বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৬ : ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার পর, ২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাটস্থ ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান সেই ঘোষণার প্রতিধ্বনি করেন। তার ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অংশটি ছিল— “আমাদের মহান জাতীয় নেতা, বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”

ঐতিহাসিক এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

নেতৃত্বের স্বীকৃতি:
ভাষণের শুরুতেই মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘মহান জাতীয় নেতা’ এবং ‘সর্বাধিনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে তার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেন।

স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা:
বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দেন।

বৈধতার দাবি:
তিনি উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের একমাত্র নির্বাচিত ও বৈধ প্রতিনিধি।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান:
বাংলাদেশে চলমান গণহত্যা বন্ধে বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

Manual7 Ad Code

রাষ্ট্রীয় মূলনীতি:
নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ‘নিরপেক্ষতা’, ‘শান্তি’ এবং ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’—এই তিনটি মূলনীতির কথা উল্লেখ করেন।

Manual3 Ad Code

১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন দিশেহারা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে আশার আলো। ২৭শে মার্চ সন্ধ্যায় মেজর জিয়াউর রহমান যখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান, তখন তার কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ বাঙালির মনে সাহস ও যুদ্ধের উদ্দীপনা জুগিয়েছিল।

Manual5 Ad Code

মেজর জিয়া তার ভাষণে অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, এই স্বাধীনতার সংগ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি নির্বাচিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে। তার সেই ঘোষণা— “On behalf of our great national leader, the supreme commander of Bangladesh, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, I do hereby proclaim the independence of Bangladesh”—তৎকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এই ভাষণের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারে যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনতা তাদের অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এটি ছিল দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী নৈতিক বিজয়।

ভাষণের শেষাংশে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, কোনো অপপ্রচার বা জুলুম দিয়ে বাঙালির এই স্বাধীনতা স্পৃহা দাবিয়ে রাখা যাবে না। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি তার ভাষণের সমাপ্তি টানেন, যা আজও বাঙালির দেশপ্রেমের অন্যতম প্রতীক হয়ে আছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, বঙ্গবন্ধুর মূল ঘোষণার পর জিয়াউর রহমানের এই বেতার ভাষণটি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

I, Major Zia, on behalf of our great national leader, the supreme commander of Bangladesh, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, do hereby proclaim the independence of Bangladesh.

It is further proclaimed that Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman is the sole leader of the elected representatives of 75 million people of Bangladesh.

I therefore appeal on behalf of our great leader, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, to the government of all the democratic countries of the world, especially the big world powers and the neighboring countries, and to take effective steps to stop immediately the awful genocide that is being carried on by the army of occupation from Pakistan.

To dub us, the legally elected representatives of the majority of the people, as secessionists is a cruel joke and contradiction in terms which should befool none.

The guiding principles of our new state will be: first, neutrality; second, peace; and third, friendship to all and enmity to none.

Manual4 Ad Code

May Allah help us. Joy Bangla.”

#

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ