাহান সূচী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নোটারি পাবলিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইনজীবীর স্বীকারোক্তি ও অস্বীকৃতি

এই প্রতিবেদনের প্রতিনিধি এডভোকেট বিলকিস জাহান সূচীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে জানান, “আমি প্রায় দশ বছর ধরে আইন পেশায় আছি, আর সাত-আট বছর ধরে নোটারি হিসেবে কাজ করছি।”
তবে বয়স বাড়িয়ে বাল্যবিবাহের এফিডেভিট তৈরি করা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে বলেন, “প্রয়োজনীয় যা যা লাগে, সব করি।”
পরে প্রশ্নের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে বয়স বাড়িয়ে বিয়ের কাগজপত্র করেছেন, কিন্তু পরক্ষণেই সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে ফোন কেটে দেন অসুস্থতার অজুহাতে।

Manual6 Ad Code

আইনজীবী সমিতির প্রতিক্রিয়া

নোয়াখালী জজকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, “কোনো নোটারি পাবলিক বা আইনজীবী কম বয়সী মেয়ের বয়স বাড়িয়ে বিয়ের এফিডেভিট করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকেই নিতে হবে।”

Manual7 Ad Code

তিনি আরও জানান, “আমি বিলকিস জাহান সূচীকে একাধিকবার নিষেধ করেছি যেন এমন বেআইনি কাজে না জড়ায়। সে যদি আবারও করে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আমির হোসেন বুলবুল বলেন, “বয়স বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এক দিনেরও বয়স কেউ বাড়াতে পারে না। সূচী একাধিকবার এমন কাজ করেছে বলে শুনেছি। তাকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে, তবুও সে সংশোধন হয়নি। আপনি নিশ্চিন্তে এই বিষয়ে প্রতিবেদন করতে পারেন—আমরা কোনো বাধা দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “এমন অনিয়ম বন্ধ করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিবেদনের মাধ্যমে মানুষ সচেতন হলে এই অন্যায় কমবে।”

Manual2 Ad Code

বাল্যবিবাহ আইন কী বলে

‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর ৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে—
কোনো বিবাহ নিবন্ধক যদি বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করেন বা সহায়তা করেন, তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল, এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
একইভাবে, বয়স জালিয়াতি করে বিয়ের জন্য নোটারী এফিডেভিট তৈরি করাও এই আইনের লঙ্ঘন এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

সামাজিক ও আইনি উদ্বেগ

আইনজীবী হয়েও এমন বেআইনি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, আদালতের নোটারী যখন নিজেই বাল্যবিবাহে সহায়তা করেন, তখন সাধারণ মানুষ আইনকে আর গুরুত্ব দেয় না।

তারা দাবি করেন, এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসনের জরুরি তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

উপসংহার:
বাল্যবিবাহ কেবল একটি পারিবারিক বিষয় নয়, এটি শিশু অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আদালত ও সমাজের সচেতন মানুষদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এটি রোধ সম্ভব। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স বাড়ানো হলেও তা আইনসিদ্ধ নয়। অভিভাবকদের অনেকেই বিষয়টি জানেন না। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ