সৈয়দ আমিরুজ্জামান |
১৮ মে ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতির এক কিংবদন্তী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, মেহনতীপ্রাণ জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন ৮৩ পেরিয়ে ৮৪ বছরে পদার্পণ করবেন। রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দী কমরেড রাশেদ খান মেননের জন্মদিন উদযাপন হয়তো তাঁর সরব উপস্থিতিতে করা সম্ভব হবে না। তবে দল চাইলে, দিবসটি উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে কমরেড রাশেদ খান মেননকে আটক করা হয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁর বিরুদ্ধে ৩৫টির ওপর হত্যা মামলাসহ শতাধিক মামলা দায়ের করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোর দায়ের প্রক্রিয়াতেও যে শতরকমের বিভ্রান্তি রয়েছে সেখানে বিচার কেমন হবে, তা পূর্বাহ্নেই অনুমান করা যায়। জামিন পাবার আইনের অধিকার ও নাগরিক অধিকার থেকে হাইকোর্টের কাছে জামিন চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখাত হয়েছে। কমরেড মেনন এদেশে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলন সহ শ্রমজীবি মেহনতী মানুষের পরিক্ষীত নেতা, স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি প্রণয়নের অন্যতম রূপকার, মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা; যিনি কিশোর বয়স থেকে আজ অবধি তার সংগ্রামী যাত্রা অব্যহত রেখেছেন। সকল কুপমন্ডুকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ৬২ এর আইয়ূব শাহীর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলা, ডাকসুর ভিপি হিসেবে ছাত্রদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং সকল ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশকারী মুক্তিযোদ্ধা কমরেড রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে বিশেষ আন্তর্জাতিক আদালত কাঠগড়ার দাড় করিয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থের অপপ্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিপক্ষ ভাবাদর্শের ক্ষমতাবান শক্তির। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার একজন জীবনবাজী রাখা যোদ্ধা কমরেড রাশেদ খান মেনন এ আচরণ প্রত্যাশা করেন না।
অবিলম্বে কমরেড রাশেদ খান মেননের মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় কৃষক সমিতি, খেতমজুর ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, নারী মুক্তি সংসদ, যুব মৈত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
৮৪তে জনতার মেনন উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে জন্মোৎসব ও সম্মিলন সভার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী ও বাংলাদেশ যুবমৈত্রী যৌথভাবে জন্মদিন পালন করবে।
কমরেড রাশেদ খান মেনন ভাইয়ের জন্মদিনে সমসাময়িক রাজনীতিতে ছাত্র ও যুবদের ভুমিকা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন নেতৃবৃন্দ।
শোষণ বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার, জনগণের সামগ্রিক মুক্তির জন্য নিবেদিত প্রাণ রাজনীতির এক বাতিঘর কমরেড রাশেদ খান মেনন তাঁর পিতা বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের কর্মস্থল ফরিদপুরে ১৯৪৩ সনের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃভূমি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে।
ষাটের দশকের তুখোর ছাত্রনেতা রাশেদ খান মেনন বাষট্টির আয়ুববিরোধী সামরিক শাসন ও শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৬৩-৬৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) ও ‘৬৪-৬৭ সালে পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। বাষট্টি সালে নিরাপত্তা আইনে প্রথম কারাবন্দী হওয়ার পর ‘৬৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মেয়াদে নিরাপত্তা আইন, দেশরক্ষা আইন ও বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করেন। ‘৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধে ছাত্র সমাজের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কুখ্যাত মোনেম খানের আগমনকে বিরোধীতা করতে গিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন ও পরে সুপ্রীম কোর্টের রায়ে ঐ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে জেল থেকে এম.এ পরীক্ষা দেন। ‘৬৭-৬৯ জেলে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তিনি ক্যান্টনমেন্টে নীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেশের বাইরে তার যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সমিতিতে যোগ দেন ও সন্তোষে ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০-এর বাইশে ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’ কায়েমের দাবি করায় এহিয়ার সামরিক সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ও তার অনুপস্থিতিতে সামরিক আদালতে সাত বছর সশ্রম কারাবাস ও সম্পত্তির ষাট ভাগ বাজেয়াপ্তর দণ্ডাদেশ প্রদান করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে যান ও স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু করেন।
পচিশে মার্চ পল্টনের শেষ জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পচিশে মার্চের কালরাতের গণহত্যার পর তিনি আর এক মুহূর্ত দেরী না করে ঢাকার অদূরে নরসিংদীর শিবপুরকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরে ভারতে গিয়ে সকল বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে প্রবাসী সরকারের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে এবং দেশের অভ্যন্তরে কেন্দ্র স্থাপন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
১৯৭৪-এ ভাসানী ন্যাপ থেকে বেরিয়ে এসে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি) গঠিত হলে তার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৭৮-এ ইউপিপি সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দিলে রাশেদ খান মেনন ইউপিপি ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গঠন করেন এবং ১৯৭৯ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৮২ জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারি করলে রাশেদ খান মেনন সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ঐ সামরিক শাসনবিরোধী প্রথম বিবৃতিটি যা পরবর্তীকালে পনের দল গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে তার রচয়িতাও ছিলেন তিনি। ‘৮৩-এর মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্র আন্দোলনের কারণে তাকে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে চোখ বেঁধে সামরিক ছাউনির নির্জন সেলে আটক রাখা হয়।
পাঁচদল নেতা হিসেবে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ঐক্য পুনঃস্থাপনে রাশেদ খান মেনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পাঁচদল, সাত দল ও আট দলের ঐতিহাসিক তিন জোটে’র ঘোষণার ভিত্তিতে ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাহীর পতন হয়। ১৯৯১-এর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাশেদ খান মেনন পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য সংসদের ‘বিশেষ কমিটি’ তে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী প্রণয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সংসদে তিনি জামাত-শিবিরের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক তৎপরতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সশস্ত্র আক্রমণ, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী তৎপরতা, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর কাছে সরকারের নতজানু নীতি, কাঠামোগত সংস্কার, বিশেষ করে পাটকলের কাঠামোগত সংস্কারের নামে পাট শিল্পের ধ্বংস সাধন, মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের অর্থনীতিক নীতি অনুসরণের এবং দৃঢ় বিরোধীতা, কৃষক, খেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের স্বপক্ষে দৃঢ় ভূমিকা গ্রহণ করেন। সংসদের বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন সংগঠিত করতেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
এই সব মিলিয়ে রাশেদ খান মেনন সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী গোষ্ঠীর আক্রমণের টার্গেটে পরিণত হন এবং তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরসহ ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোর পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক প্রচারণা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২-এর ১৭ আগস্ট নিজ পার্টি কার্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা হয়। প্রথমে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও পরে লন্ডনে কিংস কলেজে দু’বার অস্ত্রোপচার হলে তিনি জীবনে বেঁচে যান।
রাশেদ খান মেনন গুলিবিদ্ধ হলে সারা দেশে যে অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্য দিয়ে তার প্রতি দেশবাসীর ভালবাসার বিশেষ প্রকাশ ঘটে। দেশবাসীর দেয়া রক্ত, দোয়া, আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছার বরকতে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। এই সময় তিনি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জাতীয় সংগ্রামেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
১৯৯৮ সালে বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগার দল গঠন করে বিভিন্ন জাতীয় ও অর্থনৈতিক, শ্রমজীবী মানুষের ইস্যুতে তিনি আন্দোলন গড়ে তোলেন। এর মধ্যে তেল-গ্যাস-বন্দর জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন, গ্যাস বিদেশে রপ্তানি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার বিরুদ্ধে ঐ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে দেশব্যাপী লং মার্চ সংগঠিত করে গ্যাস রপ্তানি প্রতিরোধ করেন।
২০০১ সালে বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব শুরু করলে তিনি তার বিরুদ্ধে অন্যান্যদের নিয়ে প্রতিরোধ সংগঠিত করেন। জোট সরকারের প্রশ্রয়ে যে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে তার বিরুদ্ধেও প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে ওয়ার্কার্স পার্টি। বিএনপি-জামাত জোটের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে প্রথমে এগার দল ও পরে আওয়ামী লীগ, জাসদ, ন্যাপসহ চৌদ্দ দলের আন্দোলন গড়ে তোলেন। চৌদ্দ দলের ৩১ দফা নির্বাচনী সংস্কার ও ২৩ দফা ন্যূনতম কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই জননেত্রী শেখ হাসিনা ঐ নির্বাচনী সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলে তা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনি ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সংসদের তিনি কার্যউপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিরও তিনি সদস্য।
তিনি এ বছর গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার বিদেশীদের দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার সুপ্রীম পিপলস এসেম্বলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে তাঁকে এই পদকে ভূষিত করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সুং-এর জন্মশতবর্ষ পালনের জন্য অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উৎসবের শেষ দিনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সুপ্রীম পিপলস এসেম্বলীর ভাইস-প্রেসিডেন্ট উ সুংহুক তাকে এই পদক গলায় ঝুলিয়ে দেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও গবেষণার কাজ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা, বিশেষ করে জাতীয় দৈনিকসমূহে তার নিয়মিত কলাম লেখায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার ঐ কলামসমূহ একত্রিত করে এ পর্যন্ত পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে কমরেড রাশেদ খান মেননের আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব ‘এক জীবন : স্বাধীনতার সূর্যোদয়’।
ব্যক্তি জীবনে রাশেদ খান মেনন ১৯৬৯-এর মে মাসে তার ছাত্র আন্দোলনের সহকর্মী লুৎফুন্নেছা খান বিউটিকে বিয়ে করেন। লুৎফুন্নেছা খান বিউটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং এর সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে অবসর নিয়েছেন। কন্যা ড. সুবর্ণা খান ক্যান্সার সেলের ওপর পিএইচডি করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। পুত্র আনিক রাশেদ খান, আইনের ছাত্র।
রাশেদ খান মেনন রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা, সম্মেলন ও সেমিনার উপলক্ষ্যে ভারত, নেপাল, গণচীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, আলজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপের জার্মানী, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, বুলগেরিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেন।
রাশেদ খান মেনন ৬০-এর দশকের সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ. ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা রাখার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন ৮ অক্টোবর ২০০৮ সনের রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তা হতে বাংলামটর রোড পর্যন্ত এই সড়কের নাম রেখেছে “রাশেদ খান মেনন সড়ক”।
২০১২ সনের ১৩ সেপ্টেম্বর মহাজোট সরকারের পক্ষ থেকে রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে দেশের সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়ার বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকারে ২০১৩ সালে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে পুনরায় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহাজোট সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।
“জনতার মেনন”
রক্তমাখা পথের শেষে যে নাম দীপের মতো জ্বলে, অন্ধকারের বুক চিরিয়া দাঁড়ায় অটল ছলে, দুঃসময়ের ঝড়-বাদলে যিনি রাখেন মাথা তোলে, শোষিত মানুষের কণ্ঠে যাঁর অগ্নিময় অনল— সেই জনতার মেনন আজ চুরাশির দ্বারে এসে, ইতিহাসের দীর্ঘ নদী পার হয়েছেন হেসে হেসে।
আজও কারার গম্ভীর দেয়াল শোনে দৃপ্ত উচ্চারণ, “মানুষেরই মুক্তি আগে”—এই তো তাঁর জীবনধর্ম; আজও পথে মেহনতিদের শুকনো চোখের জলে, শোনা যায় সেই বজ্রকণ্ঠ প্রাচীন দিনের ছলে। যত দুঃখ, যত নির্যাতন, যত রক্তাক্ত ক্ষণ, মানুষ জাগার প্রত্যয়ে তিনি হননি কোনোদিন ক্ষণ।
ফরিদপুরের মাটির ঘ্রাণে জন্ম নিল এক শিশু, পদ্মা-মেঘনার বাতাস এসে দিল তারে দীক্ষা কিছু; বরিশালের বাহেরচরের নদী, কাদা, সবুজ ঘাস, শিখিয়েছে—মানুষ বাঁচে সংগ্রামে, নয় সর্বনাশ। বিচারকের ঘরে জন্ম, তবু শিখলেন শোষিত ব্যথা, রাজপথের ধুলোর কাছে রেখেছেন মাথা নত।
ষাটের দশক আগুনমাখা, রাত্রি তখন শাসকের, আইয়ুবী সেই দম্ভভরা লৌহকঠিন আস্তাকুঁড়; ছাত্রদের বুকের ভেতর জমে ওঠে জ্বালা, শিক্ষা চাই, অধিকার চাই—উঠে আসে জনজ্বালা। সেই সময়ের তরুণ নেতা, দীপ্ত চোখে মেনন, ঢাকা শহর কাঁপিয়ে দিলেন ছাত্রজাগার স্পন্দন।
ডাকসুর সেই অগ্নিমঞ্চে উঠেছিল যে কণ্ঠ, ভীত নগরের প্রাচীর ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে অনন্ত; সাম্প্রদায়িক বিষের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়ালেন, মানুষ যেন মানুষ থাকে—এই শপথই নিলেন। মোনেম খানের ছায়ার নিচে নত হয়নি প্রাণ, বিশ্ববিদ্যালয় বহিষ্কারও করেনি তাঁকে ম্লান।
কারাগারের শিকল গুনে গুনে কেটেছে কত রাত, নিরাপত্তা আইনের নামে নেমেছে শাসনঘাত; তবু জেলের অন্ধ কক্ষে থামেনি তাঁর পাঠ, দেশের মানুষ, দেশের ইতিহাস—ছিল তাঁরই সাথ। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে যে গড়ে উঠল সেতু, স্বাধীনতার নক্ষত্রখচিত এক গোপন অমৃত।
ঊনসত্তরের গণজোয়ারে যখন ভাঙে ভয়, রক্তমাখা রাজপথজুড়ে জনতারই জয়; মওলানা ভাসানীর সাথে কৃষকের মিছিলে, ক্ষুধার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন তিনি মাঠের সবুজ ঢিলে। সন্তোষের সেই কৃষক সম্মেলন আজও ইতিহাস, লাঙলের গান, মাটির দাবি, জেগে ওঠা সর্বনাশ।
পল্টন ময়দান কাঁপিয়ে দিয়ে বলেছিলেন তিনি, “স্বাধীন পূর্ব বাংলা চাই”—দুর্দমনীয় বাণী; সামরিক সেই আদালত দিল কারাবাস, সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ারও উঠল নৃশংস হাস। তবু তিনি আত্মগোপনে প্রস্তুত করলেন দেশ, স্বাধীনতার ডাক তখন অগ্নিশিখার রেশ।
পঁচিশে মার্চ কালরাতে আগুন ঝরে ঢাকায়, মানুষ মরে, ঘর জ্বলে যায়, রক্ত নদী বয়; সেই বিভীষিক মুহূর্তে দেরি করেননি আর, শিবপুরে গড়ে তুললেন মুক্তিযুদ্ধের দ্বার। সীমান্ত পেরিয়ে সংগঠিত করলেন প্রতিরোধ, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কমিটিতে জাগালেন নববোধ।
বাংলাদেশের মানচিত্রে তখন আগুন লেখা নাম, মুক্তির জন্য জীবন বাজি রাখল অগণন প্রাণ; সেই যুদ্ধে বামপন্থিদের ঐক্যের যে গান, তার পেছনে ছিল মেননের দৃঢ় অবিচল প্রাণ। সেক্টরজুড়ে প্রতিরোধের জ্বলে উঠল দীপ, স্বাধীনতার লাল সূর্যে উঠল বিজয়ের নীড়।
স্বাধীনতার পরের দেশও ছিল না শান্তির, দুর্ভিক্ষ, লুট, বৈষম্যে ভাঙে মানুষেরই নীড়; সামরিকতার কালো ছায়া ফের নেমে আসে, গণতন্ত্রের রক্তমাখা স্বপ্ন পড়ে ফাঁসে। সেই সময়েও আপসহীন সংগ্রামী এক মন, জনতার পক্ষে উচ্চারণ করেন কমরেড মেনন।
জিয়ার আমল, সামরিকতার নতুন আয়োজন, বিভক্ত রাজনীতির ভেতর জাগে সংশয়গণ; তবু তিনি বেছে নিলেন প্রতিবাদের পথ, ক্ষমতার নয়, মানুষেরই অধিকার তাঁর রথ। সংসদে গিয়েও শ্রমিক-কৃষক রাখলেন অগ্রভাগ, লুটেরাদের বিরুদ্ধে তুললেন সংগ্রামের ফাগ।
এরশাদের স্বৈরতন্ত্রে যখন কাঁপে দেশ, রাত্রির মতো দীর্ঘ হয় অত্যাচারের রেশ, চোখ বেঁধে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সামরিক ছাউনিতে, তবু নত নয় তাঁর কণ্ঠ কোনো ভয়াল বিভীষিকায়। পাঁচদল, সাতদল, আটদল মিলিয়ে ঐক্য গড়ে, স্বৈরাচারের প্রাসাদ ভাঙে জনতারই ঘেরে।
নব্বইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান আজও অগ্নিশিখা, ছাত্র-যুবক শ্রমিক-কৃষক জাগে একসাথে দীক্ষা; রাজপথজুড়ে স্লোগান ওঠে—স্বৈরশাসন হটাও, মানুষের ভোট, মানুষের অধিকার ফিরাও। সেই লড়াইয়ের সম্মুখভাগে ছিলেন যে অকুতোভয়, ইতিহাস তার নাম লিখেছে অম্লান অক্ষর জয়।
সংসদে তিনি উচ্চারণ করেন পাটকলের ব্যথা, বিশ্বব্যাংকের শর্তমালা মানেননি নত মাথা; কৃষকের ধান, শ্রমিকের ঘাম, নদীর গ্যাসভাণ্ডার, বিকিয়ে দেবার ষড়যন্ত্রে জ্বালিয়েছেন আগুনধার। চট্টগ্রাম বন্দর, গ্যাস রপ্তানির বিরুদ্ধ সুর, দেশরক্ষার দীর্ঘ মিছিলে জেগেছে জনপুর।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে রুখে দাঁড়ান, মৌলবাদের অন্ধ তলোয়ারের বিরুদ্ধে বজ্র হন; ধর্মের নামে রাজনীতির বিষাক্ত কালো দংশন, মানুষখেকো উন্মাদনার বিরুদ্ধে তাঁর উচ্চারণ। এই কারণেই ঘৃণার তীর নেমে আসে বুকে, গুলিবিদ্ধ হন রক্তাক্ত এক বিকেলের মুখে।
কিন্তু মানুষ ভালোবাসে যাকে প্রাণের টানে, মৃত্যুও তার পথ রোধে দাঁড়াতে পারে না প্রাণে; দেশের মানুষ রক্ত দিল, প্রার্থনায় ভাসাল, মৃত্যুর মুখ হতে ফিরিয়ে এনে আবার পথে নামাল। লন্ডনের সেই অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ পুনর্জন্ম, ফিরে এসে আবার জ্বালেন সংগ্রামেরই প্রদীপ।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবি যখন ওঠে, নির্বাচনের অধিকার নিয়ে জনতা নামে পথে, সেই আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সম্মুখসার, গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ার অক্লান্ত কারিগর। এগারদলের বিকল্প স্বপ্ন, চৌদ্দদলের ডাক, সমতার এক নতুন মানচিত্র আঁকলেন অবিরাম।
জঙ্গিবাদের বিষবাষ্পে যখন ঢাকে আকাশ, বিএনপি-জামাত জোটে নামে সাম্প্রদায়িক সর্বনাশ, মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও—এই আহ্বানে তিনি, সংগ্রামের মশাল হাতে রাস্তায় নামেন ঋণী। গ্রেনেড, বোমা, ভয় ও রক্ত—সবকিছুকে ছাপিয়ে, প্রগতিরই পতাকা রাখেন দৃপ্ত হাতে ধরিয়ে।
মন্ত্রিত্বও তাঁর কাছে ছিল দায়িত্বেরই নাম, ব্যক্তিস্বার্থের সোনার মুকুট নয় কোনো অবিরাম; প্রথমে প্রত্যাখ্যান, পরে সংকটকালে দেশ, ডাক দিল দায়িত্ব নিতে—গ্রহণ করলেন শেষ। বিমান, পর্যটন, সমাজকল্যাণ—রাষ্ট্রের নানা কাজ, তবু রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল শ্রমজীবী সমাজ।
আজ সেই মানুষ কারাগারে, মামলা শত শত, ইতিহাস যেন প্রশ্ন করে—কেন এই আয়োজন এত? যে মানুষটি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির সৈনিক, গণতন্ত্রের সংগ্রামে যার জীবন অগ্নিদীক্ষিত, তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার কালো মেঘের ছায়া, নাগরিকের ন্যায্য অধিকারে কেন তবে মায়া?
বিচারের নামে বিভ্রান্তি আর প্রতিহিংসার ছাপ, গণতন্ত্রের হৃদয়জুড়ে রেখে যায় অভিশাপ; যে দেশে মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়, সে দেশেরই ইতিহাস কাঁদে নীরব বেদনাময়। মতের ভিন্নতা থাকুক, থাকুক তর্ক-সংঘাত, তবু ন্যায়বিচার ছাড়া রাষ্ট্র হয় অন্ধ রাত।
আজ তাঁর জন্মদিন আসে কারা-দেয়াল পেরিয়ে, সহযোদ্ধার স্মৃতি এসে দাঁড়ায় চোখের নীড়ে; ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী, কৃষক-শ্রমিক দল, স্মরণ করে সংগ্রামের সেই দীপ্ত অমল জল। মেহনতিদের দীর্ঘ মিছিলে ওঠে যে উচ্চারণ, “মেননের মুক্তি চাই”—জাগে প্রতিটি প্রাঙ্গণ।
কিন্তু এই কবিতা শুধু একজন মানুষ নয়, এ এক যুগের, এক সংগ্রামের অমর পরিচয়; শোষণবিরোধী প্রতিটি কণ্ঠ, প্রতিটি বিদ্রোহী হাত, এই নামেতে খুঁজে পায় নিজেদেরই প্রভাত। কারখানার ক্লান্ত শ্রমিক, কৃষকের শুকনো মুখ, রোদে পোড়া দিনমজুরের ঘামে লেখা সুখ— সবাই যেন খুঁজে পায় তাঁর দীর্ঘ জীবনের মানে, মানুষ বাঁচার অধিকারই রাজনীতির টানে।
আজকের ছাত্র, আজকের যুব, শুনে নাও ইতিহাস, স্বাধীনতা কেবল মানচিত্র নয়, নয় কেবল উল্লাস; স্বাধীনতা মানে পেটের ভাত, শিক্ষা, কাজের অধিকার, নারীর মুক্তি, সাম্যের স্বপ্ন, শোষণহীন সংসার। যে সংগ্রাম এখনও বাকি, যে পথ এখনও দূর, সেই পথেতে প্রয়োজন আজ জাগ্রত মানুষের সুর।
রাজনীতিকে ব্যবসা করে যারা গড়ে প্রাসাদ, মানুষের কান্না যাদের কাছে কেবল পরিসংখ্যান, তাদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যে উচ্চারণ বলে— “রাষ্ট্র হবে মানুষের, লুটেরাদের নয় কভু ফলে”— সেই কণ্ঠের নাম মেনন, সেই কণ্ঠ জনতার, সমতারই স্বপ্ন নিয়ে হাঁটে বারংবার।
চুরাশিতে পৌঁছে গিয়েও শেষ হয়নি পথ, ইতিহাসের দীর্ঘ নদী ডাকে নতুন রথ; কারাগারের অন্ধ জানাল ভেদ করে একদিন, মানুষেরই জাগ্রত স্রোত আনবে নতুন দিন। কারণ সত্য বন্দী থাকে না কোনো লৌহদ্বারে, জনতারই ভালোবাসা জেগে থাকে অন্ধকারে।
রক্তাক্ত এই বাংলার মাটি জানে তাঁর পদচিহ্ন, ঢাকার পথে, মগবাজারে, বাংলামোটরের স্মৃতি লিখন; যে সড়ক আজ বহন করে তাঁর নামের উচ্চারণ, সে সড়কও যেন বলে ওঠে সংগ্রামেরই বর্ণন। ইতিহাসে যারা মানুষের পাশে দাঁড়ায় অবিরাম, তাদের বিরুদ্ধে সময়ও শেষ পর্যন্ত হয় পরাজিত ধ্রুব।
মেনন, তোমার জীবনের পাঠ এখনো শেষ হয়নি, যতদিন বৈষম্য আছে, ততদিন সংগ্রাম রইল বাকি; যতদিন ক্ষুধার কাঁটা বিঁধে থাকে মানুষের বুকে, ততদিন রাজনীতি চাই মুক্তিরই সুখে। যতদিন সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ায় অন্ধকার, ততদিন তোমার উচ্চারণ থাকবে দীপ্ত ধার।
তুমি কেবল ব্যক্তি নও, এক দীর্ঘ আন্দোলন, শ্রমিকের কণ্ঠে জাগা নতুন ভোরের স্পন্দন; তুমি কেবল নেতা নও, ইতিহাসের অগ্নিশিখা, স্বাধীনতার অসমাপ্ত গান, মানুষেরই দীক্ষা। কারাবাসের দেয়াল ভেঙে উঠুক নতুন সূর্য, বাংলার মানুষ গড়ুক আবার ন্যায়সমতার ভুবন।
এই জন্মদিনে জনতার পক্ষ থেকে লাল অভিবাদন, মুক্তিযুদ্ধের অমর স্মৃতি আর সংগ্রামের বন্ধন; মেহনতী মানুষের মুক্তির স্বপ্ন থাকুক অম্লান, শোষণহীন বাংলাদেশের হোক নতুন গান। চুরাশিতে জনতার মেনন, শোনো বাংলার ডাক— মানুষেরই অধিকার জয়ী হোক, ভাঙুক অন্যায় ফাঁক।
রেড স্যালুট তোমায়, সংগ্রামী এক জীবন, রেড স্যালুট তোমায়, মানুষেরই স্পন্দন; রেড স্যালুট তোমায়, ইতিহাসের অগ্নিপথ, রেড স্যালুট তোমায়, অবিচল জনমত। যতদিন বাংলার আকাশে জাগবে মুক্তির রাগ, ততদিন উচ্চারিত হবে—মেনন, তোমায় লাল সালাম।
—(জনতার মেনন,—সৈয়দ আমিরুজ্জামান)
জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ২১ দফার ভিত্তিতে সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জনগণের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে গেছেন এই অবিসংবাদিত নেতা। মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা রাশেদ খান মেনন তোমার প্রতি অভিবাদন এবং রেড স্যালুট।
#
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯
Post Views:
৩,০৮৫