সাংবাদিকতার কারণে কেউ হামলা ও হুমকির শিকার হলে পাশে থাকবে ‘সাংবাদিক সাপোর্ট ডেস্ক’

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

সাংবাদিকতার কারণে কেউ হামলা ও হুমকির শিকার হলে পাশে থাকবে ‘সাংবাদিক সাপোর্ট ডেস্ক’

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ : সৎ, বস্তুনিষ্ঠ, জনস্বার্থমূলক ও নৈতিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে দেশে ক্রমেই হুমকি, হামলা, মামলা এবং অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। মাঠপর্যায়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে কিংবা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক সাংবাদিককে শারীরিক আক্রমণ, আইনি জটিলতা ও মানসিক চাপে পড়তে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে চালু হয়েছে ‘সাংবাদিক সাপোর্ট ডেস্ক’—একটি তাৎক্ষণিক সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানকারী বিশেষ উদ্যোগ।

Manual3 Ad Code

এই সাপোর্ট ডেস্কের মাধ্যমে হুমকি, হামলা, মিথ্যা মামলা বা অনলাইনসহ যেকোনো ধরনের হয়রানির শিকার সাংবাদিকরা দ্রুত সহায়তা পেতে পারবেন। এজন্য চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর—
০৯৬১৭৩৫৬৮৬৮।

তাৎক্ষণিক পরামর্শ ও রেফারেল সেবা

সাপোর্ট ডেস্কে যোগাযোগ করলে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক আইনি, পেশাগত ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ পাবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আইন সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক সংগঠন কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সেবার সঙ্গে রেফারেল করাও হবে।

উদ্যোক্তারা জানান, অনেক সময় সাংবাদিকরা জানেন না—কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বা কোথায় গেলে সহায়তা মিলবে। এই বিভ্রান্তি দূর করতেই সাপোর্ট ডেস্ক একটি ‘ওয়ান-স্টপ সাপোর্ট সেন্টার’ হিসেবে কাজ করবে।

নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সাপোর্ট

এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা। কর্মক্ষেত্রে ও অনলাইনে নারী সাংবাদিকরা প্রায়ই লিঙ্গভিত্তিক হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চরিত্রহননের শিকার হন। এসব সংবেদনশীল বিষয় বিবেচনায় রেখে নারী সাংবাদিকদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাপোর্ট ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, নারী সাংবাদিকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো গোপনীয়তার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনে নারী আইনজীবী বা কাউন্সেলরের সহায়তা দেওয়া হবে।

Manual8 Ad Code

দেশের যেকোনো স্থান থেকে যোগাযোগের সুযোগ

এই সাপোর্ট ডেস্কে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। দেশের যেকোনো জেলা বা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাংবাদিকরা হটলাইনে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কর্মরত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক

এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক, দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অভিজ্ঞ আইন সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। ফলে সাপোর্ট ডেস্কের মাধ্যমে প্রাপ্ত পরামর্শ ও সহায়তা বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনেস্কোর সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্যোগ

এই উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে ইউনেস্কোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ড (Global Media Defence Fund – GMDF)–এর সহযোগিতায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় বিশ্বব্যাপী কাজ করছে এই তহবিল।

উদ্যোক্তারা বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। ইউনেস্কোর এই সহযোগিতা সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্ত বার্তা—তারা একা নন।”

Manual2 Ad Code

সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক সাড়া

Manual4 Ad Code

সাংবাদিক সমাজে ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু সহায়তার একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং সাংবাদিকদের মধ্যে সাহস ও পেশাগত নিরাপত্তার অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হয়রানি নতুন কিছু নয়। তবে সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবেই। সজাগ ও সচেতন থাকলে সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকরা হারিয়ে যাবেনা। সাংবাদিকতার ডিকশনারি থেকে সততা ও পেশাদারিত্ব শব্দ দুটি কখনই বিলীন হবে না। যদিও সংগঠিত ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকাটা জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বটে। এই সাপোর্ট ডেস্ক সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।”

আশার আলো

হুমকি ও ভয়মুক্ত পরিবেশে সাংবাদিকতা করা প্রতিটি সাংবাদিকের অধিকার। ‘সাংবাদিক সাপোর্ট ডেস্ক’ সেই অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক সহযোগিতা পেলে এটি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাংবাদিক সমাজের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ