মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের জোর দাবি এমজেএফের

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২৬

মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের জোর দাবি এমজেএফের

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৬ মে ২০২৬ : দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও গর্ভধারণের ঘটনায় আবারও মাদ্রাসার মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। দেশের সব মাদ্রাসায় অবিলম্বে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে এমজেএফ। এই দাবির বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করে সংগঠনটি।

Manual1 Ad Code

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীনের আনাম বলেন, মাদ্রাসাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাইরে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১,০২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মেয়ে শিশুর বিরুদ্ধে ৪৭৯টি সহিংসতার ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এটি ভীষণ উদ্বেগজনক।

Manual8 Ad Code

নেত্রকোনার ঘটনায় মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অক্টোবর থেকে একাধিকবার সেই ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ১৮ এপ্রিল পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে র‍্যাব তাকে আটক করেছে।

Manual6 Ad Code

পৃথক আরেক ঘটনায় পটুয়াখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উচ্চ আদালত ২০২৩ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাদ্রাসাগুলো অনেকাংশে এই নির্দেশনার বাইরে থেকে গেছে।

এমজেএফ মনে করে, সব মাদ্রাসাকে এই নির্দেশনার আওতায় এনে দ্রুত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা জরুরি।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এমজেএফ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর কার্যকর প্রয়োগ করার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

Manual6 Ad Code

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন সমন্বয়ক এবং ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশান লিড ওয়াসিউর রহমান তন্ময় কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, মাদ্রাসায় শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনার অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীর প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তা গোপন থাকে। যথাযথ আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছে এমজেএফ। এ বিষয়ে প্রক্রিয়াধীন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন দ্রুত প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ