প্রথিতযশা সাংবাদিক কমরেড শহীদুল ইসলামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

প্রথিতযশা সাংবাদিক কমরেড শহীদুল ইসলামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : প্রথিতযশা সাংবাদিক, সাবেক ছাত্রনেতা ও এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কমরেড শহীদুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ২টায় যশোর কুইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শহীদুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সন্তান। ১৯৫৩ সালের ১ জানুয়ারি তিনি উপজেলার ফয়লা গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শামছুল ইসলাম ঢাকা ও খুলনা ফরেন পোস্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করেন এবং মাতা মরহুমা ফাতেমা খাতুন ছিলেন গৃহিণী।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা জেএল জুবলী হাইস্কুলে অধ্যয়নকালে অবিভক্ত ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯-৭০ সালের গণঅভ্যুত্থানে কালীগঞ্জে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গমন করে “বিশ্ব বিবেক জাগরণ” পদযাত্রা দলের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

Manual8 Ad Code

স্বাধীনতার পর তিনি লেখাপড়া অব্যাহত রেখে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ১৯৮০ সালে বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরশাদের সামরিক শাসন জারির পর ১৪ দলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসেবে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual5 Ad Code

ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য হন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে ইনকিলাব গ্রুপের ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এ স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার পেশাদার সাংবাদিকতার সূচনা। পরে দ্য নিউ নেশন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, বাংলাদেশ টুডে, নিউজ টুডে, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ইংরেজি দৈনিকে সিনিয়র রিপোর্টার ও চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি দ্য নিউ নেশন-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্বে তিনি জার্মানি, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশ সফর করেন। ১৯৮৪ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়া ছাত্র সমিতির সম্মেলনেও অংশ নেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন নির্লোভ, সাদাসিধে ও নীতিবান। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। জীবদ্দশায় অসংখ্য অসহায় শিক্ষার্থী ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে গোপনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। নিজের জন্য তেমন কিছু সঞ্চয় না করে উপার্জনের বড় অংশ মানবকল্যাণে ব্যয় করেন। তিনি কালীগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। শহীদুল ইসলাম আজীবন অবিবাহিত ছিলেন।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান জাকির, সাধারণ সম্পাদক নয়ন খন্দকারসহ স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বলরামপুর মাঝের পাড়া জামে মসজিদে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Manual7 Ad Code

মৃত্যুকালে তিনি এক ভাই, তিন বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গ্রামের বাড়ি বলরামপুরে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কমরেড শহীদুল ইসলামের আদর্শ, সংগ্রামী জীবন ও মানবিকতা তাকে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ