হামে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনুসের বিচার করতে হবে: ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশে মনীষা

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনুসের বিচার করতে হবে: ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশে মনীষা

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট, ০৯ মে ২০২৬ : দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৫০-এর অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ এই মৃত্যুকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হাম পরিস্থিতিকে অবিলম্বে ‘মহামারি’ ঘোষণা, জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন, টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা খাতকে সম্পূর্ণ সরকারীকরণের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

Manual5 Ad Code

শনিবার (৯ মে ২০২৬) সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সিলেট জেলা সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ আরও বলেন, “হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে সাড়ে তিনশর বেশি শিশুর মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করার মতো অপরিকল্পিত ও হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলেই আজ শত শত পরিবার সন্তান হারানোর বেদনা বহন করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং শিশুস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “যে রাষ্ট্র তার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।”

মনীষা ওয়াহিদ আরও বলেন, “এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার নিশ্চিত করতেই হবে। একই সঙ্গে হামকে অবিলম্বে মহামারি ঘোষণা করে জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য পরিকল্পনা কার্যকর করতে হবে।”

সমাবেশ থেকে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. দেশে চলমান হাম পরিস্থিতিকে অবিলম্বে ‘মহামারি’ ঘোষণা করতে হবে; ২. আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে; ৩. হামে ৩৫০-এর অধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে; ৪. টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে চিকিৎসা খাতকে সম্পূর্ণ সরকারীকরণের আওতায় আনতে হবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়নের সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি মাশরুখ জলিল বলেন, “বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। শিশুস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবহেলার পরিণতি এখন পুরো দেশ দেখছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বিবৃতি দিলেই চলবে না। দ্রুত ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং আগামী জাতীয় বাজেটে শিশুস্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

Manual7 Ad Code

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠক নাজনীন লিজা। তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অবহেলা করে উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে শিশুদের জীবন সুরক্ষিত নয়। এই সংকট শুধু স্বাস্থ্য খাতের নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণেরও সংকট।”

সমাবেশ পরিচালনা করেন সিলেট জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক শাহীন ফকির। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Manual7 Ad Code

সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Manual4 Ad Code

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, হাম প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, টিকাদান কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ