শ্রীমঙ্গলে রুশনি কারখানায় নিহত নারী শ্রমিক মর্জিনার পরিবারকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে রুশনি কারখানায় নিহত নারী শ্রমিক মর্জিনার পরিবারকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

Manual5 Ad Code

আনোয়ার হোসেন জসিম, বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রুশনি পলি ফাইবার প্লাস্টিক কারখানায় ফর্কলিফটের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত নারী শ্রমিক মর্জিনা বেগমের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শ্রম আইনে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ মাত্র ২ লাখ টাকা হলেও মানবিক বিবেচনায় অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

Manual2 Ad Code

দুর্ঘটনা: চার মাসের অস্থায়ী চাকরিতেই থেমে গেল জীবন

৩ ডিসেম্বর সকালে কারখানার ভেতরে মালামাল পরিবহনের একটি ট্রলির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ৩৭ বছর বয়সী শ্রমিক মর্জিনা বেগম। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি ভূনবীর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রাজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। চার মাস ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মর্জিনা বেগম পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রেখে গেছেন, যা স্থানীয় মহলে আরও গভীর মানবিক আলোচনার সৃষ্টি করে।

মানবিক বিবেচনাতেই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ

রুশনি পলি ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজের লিগ্যাল অ্যাডভাইজর ব্যারিস্টার সাদমান মোস্তফা জানান, “শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। কিন্তু মর্জিনা বেগমের পরিবারে পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকায় মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা প্রদান করেছি।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে চেক হস্তান্তর

গতকাল শ্রীমঙ্গল ইউএনও’র কার্যালয়ে নিহত শ্রমিকের পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন সহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরে পরিবারের দাবি বিবেচনায় কোম্পানি ১২ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে। নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”

সন্তানদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: অর্থ জমা থাকবে এফডিআরে

Manual1 Ad Code

ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ কৃষি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখায় নির্দিষ্ট মেয়াদী আমানত (এফডিআর) হিসেবে জমা রাখা হয়েছে, যাতে মর্জিনার শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে।

নিহতের ভাই আইয়ুব আলী বলেন, “আমার বোন জামাই আর আমি মিলে চেক গ্রহণ করেছি। সব অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট।”

Manual4 Ad Code

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন আলোচনা

এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্রম অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি—অস্থায়ী শ্রমিকসহ সকল কর্মীর জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবশ্যক।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্লাস্টিক ও পলি ফাইবার শিল্পে শ্রমিক দুর্ঘটনা বাড়লেও এখনও বেশিরভাগ কারখানায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সমাপনী

মর্জিনা বেগমের মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ সাময়িক স্বস্তি দিলেও, এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ