শাহরিয়ার কবিরের মুক্তি দাবি আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬

শাহরিয়ার কবিরের মুক্তি দাবি আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১২ মার্চ ২০২৬ : আন্তর্জাতিক ও ইউরোপভিত্তিক বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন সমূহ ৭৫ বছর বয়সী সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

বেলজিয়াম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকার সময় শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর জীবন এখন স্পষ্টতই ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এ যৌথ বিবৃতিটি দিয়েছে বেলজিয়ামভিত্তিক সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্সসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।

এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, ক্লাউস স্ট্রেমপেল, তারিক গুনেরসেল এবং অধ্যাপক এবিএম নাসির।

বিবৃতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শাহরিয়ার কবিরের জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড রক্ষার স্বার্থেও তাঁর মুক্তি এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সংকটাপন্ন

বিবৃতিতে বলা হয়, শাহরিয়ার কবির দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন এবং তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটেছে।

তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বর্তমানে তিনি ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও উপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের পরও তাঁর চিকিৎসা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেছিল, শাহরিয়ার কবিরকে আটক রাখা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুতর লঙ্ঘন।

এর আগে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন তাদের অপিনিয়ন নং–৪০/২০২৫-এ শাহরিয়ার কবিরের আটককে ‘স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও শাস্তিমূলক’ বলে আখ্যা দেয়। সেই সঙ্গে তাঁর অবিলম্বে মুক্তি, ক্ষতিপূরণ এবং একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি।

Manual4 Ad Code

কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাতেও উদ্বেগ

যৌথ বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সাবেক মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন কারাগারে থাকাকালে মৃত্যুবরণ করেন এবং একই সময়ে একশোর বেশি বন্দীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Manual6 Ad Code

এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, “শাহরিয়ার কবিরের জীবন এখন স্পষ্ট ও আসন্ন বিপদের মধ্যে রয়েছে।”

Manual7 Ad Code

তিনটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর জোট বাংলাদেশের সরকারের কাছে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে—

১. শাহরিয়ার কবিরসহ সব প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
২. সকল বন্দীর জন্য জরুরি ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
৩. দেশের সব কারাগারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, “শাহরিয়ার কবিরের জীবন কেবল ন্যায়ের প্রশ্ন নয়—এটি আমাদের সম্মিলিত মানবতারও একটি পরীক্ষা।”

সংগঠনগুলো আরও বলেছে, তাঁর সুরক্ষা ও মুক্তি নিশ্চিত করা গেলে তা ১৯৭১ সালের চেতনা এবং আইনের শাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে পুনরায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ