শ্রীমঙ্গলে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

Manual8 Ad Code
হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৭ মে ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা নাগরিক পরিষদ।

Manual5 Ad Code

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা নাগরিক পরিষদের সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মো. মোসাব্বির আল মাসুদ। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় স্থানীয় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিভিন্ন সময় মাদক কারবারিদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন। এর জের ধরে স্থানীয় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী আলামিন, রুবেল ও চায়না রিপনসহ কয়েকজন আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত। রুহেল ও আলামিন কারাগারে থাকায় তাদের সহযোগীরা নির্যাতিত শ্রমিক পরিচয়ে নুরু আলম, শামীম ও ফয়েজ ফারুককে ব্যবহার করছে। প্রথমে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার নিয়ন্ত্রণাধীন গাড়ি আটকে টাকা আদায় করা হয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তাকে উপস্থিত করার জন্য লাইভ ভিডিও প্রচারসহ নানা কৌশল নেওয়া হয়েছিল, যাতে পরিকল্পিত হামলা চালানো যায়। বর্তমানে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল “সিলেটের নিউজ” নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়, যেখানে দাবি করা হয়—রুহেল ও আল আমিনকে কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়া করা হয়েছে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে অনুসন্ধানে বেশ কিছু সন্দেহজনক তথ্য সামনে আসে বলে দাবি করেন মোসাব্বির আল মাসুদ।

Manual3 Ad Code

তার অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী চায়না রিপনের পক্ষে এক ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল থানায় বিভিন্ন তদবির করছেন। একই সঙ্গে সোনার বাংলা রোড এলাকার কথিত মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া রুহেল ও আল আমিনের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমি সবসময় সোচ্চার থাকায় তারা আমার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে একত্রিত হয়েছে।”

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি লেবু বাজারে পরিবহন ব্যবসা শুরু করার পর নুরে আলম নামে এক ব্যক্তি শ্রমিক পরিচয়ে তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নজরদারি শুরু করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ মে রাতে সিলেটগামী একটি লেবুবাহী গাড়ি আটকে তার কর্মচারী পারভেজের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করেন নুর আলম, শামীম ও ফয়েজ। একইভাবে সিলেট লাইনের গাড়ি থেকে টাকা আদায়ের জন্য জমশেদ এন্টারপ্রাইজের মালিক জমশেদকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।

Manual7 Ad Code

মোসাব্বির আল মাসুদ বলেন, “গোপন সূত্রে জানতে পারি, ওই সময় আশপাশে দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজন অবস্থান করছিল। এতে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হতে পারে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৮ মে রাতে পৌর শ্রমিকদলের সেক্রেটারি পরিচয়দানকারী ফারুক তার আড়ৎদার বাবলুকে মোটরসাইকেলে তুলে বিএনপির আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকীর অফিসে নিয়ে যান। সেখানে লেবু বাজারের ব্যবসা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে রাতের দিকে প্রতিদিন ২ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে মোসাব্বির আল মাসুদ বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আমি এখন নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি। আমার ব্যবসা, জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নাগরিক পরিষদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।