​চা-বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য চা-শ্রমিকদের জীবন সংগ্রামের প্রতি উপহাস: চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২৬

​চা-বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য চা-শ্রমিকদের জীবন সংগ্রামের প্রতি উপহাস: চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৮ মে ২০২৬ : এটিএন বাংলার একটি টকশোতে চা-শ্রমিকদের সম্পর্কে বাংলাদেশ চা-বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেজবাহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থাপিত তথ্যকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। ​

বিবৃতিতে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতী এবং সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক বলেন, জাতীয় টেলিভিশনে চা-বোর্ড চেয়ারম্যান দাবি করেছেন যে চা-শ্রমিকরা মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা কাজ করেন এবং তাদের জীবনাচার অনেক উন্নত। এই তথ্য কেবল ভিত্তিহীনই নয়, বরং শোষিত ও অবহেলিত চা-শ্রমিকদের জীবন সংগ্রামের প্রতি এক নিষ্ঠুর উপহাস। বাস্তবে চা-শ্রমিকরা বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্র ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরিতে ভয়াবহ অমানবিক পরিবেশে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ‘নিরিখ’ পূরণ করতে তাদের দৈনিক ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করতে হয়।

Manual2 Ad Code

​নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, বাগানগুলোতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা তো দূরের কথা, ন্যূনতম পানীয় জল, বিশ্রামের ছাউনি কিংবা রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থাই বাগান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে না। এমন প্রতিকূল অবস্থায় চা-শ্রমিকদের লড়াই আজ কেবল মজুরি বৃদ্ধি বা ভূমির অধিকারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ন্যূনতম মানবিক নাগরিক অধিকারের জন্য তাদের প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত ​বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চা-শ্রমিকদের কাজের প্রতি অনীহা বা তাদের ব্যক্তিগত জীবনাচার নিয়ে চেয়ারম্যান যে ধরণের নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন, তা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাসকে অপমানিত করেছে। চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ