সিনিয়র শিক্ষক বিভাষ রঞ্জন দাসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

সিনিয়র শিক্ষক বিভাষ রঞ্জন দাসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৫ এপ্রিল ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মনাইউল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও সজ্জন ব্যক্তি বিভাষ রঞ্জন দাসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

গত বছরের এই দিনে (১৫ এপ্রিল ২০২৫) সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি শ্রীমঙ্গল শহরের সবুজবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রয়াত এই শিক্ষক মৃত্যুকালে এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন এক আদর্শবান শিক্ষক, যিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিতরণে ছিলেন নিরলস। শিক্ষকতা পেশাকে তিনি শুধু চাকরি হিসেবে নয়, বরং একটি দায়িত্ব ও সাধনা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে স্মরণ করছেন।

গুণমুগ্ধরা তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সহকর্মী ও বন্ধুদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তার মানবিক গুণাবলি। তার বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী শিক্ষক মলয় দাস (সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়) এবং শিক্ষক মধুসূদন ভট্টাচার্য (আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়) এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বিভাষ ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে ও মাটির মানুষ। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। তার মতো একজন মানুষকে হারানো আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এখনো তার চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারিনি।”

তারা আরও বলেন, “জীবন-মৃত্যু অবধারিত হলেও এমন মানুষদের অভাব কখনো পূরণ হয় না। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। অনেকেই জানান, বিভাষ স্যার শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দিতেন না, বরং জীবনের মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা দিতেন।

এদিকে, বিভাষ রঞ্জন দাসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক বার্তায় তিনি বলেন, “বিভাষ রঞ্জন দাস ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। তার মতো মানুষ সমাজে বিরল। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

Manual4 Ad Code

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, বিভাষ রঞ্জন দাসের মতো শিক্ষকরা সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। তার কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বিভাষ রঞ্জন দাস অসংখ্য শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছেন, যারা আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত। তার সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা তাকে সবার কাছে স্মরণীয় করে রেখেছে।

আলো রেখে যাওয়া মানুষ
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

নিস্তব্ধ ভোরের আকাশ জুড়ে আজও সেই নাম ভাসে,
শ্রীমঙ্গলের মাটির বুকে স্মৃতির দীপ জ্বলে আসে।
একটি বছর পেরিয়ে গেল, তবু যেন কালকেরই দিন,
নীরব ঘরে ভেসে আসে তার স্নিগ্ধ কণ্ঠস্বর রিনরিন।

মনাইউল্লাহ বিদ্যালয়ের আঙিনাজুড়ে আজও স্মরণ,
যেখানে তিনি ছড়াতেন জ্ঞানের দীপ্ত আলোকলোক।
চোখে ছিল স্বপ্ন ভরা, মুখে মধুর বাণী ঝরে,
শিক্ষার্থীর হৃদয় জুড়ে থাকতেন তিনি অন্তরে।

সকাল বেলার নরম রোদে যেতেন স্কুলপথে ধীরে,
জীবনভরা দায়বদ্ধতা ছিল তারই কর্মনীরে।
ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে যেন আলোকিত এক প্রদীপ,
অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া মনকে করতেন তিনি দীপ।

শুধু শিক্ষক নন তিনি ছিলেন সবার আপনজন,
সহজ হাসি, কোমল কথা—ছিল না কোনো বিভাজন।
দুঃখ পেলে পাশে এসে রাখতেন সান্ত্বনার হাত,
একজন মানুষ কীভাবে হন, শিখিয়েছেন দিনরাত।

সবুজবাগের সেই ঘরে আজও নীরবতার ঢেউ,
দেয়ালজুড়ে স্মৃতির ছবি—কাঁদে নীরব প্রতিক্ষেউ।
যে ঘরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন ভোরের ক্ষণে,
সেই ঘরে আজও যেন তার পদধ্বনি বাজে গোপনে।

একটি মেয়ে, একটি ছেলে—চোখে তাদের অশ্রু ঝরে,
পিতার স্মৃতি বুকের মাঝে বহে তারা নীরব ঘোরে।
স্বজন-বন্ধু সকলেই আজ শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন,
তবুও তার শিক্ষা বুকে রেখে হয়েছে আরও দৃঢ়।

Manual4 Ad Code

সহকর্মী আর বন্ধু যারা পথ চলেছে পাশাপাশি,
তাদের চোখে আজও ভাসে সেই মানুষটির মধুর হাসি।
মলয় দাসের কণ্ঠে শোনা স্মৃতির কথা ব্যথাভরা,
মধুসূদনের কথায় যেন অশ্রু ঝরে অবিরত ধরা।

“মাটির মানুষ”—এই কথাটি আজও ঘুরে ফিরে আসে,
যে মানুষটি সবার মাঝে ভালোবাসা বিলিয়ে হাসে।
সহজ জীবন, সত্য বচন—ছিল তারই পথের দিশা,
মানবতার পাঠ তিনি দিয়েছেন নিঃস্বার্থ নিশা।

ছাত্রদের চোখে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্রখানি,
জ্ঞানার্জনের পথে ছিলেন পথপ্রদর্শক অম্লান ধ্বনি।
কঠোরতায় নয়, স্নেহ দিয়ে গড়েছেন তাদের মন,
মানুষ হবার পাঠ শিখিয়েছেন সারাজীবন।

স্কুলের প্রতিটি ইটে, প্রতিটি বৃক্ষের ছায়ায়,
তার স্মৃতি আজও বেঁচে থাকে নীরব মায়ার ছোঁয়ায়।
খেলার মাঠে, পাঠের ঘরে, দুপুরবেলার হাওয়া,
সবখানেই যেন তার ছোঁয়া—নেই তবুও কোথাও পাওয়া।

Manual2 Ad Code

একটি বছর কেটে গেল সময়ের স্রোতের টানে,
তবুও তার অনুপস্থিতি আজও ব্যথা দেয় প্রাণে।
মৃত্যু শুধু দেহের শেষ, নয় তো চেতনার ক্ষয়,
মানুষ বেঁচে থাকে ততদিন যতদিন স্মৃতি রয়।

তাই আজ এই স্মরণ দিনে মাথা নত করে বলি,
আপনার পথ দেখানো আলো জ্বলে অন্তরে অবলি।
আপনি নেই, তবু আছেন আমাদের কর্মে চিন্তায়,
প্রতিটি ভালো কাজে আপনি বেঁচে থাকেন নিত্যই।

শিক্ষার দীপ জ্বালিয়ে যিনি গেছেন দূর আকাশে,
তারই আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আসে।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি আপনাকে এই দিনে,
আপনার মত মানুষ হোক এই সমাজের প্রতিটি চিনে।

শান্তির ঘুমে থাকুন আপনি, থাকুন আলো হয়ে,
আপনার পথচলা হোক অনন্তের স্রোতে বয়ে।
আমরা যারা রয়ে গেছি এই পৃথিবীর মায়াজালে,
আপনার শিক্ষা আঁকড়ে ধরে এগোবো জীবনকালে।

আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা,
আপনার স্মৃতি অম্লান হোক—এই আমাদের প্রার্থনা।
শিক্ষক আপনি ছিলেন শুধু নন—ছিলেন আলোর দিশা,
আপনার মত মানুষ পেলে ধন্য হয় এই দুনিয়া।

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ