সিলেট ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি | গোয়া (ভারত), ২৮ মে ২০২৬ : জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে দেখে বুঝে ওঠার সুযোগ নেই ভেতরে কোনো টুর্নামেন্ট চলছে। স্টেডিয়ামের আশপাশে নেই কোনো প্রচার।
নেই সমর্থকদের আনাগোনাও। গ্যালারি খাঁ খাঁ করছিল। গুটি কয়েকজন এসেছেন বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার ম্যাচ দেখতে। দর্শকহীন এমন ম্যাচে বাজে প্রদর্শনী ঋতুপর্ণা চাকমাদের।
যদিও শুরুতেই গোল পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু খেই হারিয়ে ফেলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে। একসময় ম্যাচ ছিল ২-২ সমতায়। তবে শেষ পর্যন্ত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা ৪-২ গোলের জয় দিয়েই করেছে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
ফলে এক ম্যাচ জিতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের। কারণ মালদ্বীপ দুইটি ম্যাচ হেরেছে। এর আগে তারা ভারতের কাছে তারা হারে ১১-০ ব্যবধানে। ৩১ মে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে নির্ধারণ হবে, কারা হবে গ্রুপসেরা।
যেভাবে শুরুটা পেয়েছিল বাংলাদেশ, তাতে মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানেই জিততে যাচ্ছে। কিন্তু তা আর হয়নি। বরং কষ্টের এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১১ সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিক অফের পর বল পান ঋতুপর্ণা। বাঁ দিক থেকে তার বাড়ানো নিচু ক্রস প্রথম প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। লাল-সুবজের জার্সি গায়ে তোলার পর চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম গোল সুইডেন প্রবাসী এই ফরোয়ার্ডের।
তৃতীয় মিনিটে ‘অলিম্পিক গোল’ পেয়ে যেতে পারতেন ঋতুপর্ণা, কিন্তু তার বাঁকানো কর্নার দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে মালদ্বীপের রক্ষণে চাপ ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বাদশ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিচু ক্রসে গোলমুখে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়র ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। বল গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফের শামসুন্নাহারের গায়ে লেগে যায় বাইরে।
২৮ মিনিটে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার। ঋতুপর্ণার থ্রু পাস ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান বক্সে। দূরের পোস্টে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।
ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস জোরালো নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন উমেহ্লা মারমা। এরপরই অপ্রত্যাশিত এক গোল হজম করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে অধিনায়ক মারিয় মান্দার ভুল পাস পেয়ে যায় মালদ্বীপের এক ফুটবলার। তার বাড়ানো পাস ধরে মরিয়ম নোরার দূরপাল্লার শট এগিয়ে আসা গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে হঠাৎই ফের এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের রক্ষণ। এই সুযোগে ৫৬ মিনিটে সমতাও ফেরায় মালদ্বীপ। অভাবনীয় ভুল করেন সেন্টার ব্যাক আফঈদা খন্দকার। যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন আফঈদা কিন্তু মালদ্বীপের আমিনাথ ফাজলাকে চার্জ করেননি তিনি। বল নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে, ঝাঁপিয়ে পড়া মিলিকে পরাস্ত করেন মালদ্বীপের এই উইঙ্গার।
এরপর পরই উমেহ্লা ও আনিকাকে তুলে শাহেদা আক্তার রিপা ও গত সাফে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা তহুরাকে নামান বাটলার। ৬৪ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণার ক্রস গোলরক্ষকের গ্লাভস গলে বেরিয়ে গেলে তার সামনে থাকা প্রীতি নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন। তাতে শঙ্কা দূর হয়ে ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। আর শেষ মিনিটে বাংলাদেশের চতুর্থ গোলটি করেন কোহাতি কিসকু।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি