সিলেট ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মে ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ মে ২০২৬ : বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস কাল। প্রতি বছর এই দিনে (৩ মে) সারাবিশ্বে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন : মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’।
গত বছরের (২০২৫) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য– ‘সাহসী নতুন বিশ্বে সাংবাদিকতা-সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব।’
২০২৪ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকতা’। ২০২৩ সালে এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সকল প্রকার মানবাধিকারের চালিকাশক্তি’।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেশের সাংবাদিকরা পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় (৩ মে) তারিখটিকে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ অথবা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবনদানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এই দিবসটিতে।
গণমাধ্যম হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে পুরাতন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রবাহের মাধ্যম হচ্ছে সংবাদপত্র। পরবর্তীতে এর সঙ্গে রেডিও, টেলিভিশন জনপ্রিয় গণমাধ্যম হিসেবে যুক্ত হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাঠকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
সাধারণত মুক্ত গণমাধ্যম বলতে বোঝায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা কোনো প্রকার হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হবে না। ভয়ভীতি ছাড়া তারা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি তাদের তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার থাকবে।
১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ঘোষণাপত্রের ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘প্রত্যেকেরই মতামত পোষণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে; কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া অবাধে মতামত পোষণ করা এবং রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে যেকোনো মাধ্যমের মারফতে তথ্য ও ধারণাগুলো জানা বা অনুসন্ধান, গ্রহণ ও বিতরণ করা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।’
বাংলাদেশের সংবিধানেও চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক্-স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা’ শিরোনামে সংবিধানের ৩৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল। (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হইল।
সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকে একটা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাই একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম যাতে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে সেজন্য সাংবাদিকরা যেন বিনা বাধায় এবং নিরাপদ পরিবেশে যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আর সাংবাদিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা ছাড়া মুক্ত গণমাধ্যম সুদূর পরাহত।
শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সাংবাদিকরা কমবেশি ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রভাবশালী মহলের চাপ, হামলা-মামলা, রাজনৈতিক হুমকির কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে অনেক ক্ষেত্রেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়। মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে কম যান না। সুযোগ পেলেই তারা সাংবাদিকদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন এমনকি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অপব্যবহারও হয়ে থাকে। অথচ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই।
কেননা, গণমাধ্যম ব্যক্তির মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে। তথ্য প্রদানের মাধ্যমে জনমত গঠনেও গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া মুক্ত গণমাধ্যম মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্যও অত্যাবশ্যক। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজের বিকাশ ও উন্নয়নের শক্তিশালী ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। সংবাদপত্র কেবলমাত্র সংবাদ পরিবেশন করে না। সমাজের সার্বিক বিকাশ সাধনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সংবাদপত্র গণতন্ত্রের সদা জাগ্রত প্রহরী। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে, গণতন্ত্র ব্যাহত হলে, কোথাও দুর্নীতি হলে গণমাধ্যম সবার আগে সোচ্চার হয়ে ওঠে। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের মতো নানা সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে চেতনার জাগরণ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সমাজকে ইতিবাচক উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতারও একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বাধীনতার অর্থ এই নয়, যা ইচ্ছে তা করা বা লেখা। সাংবাদিকরা দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নন। দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি, আইনের প্রতি, স্বীয় বিবেকের প্রতি, নীতি-নৈতিকতার প্রতি অবশ্যই তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠ লেখনী ও সঠিক এবং পরিপূর্ণ তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে তারা এই দায়বদ্ধতা মেনে চলবেন।
গণমাধ্যমের প্রধান সম্পদ হচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা, যা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। তবে নানা কারণে আমাদের দেশের গণমাধ্যম তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে বসেছে। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদার প্রশ্নে এটি মোটেও সুখকর নয়। কাজেই হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা কিংবা দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা যেন কোনোভাবেই তাদের স্পর্শ না করে সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
আবার এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই- অনেকেই নিজেদের স্বার্থে গণমাধ্যমকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এটাকে প্রোপাগান্ডা যন্ত্রে পরিণত করছেন। কিছু কিছু গণমাধ্যম একপেশে কিংবা পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশন করে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের একটি প্রতিবেদন তৈরি করার সময় সর্বদা মনে রাখতে হবে- ‘A half-truth is even more dangerous than a lie (অর্ধসত্য মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর)। সুতরাং ‘সত্য কথা লিখতে শিখো ফুঁ দিয়ে ফুলিয়ে নয়, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে’- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অমর বাণী তাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে।
বর্তমান জমানায় নিয়ন্ত্রণহীন ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই গুজব বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে ওই সব গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার রোধে মুক্ত গণমাধ্যম অত্যাবশ্যক।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এটি মেধা ও মননের পেশা, অধ্যয়ন ও অধ্যবসায়ের পেশা; কিন্তু এ পেশায় নিয়োজিত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সব মহলেরই রয়েছে উদাসীনতা।
অন্যদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য সাংবাদিক হত্যার শিকার হচ্ছেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর তথ্যমতে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ৯৯ জন সাংবাদিক মারা গেছেন। এর মধ্যে ৭৭ জনই গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে জীবন হারান।
এদিকে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও ভয়হীন স্বাধীন সাংবাদিকতা কমেছে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো- রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম যাতে বিনা বাধায় তার ওপর অর্পিত ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে: আসক
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনও সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মানবাধিকার সংগঠনটির মতে, মুক্ত, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা জানিয়েছে।
শনিবার (২ মে) দেওয়া বিবৃতিতে আসক জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল একটি স্বতন্ত্র অধিকার নয়, এটি অন্যান্য অধিকারের সুরক্ষার অন্যতম ভিত্তি। আর স্বাধীন গণমাধ্যম নাগরিকের কণ্ঠকে শক্তিশালী করে, ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচিত করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে, যা রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ নিশ্চিতের দায়িত্ব দেয় যেখানে সাংবাদিক ও নাগরিকেরা ভয় বা হয়রানির শঙ্কা ছাড়াই মত প্রকাশ করতে পারেন। একইসঙ্গে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৯ অনুচ্ছেদে তথ্য অনুসন্ধান, গ্রহণ ও প্রচারের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনও বহুমাত্রিক সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতারের আশঙ্কা, ডিজিটাল মাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে হয়রানি, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় চাপ, মালিকানাগত প্রভাব, আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক সেন্সরশিপ এবং মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহে বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও নজরদারির অভিযোগও উঠে আসে।
সংগঠনটি আরও বলে, তথ্য অধিকার আইন কার্যকর প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা, সরকারি তথ্যপ্রাপ্তিতে অনীহা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতাকে দুর্বল করছে। ফলে গণমাধ্যম তথ্য প্রাপ্তিতে বাধাগ্রস্ত হলে জনগণও সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
অসত্য তথ্য, অপতথ্য, হিংসা ও ঘৃণাত্মক প্রচারণার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাধীন মতপ্রকাশ সীমিত না করে তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, গণমাধ্যমের পেশাগত মানোন্নয়ন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক নীতিমালা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয় আসক। সংগঠনটির প্রত্যাশা, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি আইন, নীতি বা অপব্যবহার পর্যালোচনা ও সংস্কার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলা, সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া তথ্য অধিকার আইন কার্যকর বাস্তবায়ন ও সরকারি তথ্য প্রাপ্তি সহজতর করা, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও নৈতিক সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা, নারী সাংবাদিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে আগত গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নিরাপদ এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের কথা জানিয়েছে আসক।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে
৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। এতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশ এখন ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ পরিস্থিতিতে রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিশ্বে মাত্র ১০০ জনে একজন নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যম থেকে তথ্য পাচ্ছে।
সূচকে এবার বাংলাদেশের তিন ধাপ অবনতি হয়েছে। বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, গত বছর ছিল ১৪৯তম। বাংলাদেশের ঠিক পরেই রয়েছে পাকিস্তান, আর ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। পাঁচ ধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ১৩৪তম এবং তিন ধাপ এগিয়ে নেপালের অবস্থান ৮৭তম। যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে, বর্তমানে তাদের অবস্থান ৬৪তম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ, তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং আইনি বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার, মামলা এবং অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ে বাধা— এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ তেসরা মে আবার এল, জাগো প্রভাত-বেলা,
বিশ্বময় আজ উচ্চারিত স্বাধীনতার মেলা।
সংবাদপত্র, কণ্ঠস্বর আর জনতার অধিকার,
সত্য বলিবার দীপশিখাটি হোক অমলিন আবার।
যে দিন হতে মানুষ শিখেছে কথা বলার রীতি,
যে দিন হতে জেনেছে লেখা সভ্যতার সংগীতি,
সে দিন হতে সংবাদ যেন নদীর মতন বয়,
মানুষ মানুষকে জানায় কথা, অন্ধকারকে ক্ষয়।
পত্রের পাতায় ছাপা অক্ষর, কালি-লাগা গান,
তারই ভেতরে লুকিয়ে থাকে জনসমুদ্র প্রাণ।
কোথায় ক্ষুধা, কোথায় বন্যা, কোথায় অন্যায়-ধ্বনি,
কোথায় নীরব কারাগারে কাঁদে বন্দিনী জননী—
সবই আগে লিখে দেয় যে জেগে-থাকা সেই চোখ,
সাংবাদিকের শিরায় বয়ে দায়িত্বেরই শ্লোক।
রাতের শেষে ভোরের আগে যে বেরোয় পথে একা,
তারই হাতে সত্যের প্রদীপ, মিথ্যার গায়ে রেখা।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রজীবনের চতুর্থ স্তম্ভ খ্যাত,
তারই শক্তি জনতার শক্তি, তাতে জাগে প্রভাত।
আইনসভা আর প্রশাসন, বিচারবিভাগ পাশে,
কলম যদি নীরব থাকে— সবই ভেঙে আসে।
স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খল উল্লাস কেবল নয়,
স্বাধীনতা মানে দায়বোধ, শুদ্ধ বিবেকময়।
যা খুশি তাই লেখা নয় তো মুক্তির প্রকৃত রূপ,
সত্য যাচাই, নীতি রক্ষা— এ-ই তার মহারূপ।
অর্ধসত্যের বিষদাঁত কত গভীর ক্ষত করে,
মিথ্যার চেয়ে ভয়ংকর সে আগুন ধরে ঘরে।
তাই তো লেখো আগুন দিয়ে সত্যের নির্মল বাণী,
ফুঁ দিয়ে ফুলিও না কিছু, নইলে মরে প্রাণী।
আজকের দিনে স্মরণ করি কত শহীদের নাম,
রক্ত মেখে যারা লিখেছে মুক্ত আকাশের গাম।
যুদ্ধক্ষেত্র, সীমান্ত, মরু, ধ্বংসস্তূপের ধূলি,
ক্যামেরা হাতে প্রাণ দিয়েছে সংবাদ-যোদ্ধা ভুলি?
গাজা-আকাশ আগুন হলে, ধ্বসে গেলে দেয়াল,
মানুষখেকো বোমার তলে থামেনি খবরজাল।
যে রিপোর্টার ছিন্ন কণ্ঠে বলেছিল শেষ বাক্য—
“মানুষ বাঁচাও”— সে তো রইল ইতিহাসের সাক্ষ্য।
যেখানে থাকে একনায়কের অন্ধ কঠোর শাসন,
সেখানে আগে বন্দী হয় যে— সংবাদমাধ্যম রশন।
কারণ সত্য সহ্য করে না অন্যায়ের আসন,
কলম মানে প্রশ্ন তোলা, নড়ে সিংহাসন।
যেখানে থাকে দুর্নীতিকরা সোনার মুখোশ পরে,
সেখানে গিয়ে ক্যামেরাখানা সত্য তুলে ধরে।
ঘুষের টেবিল, কালো চুক্তি, গোপন রাতের ভাগ,
সংবাদ যদি মুখ না খোলে, কে করবে তার লাগ?
গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি যে জনমতের ঢেউ,
তথ্যহীন সে জনসমাজে আলো খুঁজে কে?
মানুষ যদি জানতে না পারে কী ঘটিছে দেশে,
ভোটের কাগজ শূন্য হয়, অধিকার যায় শেষে।
বাংলার মাটি, নদী, জনপদ, গ্রাম থেকে নগরে,
অগণিত জন-অভিমান আজ ঘুরে ঘুরে মরে।
কৃষকের ধান, শ্রমিক-মজুর, জেলের নোনা ঘাম,
তাদের কথা প্রথম লেখো, তবেই জাগে নাম।
শহরজুড়ে টাওয়ার ওঠে, সেতু ওঠে রঙিন,
কিন্তু পেছনে কে হারালো ভিটে? জিজ্ঞাসা করো দিন।
উন্নয়নের অট্টালিকায় যদি কান্না বাঁধে,
সংবাদ তখন সত্য লিখে দাঁড়াক বুকের মাঝে।
শিশুর শিক্ষা, নারীর নিরাপদ কর্মজীবন অধিকার,
প্রান্তিক জনের কণ্ঠস্বরও সংবাদে পাক দ্বার।
আদিবাসী, জেলে, চাষা, পথশিশুরও বেদনা,
জাতির আয়না সম্পূর্ণ হয় সবার দেখা-শোনা।
আজকের যুগে অনলাইন-ঢেউ, দ্রুততারই নেশা,
মুহূর্তেতে লাখো মানুষের কাছে যায় যে ভাষা।
তবু দ্রুততা যদি কাড়ে সত্য যাচাই-ধর্ম,
তবে সে খবর বিষবাষ্প হয়ে পুড়িয়ে দেয় মর্ম।
ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সের ভিড়ে গুজব ছুটে যায়,
মিথ্যা ছবি, কাটা কথা আগুন জ্বালায় হায়।
সেই সময়ে দায়িত্বশীল মুক্ত সংবাদমঞ্চ,
মানুষকে দেয় যাচাই করা নির্ভরতার পঞ্চ।
অ্যালগরিদমের কারখানাতে সত্য যদি হারায়,
কৃত্রিম বুদ্ধি তথ্য বুনে বিভ্রম যদি ছড়ায়,
তবু মানবের সৎ বিবেকই শেষ রক্ষাকবচ,
সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা-চোখ তীক্ষ্ণতম সবচ।
আইন যদি হয় ভয়ের লাঠি, বাক্য যদি বন্দী,
তবে সে দেশে ন্যায়ের শস্য শুকিয়ে যায় ধন্দী।
রাষ্ট্রের কাজ নিরাপদ করা প্রশ্নকারীর পথ,
ভয়মুক্তি না দিলে কভু মুছবে না এই রথ।
মামলা, হামলা, নজরদারি, গোপন চাপের দংশন,
এসব দিয়ে রোখা যায় না ইতিহাসের স্পন্দন।
একটি লেখা থামাও যদি, শতটি লেখা জাগে,
একটি কণ্ঠ রুদ্ধ করলে লক্ষ কণ্ঠ লাগে।
যে সম্পাদক রাত জেগে সব খবর মিলায় ধীরে,
যে উপসম্পাদক বানান শোধে থাকে নীরব নীড়ে,
যে প্রুফরিডার ক্ষুদ্র ভুলে বড়ো মান রক্ষা করে,
তাদের ঘামও সংবাদমন্দির আলোকমালা ধরে।
যে ফটোসাংবাদিক ঝড়ের দিনে সেতুর ধারে যায়,
যে ভিডিওগ্রাফার ভাঙা পথে বিপদ মাথায় পায়,
যে জেলা-প্রতিনিধি চেনে কাদা-ভেজা গ্রাম,
তারই চোখে জাতির মানচিত্র পায় অবিরাম।
সাংবাদিকতা মহান পেশা— শুধু চাকরি নয়,
এ পেশাতে মেধা লাগে, মনন লাগে সয়।
অধ্যয়ন আর অধ্যবসায়, ইতিহাসের জ্ঞান,
মানুষ-পড়া, সময়-পড়া, ভাষার শুদ্ধ টান।
তবু কেন আজ অনেক ঘরে দুঃখে কাটে দিন?
যে খবর আনে, তারই ঘরে অভাব কেন লীন?
যথোচিত মজুরি, সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা দাও,
যে কলম জাতিকে বাঁচায়, তারও জীবন চাও।
নারী সাংবাদিক পথে নামে রাতের শেষ প্রহরে,
তবু কত ভয়, কত বাঁধা, কত কটু কথার ঝড়ে।
সমঅধিকার, নিরাপদ স্থান, সম্মানিত পরিবেশ—
তবেই হবে পূর্ণ গণমাধ্যম, আলোকিত দেশ।
প্রান্তিক ভাষার কণ্ঠস্বরও মূলধারাতে আনো,
শহর-কেন্দ্রিক চশমাখানি একটু খুলে জানো।
দেশ মানে শুধু রাজধানীর দালান-ভরা মানচিত্র নয়,
চরের মানুষ, পাহাড়ি পথও দেশের অন্তর হয়।
মতভেদ থাক, তর্ক থাক, ভিন্ন কণ্ঠের ঢেউ,
নানা রঙের মতামতেই গণতন্ত্র বেঁচে রে।
একপেশে আর পক্ষপাতী প্রচার যদি বাড়ে,
বিশ্বাস হারায় পাঠক তখন নিঃশব্দ অভিসারে।
বিশ্বাসযোগ্যতাই তবে সংবাদমাধ্যম ধন,
একদিনে তা গড়ে না কভু, ভাঙে ক্ষণে ক্ষণ।
সততা দিয়ে ইট গাঁথিতে হয় দীর্ঘ সময়,
মিথ্যা একটিই যথেষ্ট সব ভেঙে ফেলতে ভয়।
সংবাদপত্র সমাজ-দর্পণ— বহুবার শুনি কথা,
দর্পণ যদি ধুলায় ঢাকে, মলিন হয় ব্যথা।
তাই তো দর্পণ মুছতে হবে নির্ভীক হাতে আজ,
তবেই স্পষ্ট দেখবে মানুষ সময়ের সব সাজ।
বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে স্পষ্ট,
চিন্তা-বিবেক-বাক্-স্বাধীনতা মানুষেরই কষ্ট।
সেই অঙ্গীকার কাগজেতে নয়, জীবনে চাই ফল,
আইনের শাসন, মুক্ত পরিবেশ, নির্ভয় পথ চল।
মানবাধিকারের ঘোষণাতে উচ্চারিত সেই বাণী—
সীমা পেরিয়ে জানার অধিকার সকল মানুষের ধ্বনি।
তথ্য পাওয়া, বলা, শোনা— মৌলিক সে মান,
এ অধিকার রক্ষার তরে জাগুক বিশ্বজ্ঞান।
আজ বিশ্বময় সূচক বলে বহু দেশে ক্ষয়,
স্বাধীনতার সূর্যরশ্মি মেঘে ঢাকা হয়।
তবু আশা মরে না কখন, যত রাতই ঘন,
একটি সত্য লেখা হলে ফোটে সহস্র বন।
যে তরুণী আজ সাংবাদিক হবার স্বপ্ন দেখে,
যে তরুণ আজ ক্যামেরাখানা কাঁধে পথে থাকে,
তাদের বলি— ভয় পেয়ো না, সত্য রাখো সাথী,
জনতারই আস্থা হবে তোমার শক্তি-মাথি।
লেখো নদীভাঙন, লেখো শ্রমিক, লেখো শিশু-হাসি,
লেখো কারখানার কালো ধোঁয়া, লেখো শস্য-ভাঁসি।
লেখো যদি ভুল, সংশোধনও লিখে দাও নির্ভীক,
স্বীকারোক্তি দুর্বলতা নয়— সততারই দীক্ষা।
মুক্ত গণমাধ্যম মানে শুধু শিরোনামের জোর নয়,
মানুষের পাশে দাঁড়াবার এক অবিরাম বোধ হয়।
ক্ষুধার পাশে, শোকের পাশে, ন্যায়ের পথে দাঁড়াও,
ক্ষমতারও প্রশ্ন করো, সত্য ছাড়া নাহি চাও।
আজকের দিনে শপথ নিক সব কলমের দল—
কোনো চাপেই সত্য যেন না হয় বিকল।
কোনো লোভে বিবেক যেন বিকিয়ে না যায় আর,
মানুষেরই আস্থা হোক সাংবাদিকতার ভার।
রাষ্ট্র শুনুক, সমাজ শুনুক, পাঠক শুনুক গান—
মুক্ত সংবাদ শ্বাস না পেলে স্তব্ধ হয় প্রাণ।
যেখানে লেখা স্বাধীন থাকে, সেখানেই উষা ফোটে,
যেখানে কলম বাঁধা পড়ে, সভ্যতা নীরব রোতে।
তাই তেসরা মে শুধু দিবস নয়, অঙ্গীকারের দিন,
অন্ধকারে প্রদীপ ধরার অমর সোনার ঋণ।
কলম, ক্যামেরা, মুদ্রণচক্র, ডিজিটাল পর্দাপ্রান্ত—
সবাই মিলে সত্যের পক্ষে থাকুক অনন্ত।
যতদিন মানুষ বাঁচতে চায় মর্যাদারই সাথে,
যতদিন শিশু প্রশ্ন করে ভবিষ্যতের পথে,
যতদিন অন্যায় দেখিলে জ্বলে ওঠে মন,
ততদিন মুক্ত গণমাধ্যম মানবতার ধ্বনন।
জাগো সংবাদ, জাগো বিবেক, জাগো শুদ্ধ ভাষা,
জাগো জনতার অধিকার, জাগো মুক্ত আশা।
বিশ্বময় আজ উচ্চারিত হোক দৃপ্ত ঘোষণা—
সত্যের পথে মুক্ত কলমই সভ্যতারই রচনা।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি