সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হলেন ড. নাজনীন আহমেদ

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৬

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হলেন ড. নাজনীন আহমেদ

Manual1 Ad Code
  • শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও আরপি নিউজের সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬ : বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

অর্থনীতি, উন্নয়ন গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রায় তিন দশকের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. নাজনীন আহমেদের। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দীর্ঘদিন গবেষণা ও নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তাঁর নিয়োগকে দেশের নীতি গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান, সুশাসন, নারীর সমতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বিষয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও নীতি অভিজ্ঞতা সিপিডির কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা

সিপিডিতে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে ড. নাজনীন আহমেদ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি—ইউএনডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় দুই বছর ইউএনডিপি বাংলাদেশে কান্ট্রি ইকোনমিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে প্রায় তিন বছর নিউইয়র্কে ইউএনডিপির রিজিওনাল ব্যুরো ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।

ইউএনডিপিতে যোগদানের আগে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এ তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ছিল। সেখানে তিনি প্রায় ২৫ বছর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে বিআইডিএসে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ড. নাজনীন আহমেদ। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন গবেষণা পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি রিসার্চ ডিরেক্টর পদে উন্নীত হন। বিআইডিএসে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন বাস্তবতার নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তিনি।

বিস্তৃত গবেষণা ও নীতি-অভিজ্ঞতা

ড. নাজনীন আহমেদের গবেষণা ও নীতি আগ্রহের ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত। সামষ্টিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান, সুশাসন, জেন্ডার সমতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

তাঁর রয়েছে বিপুলসংখ্যক গবেষণা প্রকাশনা। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রকাশনা সংস্থার বইয়ে তাঁর গবেষণাভিত্তিক অধ্যায় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার জন্য প্রস্তুত করা গবেষণা প্রতিবেদনও রয়েছে।

দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি বিশ্বব্যাংক, ডিএফআইডি, জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন—ইউএনসিটিএডি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা—আইএলও, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা—আইএফসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান—আইএফপিআরআই এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন।

Manual3 Ad Code

ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন বাস্তবতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাঁর রয়েছে প্রত্যক্ষ ও বিস্তৃত জ্ঞান।

উচ্চশিক্ষা বাংলাদেশ ও বিদেশে

ড. নাজনীন আহমেদ নেদারল্যান্ডসের Wageningen University থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের University of Sussex থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরও আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি মর্যাদাপূর্ণ Chevening Scholarship-এরও একজন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।

প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে নতুন মাত্রার প্রত্যাশা

Manual6 Ad Code

সিপিডি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও জননীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা, সংলাপ ও নীতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক জনআলোচনা তৈরি করা।

এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ড. নাজনীন আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণকে তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর দীর্ঘ গবেষণা অভিজ্ঞতা, সরকারি ও বেসরকারি নীতি পরিসরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা সিপিডির গবেষণা ও নীতি সংলাপকে আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, বৈষম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসহ নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন অর্থনৈতিক গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক নীতি বিশ্লেষণে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের

Manual7 Ad Code

এদিকে ড. নাজনীন আহমেদ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক অভিনন্দন বার্তায় কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, ড. নাজনীন আহমেদের মতো একজন অভিজ্ঞ, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ দেশের নীতি গবেষণা ও জনস্বার্থভিত্তিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, আয় ও সম্পদের বৈষম্য, শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতির প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয়ে ড. নাজনীন আহমেদের দীর্ঘ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরও বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই, বৈষম্যহ্রাসকারী ও জনমুখী করতে হলে গবেষণা ও বাস্তবতার সমন্বয়ে নীতি প্রণয়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে সিপিডির মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. নাজনীন আহমেদের নেতৃত্বে সিপিডি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জননীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোতে আরও শক্তিশালী গবেষণা, নীতি সংলাপ ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি ড. নাজনীন আহমেদের নতুন দায়িত্বের সাফল্য কামনা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে সিপিডি বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ, সমতাভিত্তিক উন্নয়ন ও প্রমাণনির্ভর নীতিনির্ধারণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নতুন দায়িত্বে প্রত্যাশা

Manual2 Ad Code

অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণায় প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ড. নাজনীন আহমেদের সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের নীতি গবেষণা অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে। গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় তাঁর অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সিপিডি দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরও কার্যকর গবেষণা ও নীতি-আলোচনা এগিয়ে নিতে পারবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীরা।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সিপিডির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন ড. নাজনীন আহমেদ।