যুগ যুগ ধরে এখনো আমি ক্ষুধার্ত!

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০২৬

যুগ যুগ ধরে এখনো আমি ক্ষুধার্ত!

Manual1 Ad Code

ফাতেমা তুজ জোহরা |

সমাজতন্ত্র তোমরা বাতিল করছো। করতেই পারো!
কিন্তু যুগ যুগ ধরে এখনো আমি ক্ষুধার্ত।
সমাধান হয়নি!

সমতা তোমাদের পছন্দ নয়, অত্যন্ত স্বাভাবিক।
তোমরা উত্তম, আমরা অধম!

কীভাবে সমান অধিকার চাইব, বলো?
অধম থাকবে গোয়াল ঘরে, খাবে খড়কুটো, কাজ করবে ক্ষেতে খামারে।
অধমের উৎপাদিত সরুচালের সুগন্ধি ভাত খাবে তুমি; মাংস সহযোগে।
পান করবে বেনসন, শ্যাম্পেন।
অধম কৃষক খাব মোটাচালের পান্তা, টানবো বিড়ি।
বিল্ডিং তৈরি করবো আমি শ্রমিক, থাকবো বস্তিতে –
তোমাদের দয়ায়, তোমাদের অধীনে।

তুমিও নেংটো হয়ে পৃথিবীতে এসেছিলে; আমার মতোই। শূণ্য হাতে।
তুমি খাচ্ছো, নিচ্ছো অঢেল। ডাবলেরও ডাবল।
আমারটা কে নিলো?
তুমি নও তো?
আমি কি তোমার চেয়ে কম কাজ করি?
আমি কি তোমার চেয়ে কম সৎ?
আমি কি তোমার চেয়ে কম ভালোবাসি?
আমি কি তোমার চেয়ে আমার সোনামণি সন্তানকে কম স্নেহ করি?
আমি কি তোমার চেয়ে আসলে কম মানুষ?
না, সমাজতন্ত্র নয়, হিসাব চাইছি।
আমার লুট হয়ে যাওয়া খাবারের,
তোমার গোপন করে রাখা নিপীড়নের।

যোগ্যতমরাই আছে বেঁচে থাকার অধিকার;
একমাত্র পশু ছাড়া এমন ভাবনা কেউ ভাবতে পারে না।
যোগ্য মানুষেরা বুঝি জঙ্গলের শুয়োরতন্র প্রতিষ্ঠার জন্য সভ্য হয়েছে!
আহা সভ্যতা! অযোগ্যরা মরে না কেন!
আমি বামে ঝুঁকলেই, তোমাদের পিলে চমকে যায়!
ভেতরে ভেতরে ভীষণ ভীতু তুমি, লোভী স্বার্থপর!

Manual2 Ad Code

কে দূষিত করছে এই পৃথিবী, আমি?
কে পুঞ্জিভূত করছে বিপুল সম্পদ, আমি?
কে বিলিয়ন ডলারের একছত্র লুটেরা, আমি?
কে করছে অস্ত্র ব্যবসা, আমি?
কে করেছে মানুষকে পন্য, আমি?
কে করেছে নারীকে যৌনদাসী, আমি?
কে বোমা মেরেছে হিরোশিমায়, আমি?
কে প্রতিদিন পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে, আমি?
কে করছে ধর্ম ব্যবসা, আমি?
কে শিশুদেরকেও শ্রমিক বানায়, আমি?

Manual6 Ad Code

আমি তো সামান্য জেলে। সমুদ্রে মাছ ধরি।
জালও তোমাদের, নৌকাও।
সারাদিন মাছ ধরে নৌকা নিয়ে ঘাটে ভিড়লেই সব মাছ কেড়ে নাও তুমি।
তুমি আমাকে ফাঁসিয়েছো ডক্টর ইউনুস ওরপে সুদি ইউনুস এর মত পুঁজির ফাঁদে। সুকৌশলে।
ধনী হওয়ার হাজারো দূষিত পথ! সব তোমাদের জানা।
আমি মরি ঝড়ে, সাইক্লোনে, সমুদ্রে ডুবে।
তোমার মতো আমারও কি ইচ্ছে করে না আমার পুত্রের বুভুক্ষু মুখে এক টুকরো ইলিশ মাছ তুলে দিই?
আমি জেলে, আমার পরিবার মোটাচালের ভাত খায় কলমী শাক দিয়ে;
ভোগে আমিষের অভাবে।

শুয়োরের বাচ্চা, আজ নিজ মুখে খাবার দেয়ার আগে একটু ভেবে নিস, ওটা কার ভাগের!
কোটি মানুষ এ বেলাতেও না খেয়ে!

Manual3 Ad Code

না, সমাজতন্ত্র নয়, দুমুঠো খাবার চেয়েছি।
সমাজতন্ত্র নয়, সম্পদের সুষম বন্টন চেয়েছি।
সমাজতন্ত্র নয়, মানুষের মুক্তি চেয়েছি। না সমাজতন্ত্র নয় ধর্মব্যবসায়ীদের হাত থেকে সাধারণ জনগণের মুক্তি চেয়েছি।
#

এই কবিতার সারাংশ হলো—

কবি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যুগের পর যুগ দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ কঠোর পরিশ্রম করলেও তারা ন্যায্য অধিকার ও দুমুঠো খাবার থেকেও বঞ্চিত। অন্যদিকে ধনী ও ক্ষমতাবান শ্রেণি শ্রমিক, কৃষক ও জেলেদের শ্রমের ফল ভোগ করে বিলাসিতায় জীবন কাটায়। কবি প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষে মানুষে এই বৈষম্য কেন থাকবে, যখন সবাই একইভাবে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তিনি সমাজতন্ত্রের নামে বিতর্ক নয়, বরং সম্পদের সুষম বণ্টন, ন্যায়বিচার, সাধারণ মানুষের মুক্তি এবং ক্ষুধামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। কবিতাটি মূলত শোষিত মানুষের ক্ষোভ, বেদনা ও ন্যায্য অধিকারের আহ্বান প্রকাশ করে।

Manual8 Ad Code