চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বিভাগীয় কর্মী সম্মেলন

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৬

চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বিভাগীয় কর্মী সম্মেলন

Manual4 Ad Code
  • সেবার মানোন্নয়ন ও পাঠকসংখ্যা বাড়াতে নানা দিকনির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই ২০২৬ : দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, যুগোপযোগী ও পাঠকবান্ধব করতে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইউনিটের কর্মীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual1 Ad Code

সম্মেলনে বক্তারা পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সেবার মান উন্নয়ন, কার্যক্রমের গুণগত উৎকর্ষ নিশ্চিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর ও সমন্বিত সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন কেন্দ্রের হলরুমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের পরিচালক দিলীপ কুমার সাহা।

Manual3 Ad Code

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্মপরিচালক এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী উজ্জ্বল হোসেনসহ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

Manual5 Ad Code

সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ১২টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইউনিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একটি জাতির জ্ঞানভিত্তিক বিকাশে পাঠাভ্যাসের বিকল্প নেই। গ্রন্থাগারকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি তার একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদাহরণ।

তিনি বলেন, বইয়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হলে কর্মীদের আন্তরিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পাঠকের চাহিদা বিবেচনায় রেখে সেবার পরিধি ও মান আরও উন্নত করারও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি দিলীপ কুমার সাহা বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি শুধু বই বিতরণের একটি কার্যক্রম নয়; এটি সমাজে পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, সেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রকল্প সমন্বয়কারী উজ্জ্বল হোসেন প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বই ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি, সেবার গুণগত মান উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীরা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় গ্রন্থসেবার মানোন্নয়ন, সময়মতো পাঠকসেবা নিশ্চিত করা, বইয়ের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করা, শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বক্তারা বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শুধু বই ধার দেওয়া নয়, বরং পাঠচক্র, গল্পপাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বইপাঠ প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সে লক্ষ্যে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবাকে আরও জনমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Manual6 Ad Code

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং পাঠকদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা।

উল্লেখ্য, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কাজ করছে। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার ৩৬৮টি উপজেলা ও থানায় ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাড়ির মাধ্যমে নিয়মিত বই ধার প্রদান, পাঠকসেবা, শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এই উদ্যোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রন্থাগারসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ