অগ্নিঝরা স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথম দিন আজ

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২৬

অগ্নিঝরা স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথম দিন আজ

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০১ মার্চ ২০২৬ : অগ্নিঝরা স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথম দিন আজ।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূরণ হবে এ মাসেই। বাঙ্গালির জীবনে নানা কারণে মার্চ মাস অন্তনির্হিত শক্তির উৎস। এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। আবার এ মাসের ১৭ তারিখ টুঙ্গিপাড়ায় জন্মেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস মার্চ এবার এসেছে ভিন্ন বার্তা নিয়ে।

আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চুড়ান্ত সুপারিশ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পালনে এ সুপারিশ জাতিকে উচ্ছাসিত করেছে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এ প্রাপ্তি বিরাট অর্জন। রাষ্ট্রীয়, সরকারি ও বেসরকরি পর্যায়ে এ মাসে অনুষ্ঠিত হবে নানা অনুষ্ঠান।

এর আগে একাত্তরের এমাসেই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

১৯৭১ এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান-আজকের সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে দেয়া এই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুর্হুমুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারিত হতে থাকে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ঢাকাসহ গোটা দেশে পত পত করে উড়ছিল সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য যে আগুন জ্বলে উঠেছিল-সে আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সর্বত্র। এর পরে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৬২র শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬র ছয় দফা এবং ‘৬৯র গণঅভ্যুথানের সিঁড়ি বেয়ে একাত্তরের মার্চ বাঙ্গালীর জীবনে নিয়ে আসে নতুন বারতা। একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এর আগে ২৫ মার্চ রাত একটার অল্প পরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রেফতার করে তার বাড়ি থেকে।
২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙ্গালীর কন্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে ‘অপারশেন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে নামে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে সৈন্যরা। নির্বিচিারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক হত্যা করা হয়। এর পরের ঘটনা প্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘরে ঘরে র্দূগ গড়ে তোলা হয়। আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা।

অগ্নিঝরা মার্চ মাসকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

Manual8 Ad Code

অগ্নিঝরা মার্চ
— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

অগ্নিঝরা মার্চ এলো, রক্তলাল প্রভাতে,
স্বাধীনতার স্মৃতিধারা জাগে হৃদয়পাতে।
শত ত্যাগের অগ্নিশপথ জ্বলে বাতাসভরে,
বাংলার আকাশ আজও দীপ্ত সে অগ্নিঝরে।

পঞ্চান্ন বছর পেরোয় স্বাধীনতার পথে,
রক্তস্নাত সেই ইতিহাস দাঁড়ায় চোখের নটে।
বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠ বাজে দিগন্ত জুড়ে,
সাত কোটি প্রাণ জেগে ওঠে অগ্নিস্রোতের সুরে।

“দাবায়ে রাখতে পারবা না”—উচ্চারিত সে বাণী,
আজও বাজে অমর হয়ে স্বাধীনতার গানই।
“মুক্তির সংগ্রাম আজ, স্বাধীনতার লড়াই”—
শপথ হয়ে রক্তধারায় ছড়িয়ে পড়ে সদাই।

রেসকোর্সের জনসমুদ্র উত্তাল ঢেউ তোলে,
লক্ষ কণ্ঠে বজ্রধ্বনি আকাশ ভেঙে চলে।
সবুজ জমিন, লাল সূর্য পতপত করে ওড়ে,
স্বাধীনতার স্বপ্ন তখন আগুন হয়ে ঝরে।

ভাষার মাসের অগ্নিশিখা একুশের সে দিন,
মায়ের ভাষায় প্রাণ বিলানো অমর অগ্নিবীণ।
বায়ান্নর সেই রক্তবীজ অঙ্কুরিত হয় পরে,
বাষট্টির ডাক, ছয় দফা জ্বলে অন্তরে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ঝড় তোলে পথে,
শৃঙ্খলভাঙার অঙ্গীকার জাগে জনতার রথে।
একাত্তরের মার্চ আসে জ্বালাময়ী ডাকে,
স্বাধীনতার রণতূর্য বাজে প্রাণের ফাঁকে।

কালরাতে নামে নৃশংসতা, অন্ধকারের ছায়া,
অপারেশন সার্চলাইটে জ্বলে হত্যার মায়া।
ঢাকার পথে ট্যাংকের গর্জন, আগুন ঝরে ঘরে,
বিশ্ববিদ্যালয় রক্তস্নাত নৃশংস অত্যাচারে।

নির্বিচারে ঝরে প্রাণ, ছাত্র-শিক্ষক সাথে,
মানবতার বুক বিদীর্ণ রাতের কালো হাতে।
তবু নিভে না মুক্তির আগুন, জ্বলে ঘরে ঘরে,
বঙ্গবন্ধুর আহ্বান বাজে দৃপ্ত অঙ্গীকারে।

প্রথম প্রহর ছুঁয়ে আসে স্বাধীনতার ডাক,
কারাগারে নেন তাঁকে তারা, শৃঙ্খল করে পাক।
তবু তাঁর সেই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে দেশ,
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন রক্তিম অবশেষ।

নয় মাসের রক্তস্রোতে ভাসে জনপদ,
মা হারানো সন্তানেরা গড়ে প্রতিরোধ।
আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই হাতে হাত,
মুক্তিযুদ্ধের মহাকাব্য লেখে দিনরাত।

গ্রাম থেকে নগরপ্রান্তে প্রতিরোধের ঢেউ,
মাটির মানুষ দাঁড়ায় উঠে মৃত্যুকে না ঢেউ।
গেরিলা রণ, সীমান্তপথ, শরণার্থীর কান্না,
স্বাধীনতার প্রত্যয়ে সব সহে বাংলা।

অবশেষে সেই ডিসেম্বর, বিজয়েরই ভোর,
লালসবুজের পতাকাতে উদিত নতুন ঘোর।
নয় মাসের অগ্নিপথে রক্তের যে দাম,
স্বাধীন দেশের সূর্যোদয়ে পেল তারই নাম।

আজও মার্চে জেগে ওঠে অগ্নিঝরা স্মৃতি,
শপথ নিয়ে এগোয় জাতি উন্নতির গীতি।
স্বল্পোন্নত সীমা পেরিয়ে উন্নয়নের ডাকে,
বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়ায় নিজের শাকে।

Manual3 Ad Code

জাতিসংঘের সুপারিশে নতুন দীপ্তি জাগে,
পঞ্চান্নর এই অর্জনে গৌরব বুকের মাঝে।
স্বাধীনতার অর্থ শুধু শৃঙ্খলভাঙা নয়,
মানবমর্যাদা, উন্নয়ন, সমতারই জয়।

রাষ্ট্র জুড়ে আয়োজন আজ শ্রদ্ধা ও গানে,
স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য দেয় অশ্রুসিক্ত প্রাণে।
নতুন প্রজন্ম শোনে আবার সেই বজ্রধ্বনি,
স্বাধীনতার মর্মবাণী—অমর অগ্নিবাণী।

টুঙ্গিপাড়ার পুণ্যভূমি জাগে সতেরোতে,
যার জন্মে আলোকিত পথ স্বাধীনতার রথে।
বঙ্গবন্ধু নামটি যেন সূর্য দীপ্তিমান,
বাংলার প্রতিটি শিরায় তাঁরই স্পন্দন।

মার্চ মানে শপথ নেবার দুর্বার আহ্বান,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজও জাগুক অবিরাম।
দুর্নীতি আর হানাহানি মুছে যাক প্রাণে,
স্বাধীনতার চেতনা ফুটুক প্রতিটি টানে।

যে রক্তে রাঙা হয়েছিল এ মাটিরই ধূলি,
সে রক্তেরই অঙ্গীকার রাখবো ভুলিনি কভু ভুলে।
গণতন্ত্রের দীপ জ্বেলে এগিয়ে যাক দেশ,
সাম্যের আলো ছড়িয়ে পড়ুক সর্বশেষ।

অগ্নিঝরা মার্চ আজও জাগায় অন্তর,
স্বাধীনতার অমরগান বাজে অবিরত স্বর।
পঞ্চান্ন বছরের পথচলা শপথ হয়ে রয়—
বাংলাদেশ চিরজাগরুক, স্বাধীনতার জয়।

Manual3 Ad Code

জয় বাংলা। জয় স্বাধীনতা।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ