সিলেট ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২৬
পয়ত্রিশ ছুঁতেই জীবনের একটা অদৃশ্য দরজা খুলে যায়। শরীরের ভেতরে শুরু হয় হরমোনের এক নিঃশব্দ বিপ্লব। মুড-স্যুইং, অস্থিরতা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ—সব মিলিয়ে একেবারে অন্য এক আমি। চল্লিশে এসে সেই ঝড়ের গতি কমে, অথচ ভেতরের একটা নদী নীরবে গড়িয়ে চলতে থাকে।
রাগ হয়, কিন্তু চেঁচাতে ইচ্ছে করে না। কান্না আসে, কিন্তু ফোটে না চোখে। একা একা চুপ করে থাকা যেন সবচেয়ে প্রিয় অভ্যাস হয়ে ওঠে।
এক সময় কোলাহল ছিলো নিজের পরিচয়, আজ নির্জনতা হয়ে উঠেছে আত্মার আশ্রয়। আড্ডা ভালো লাগে, হাসতেও পারি, কিন্তু মাঝে মাঝেই মনে হয়, “চলো, একটু চুপ করে থাকি, একা থাকি।”
প্রিয় মানুষদের মুখে আগের সেই উষ্ণতা আর পাই না। আর কিছু মানুষ, যাদের মনে করতাম ‘নিজের’—তারা সময়ের সঙ্গে দূরে সরে গেছে। তাদের শূন্যতা বোঝা নয়, অনুভব হয়। মাঝে মাঝে সেই শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুকের ভেতর মোচড় দেয়। খুব চেনা একটা হাহাকার—যে হাহাকারে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তবু মুক্ত না।
সেই প্রিয়জনের অভাব শুধুই মানসিক নয়—শরীরেও বাজে তার অনুপস্থিতির ধ্বনি।
একাকিত্ব শুধু নীরবতা নয়, তীব্র এক টান, একটা তৃষ্ণা। ভালোবাসার, স্পর্শের, কাছাকাছি থাকার, উষ্ণতার।
এই বয়সে শরীরের চাহিদা মরে না, বরং গভীর হয়।
কামনা থাকে, কিন্তু হাহাকারে ঢাকা পড়ে। ইচ্ছা জাগে, কিন্তু মুখ ফুটে বের হয় না। যৌনতা নিয়ে মুখ বন্ধ সমাজ আমাদের শেখায়—”এই বয়সে এসব?” অথচ এই বয়সেই তো বোঝা যায়, কামনা মানেই কেবল শরীরের আকর্ষণ নয়, সেটা মনকে জড়িয়ে রাখা এক নিঃশব্দ আশ্রয়।
স্পর্শের প্রয়োজন ফুরোয় না, বরং নির্ভরতা চায়। কেউ পাশে থাক, হাতটা ছুঁয়ে বলুক—”আমি আছি।”
তবু আশ্চর্য, এই একাকীত্বেও নিজেকে ভালোবাসতে শিখে গেছি। আজ আমি নিজের শরীর, নিজের মনের দিকে তাকিয়ে দেখি—যা ছিল একসময় কেবল অন্যদের জন্য, সেটা আজ শুধুই আমার।
ভালোবাসার সংজ্ঞা বদলেছে। এখন ভালোবাসা মানে—নিজেকে আগলে রাখা, নিজের দুঃখগুলো বুকে জড়িয়ে বলা—”আমি আছি, আমি তোকে ছাড়বো না।”
আজকাল ভালো লাগা মানেই দুর্বল হয়ে পড়া নয়। বরং আত্মমগ্ন একটা আনন্দ।
হুট করে প্রেম আসে না, ইনফ্যাচুয়েশন নেই, আবেগ আছে—তবে সংযত।
আজকাল গভীর চোখে তাকালে বুঝি—আমি অন্য কারো প্রেমে নয়, নিজের প্রেমে মজে আছি। নিজের ছায়া, নিজের ঘ্রাণ, নিজের আত্মবিশ্বাসে।
পয়ত্রিশে হঠাৎ জীবনটা বদলে গেলেও,চল্লিশে এসে বুঝি—আমি বদলেছি।
আজ আয়নায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, আমি আগের মতো আর নেই। ধৈর্য্য বেড়েছে, আত্মসম্মানও। ভুলতে শিখেছি, ত্যাগ করতে শিখেছি।
আর হ্যাঁ, নিজের সাজেও এসেছে নীরব পরিবর্তন। গাঢ় লিপস্টিক মানায় না আর, পরলেও মুছে দিই—অভ্যন্তরের শান্ত নারী আর অতিমাত্রায় রঙ মেনে নিতে পারে না। সাজ এখন আরও মেপে, আরও ভারসাম্যে।
চশমা ছাড়া চলি না আজকাল, ভুল হয় অনেক, হয়তো কারণ মন অন্য কিছুতে ব্যস্ত। হয়তো নিজের ভিতরের প্রশ্নগুলো এত বেশি হয়ে গেছে যে, বাইরের কিছু আর ততটা ধরা দেয় না।
এখন শুধু চাই, যতদিন আছি, নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলি। ভালোবাসি নিজেকে, তাই নিজের মতো করেই বাঁচতে চাই।
পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ—এই পথে আমি হাঁটছি একা, কিন্তু আমি বুঝি—একা মানেই একলা নয়।
এই যাত্রা সবার হবে না, এই অনুভব সবার সঙ্গেও মিলবে না।
কিন্তু যার মেলে, সে জানে—এই বয়সটাই সবচেয়ে বেশি ‘নিজের’ হওয়ার।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি