সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা

Manual7 Ad Code
বিএনপি সংবিধান মেনে চলছে এবং আগামীদিনেও চলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিদ্ধান্ত জানান।

হাতে ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।

Manual8 Ad Code

“এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Manual1 Ad Code

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সংবিধান মেনে চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে।

পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।

শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ আর বাম পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল।

Manual8 Ad Code

সামনের সারিতে বসেছিলেন বাম থেকে সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এরপরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাঝখানে তারেক রহমান, তার পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম, এরপরে মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সবার ডানে আন্দালিভ রহমান পার্থ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেন, “সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”

এরপর সবাই শপথপত্রে নিজেদের আসনের নাম লিখে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।

এর আগে সোমবার সংসদ সচিবালয় জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা প্রথমে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর।

Manual2 Ad Code

দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করাহয়, যা স্বাক্ষর হয় গেল ১৭ অক্টোবর। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।

এরপর গত ১৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়।

ওই আদেশে বলা হয়, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে এই আদেশ জারির পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হইবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।