জাতীয় প্রেসক্লাব ঘিরে পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনে অজস্র প্রশ্ন আর ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২৮, ২০২৬

জাতীয় প্রেসক্লাব ঘিরে পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনে অজস্র প্রশ্ন আর ক্ষোভ

Manual2 Ad Code

হেলাল উদ্দিন |

প্রেসক্লাবে কারা ঢুকছে? জাতীয় প্রেসক্লাব কি এখনও সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান, নাকি এটি এখন রাজনৈতিক আনুগত্য যাচাইয়ের এক অভিজাত ক্লাবে পরিণত হয়েছে?

১২ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাব ৪৪১ জন নতুন সদস্যের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেটি ঘিরে এখন পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনে তীব্র প্রশ্ন, ক্ষোভ ও বিতর্ক।

বলা হয়েছে “দীর্ঘ যাচাই-বাছাই” শেষে সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই যাচাইয়ের মানদণ্ড কী ছিল—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

দেশের বহু প্রবীণ সাংবাদিক আছেন, যারা ৩০-৪০ বছর ধরে মাঠে-ঘাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকতা করেছেন।

কেউ জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, কেউ বার্তা সম্পাদক, কেউ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পরিচিত মুখ।

টিয়ারগ্যাস, হামলা-মামলা, রাজনৈতিক চাপ, সেন্সরশিপ—সবকিছু মোকাবিলা করে তারা সারাজীবন গণমাধ্যমকে দিয়েছেন।

অথচ বছরের পর বছর আবেদন করেও তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারেননি। তাদের ফাইল পড়ে আছে ধুলোর নিচে।

অন্যদিকে, নামসর্বস্ব অনলাইন, ভুঁইফোঁড় পত্রিকা, রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক তথাকথিত সাংবাদিক, সরকারি তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পিআরও, এমনকি সরাসরি দলীয় তদবিরবাজরাও দল বেঁধে সদস্য হয়ে যাচ্ছেন!

জুনিয়ররা সদস্য হচ্ছেন, সিনিয়ররা বাদ পড়ছেন।
তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—
সদস্যপদের মাপকাঠি কী?
সাংবাদিকতা?
যোগ্যতা?
সংবাদকর্মে অবদান?
নাকি রাজনৈতিক আনুগত্য?

আজ বাস্তবতা হলো, আপনি যদি আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত ঘরানার কোনো বলয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে আপনার জন্য প্রেসক্লাবের দরজা খোলা।

কিন্তু আপনি যদি স্বাধীনচেতা, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিক হন, তাহলে আপনি এখানে “অপ্রয়োজনীয়”।

সব সরকারই প্রেসক্লাবকে নিজেদের প্রভাব বলয়ের অংশ বানাতে চেয়েছে। আগে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” ছিল অঘোষিত সদস্যপদের শর্ত, এখন “জাতীয়তাবাদী” বা “বিপ্লবী” পরিচয়।

সাইনবোর্ড বদলেছে, কিন্তু সংস্কৃতি বদলায়নি।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—প্রকৃত সাংবাদিকদের অপমানিত ও কোণঠাসা করা হচ্ছে, আর অপসাংবাদিকতা, তোষামোদ ও রাজনৈতিক দালালিকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

এতে শুধু কিছু ব্যক্তি নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ধ্বংস হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সদস্যপদ প্রক্রিয়াকে অনেকে আগামী প্রেসক্লাব নির্বাচনের “ভোট ব্যাংক তৈরির প্রকল্প” হিসেবে দেখছেন।

কারণ প্রতিটি প্যানেলই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অনুগত ভোটার বাড়াতে চায়। সেই খেলায় স্বাধীন সাংবাদিকরা সবচেয়ে বড় বাধা।

Manual5 Ad Code

তাই তাদের আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, আর রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্টরা রাতারাতি ভিআইপি সদস্য হয়ে যায়।

Manual7 Ad Code

জাতীয় প্রেসক্লাব কোনো রাজনৈতিক দলের পকেট সংগঠন হতে পারে না। এটি সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান।

তাই এখনই সদস্যপদ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে। ভুয়া সাংবাদিক, রাজনৈতিক ক্যাডার, সুবিধাবাদী আমলা ও তদবিরবাজদের প্রভাবমুক্ত করে মাঠের প্রকৃত সাংবাদিকদের তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে।

Manual8 Ad Code

নইলে মানুষ একদিন সত্যিই প্রশ্ন করবে—এটি কি জাতীয় প্রেসক্লাব, নাকি রাজনৈতিক ক্যাডার পুনর্বাসন কেন্দ্র?

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ