রোড টু বিকামিং সিইও: নেতৃত্বের স্বপ্ন, প্রস্তুতির পথ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৬

রোড টু বিকামিং সিইও: নেতৃত্বের স্বপ্ন, প্রস্তুতির পথ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

Manual5 Ad Code

বুক রিভিউ বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ জুলাই ২০২৬ : চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল করপোরেট বাস্তবতায় নেতৃত্বের সংজ্ঞা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে। আজকের একজন Chief Executive Officer (CEO) কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক প্রধান নন; তিনি একজন কৌশলবিদ, পরিবর্তনের নেতৃত্বদাতা, সংস্কৃতি নির্মাতা, উদ্ভাবনের অনুঘটক এবং হাজারো মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দিকনির্দেশক।

বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটি অংশ এখন আর শুধু চাকরি করতে চায় না; তারা নেতৃত্ব দিতে চায়, প্রতিষ্ঠান গড়তে চায়, বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে চায়। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন CEO হওয়ার পথ কোথা থেকে শুরু হয়? বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রি কি সেই পথের একমাত্র চাবিকাঠি? MBA ছাড়া কি CEO হওয়া সম্ভব? কেন বাংলাদেশের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে এখনও বিদেশি CEO-দের আধিপত্য দেখা যায়?

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানেই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে “রোড টু বিকামিং সিইও”-এর সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন সংস্করণ। নতুন প্রচ্ছদে প্রকাশিতব্য বইটি কেবল একটি ক্যারিয়ারবিষয়ক গ্রন্থ নয়; বরং নেতৃত্ব, আত্মপ্রস্তুতি এবং করপোরেট বাস্তবতা নিয়ে একটি সুসংগঠিত দিকনির্দেশনা।

CEO হওয়ার স্বপ্ন: শুধুই পদ নয়, একটি দীর্ঘ প্রস্তুতির নাম

অনেকেই মনে করেন CEO হওয়া মানেই পদোন্নতির সর্বোচ্চ ধাপ। বাস্তবে বিষয়টি অনেক গভীর। একজন CEO হওয়ার জন্য প্রয়োজন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, দূরদর্শিতা, আর্থিক জ্ঞান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ দক্ষতা, সংকট মোকাবিলা, নৈতিকতা এবং সবচেয়ে বড় বিষয়—আজীবন শেখার মানসিকতা।

এই বইয়ের অন্যতম শক্তি হলো, এটি CEO হওয়ার স্বপ্নকে কেবল আকাঙ্ক্ষার জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশে কেন বিদেশি CEO?

বইটির আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি—বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে কেন বিদেশি CEO নিয়োগ দেওয়া হয়?

এর উত্তর একমাত্রিক নয়। বহুজাতিক অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা, কৌশলগত নেতৃত্ব, করপোরেট গভর্ন্যান্স, আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে জ্ঞান এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বদানের বাস্তব অভিজ্ঞতা—এসব কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা পিছিয়ে। বরং প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা, আধুনিক নেতৃত্বচর্চা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা। বইটি এই আত্মপ্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।

Manual6 Ad Code

সাধারণ বিষয়ে পড়েও কি CEO হওয়া যায়?

এটি বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি।

অনেকে মনে করেন ব্যবসায় শিক্ষা ছাড়া CEO হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সফল CEO আছেন যারা প্রকৌশল, সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, আইন কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে এসেছেন।

বাস্তবতা হলো, CEO হওয়ার ক্ষেত্রে ডিগ্রি নয়; নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ব্যবসা বোঝার দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা এবং নিরবচ্ছিন্ন শেখার আগ্রহই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

“রোড টু বিকামিং সিইও” এই বাস্তবতাকে সহজ ভাষায় তুলে ধরে তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হতে উৎসাহিত করে।

MBA কি অপরিহার্য?

আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, MBA ছাড়া CEO হওয়া যায় না।

MBA অবশ্যই ব্যবসায়িক জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এটি কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়।

বিশ্বের বহু সফল CEO MBA করেননি। আবার অনেকে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার পর MBA করেছেন।

বইটি পাঠককে বোঝাতে চেষ্টা করেছে—MBA একটি সহায়ক যোগ্যতা হতে পারে, কিন্তু নেতৃত্ব, সততা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং ফলাফল প্রদানের সক্ষমতার বিকল্প নয়।

নেতৃত্ব শুরু হয় নিজের ভেতর থেকে

একজন CEO হওয়ার যাত্রা শুরু হয় আত্মনেতৃত্ব দিয়ে। সময় ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, আত্মশৃঙ্খলা, শেখার আগ্রহ, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি একজন ভবিষ্যৎ নেতার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

এই বইয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শুধুমাত্র করপোরেট তত্ত্ব আলোচনা করেনি; বরং একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিকাশকে নেতৃত্বের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

বহু বইয়ের নির্যাস এক মলাটে

প্রকাশকের ভাষ্য অনুযায়ী, বইটিতে নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, ব্যক্তিত্ব বিকাশ, করপোরেট বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বচর্চা নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের নির্যাস সংকলিত হয়েছে।

ফলে একজন পাঠককে বিচ্ছিন্নভাবে অসংখ্য বই পড়ার পরিবর্তে একটি সুসংগঠিত ধারণা অর্জনে বইটি সহায়তা করতে পারে।

নতুন প্রজন্মের জন্য কেন প্রয়োজনীয়?

বর্তমান সময়ের তরুণরা শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার নির্মাণ করতে চায়। তারা উদ্যোক্তা হতে চায়, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিতে চায়, স্টার্টআপ গড়তে চায় এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

Manual4 Ad Code

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা জানে না—এই দীর্ঘ পথের প্রথম ধাপ কী।

“রোড টু বিকামিং সিইও” সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি প্রয়াস। এটি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, মধ্যপর্যায়ের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা এবং ভবিষ্যৎ করপোরেট নেতাদের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

লেখকের প্রত্যাশা

Manual2 Ad Code

বইটি সম্পর্কে CEO and Founder, Sharpener, Nazar E Zilani বলেন—

“আমাদের ছেলেমেয়েদের অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর আছে এ বইয়ে। অনেকগুলো বইয়ের নির্যাস দুই মলাটের ভিতরে। এই বই একজন CEO হতে চাওয়া স্বপ্নবাজের মানসলোক গড়ে দেবে এবং আরও নিবিড়ভাবে নিজেকে তৈরি করতে, বিষয়গুলোর আরও গভীরে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।”

এই বক্তব্য বইটির মূল দর্শনকে স্পষ্ট করে—এটি কোনো শর্টকাট সাফল্যের গল্প নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতির বই।

বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী একটি প্রকাশনা

বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্টার্টআপ খাতে দক্ষ নেতৃত্বের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানের দেশীয় নেতৃত্ব তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতের CEO তৈরি হবে আজকের শ্রেণিকক্ষ, কর্মক্ষেত্র এবং আত্মপ্রস্তুতির ভেতর থেকেই।

“রোড টু বিকামিং সিইও” সেই প্রস্তুতির পথে একটি চিন্তাশীল সংযোজন। এটি তরুণদের শুধু CEO হওয়ার স্বপ্ন দেখায় না; বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা দেয়।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশের করপোরেট ভবিষ্যৎ যদি দেশীয় মেধা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের ওপর দাঁড়াতে চায়, তবে এমন বই নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সময়োপযোগী পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
#
Nazar E Zilani
CEO and Founder, Sharpener

Lalmatia, Dhaka.

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ