কিংবদন্তীতুল্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে কিছুক্ষণ

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০

কিংবদন্তীতুল্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে কিছুক্ষণ

Manual5 Ad Code

|| অারশাদ সিদ্দিকী || ঢাকা, ০৫ অক্টোবর ২০২০ : আজ দুপুর-বিকেল কাটলো বাংলাদেশে কিংবদন্তীতুল্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে। অনেক অজানা তথ্য জানা হলো। আন্তর্জাতিক ঔধধ বানিজ্যের গূঢ় রহস্যের কথা বললেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বললেন…

Manual2 Ad Code

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তিতেও রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন, কিন্তু পরোক্ষভাবে। সুযোগ ছিল বঙ্গবন্ধুর আহবানে বাকশালে যোগ দেয়ার, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের আমলে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করার। সেসব তিনি গ্রহণ করেননি। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐক্যফ্রন্টের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন।

Manual1 Ad Code

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনার প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের ‘ঔষধ নীতি’ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে। তাঁর প্রণীত ‘ঔষধ নীতি’ যুগান্তকারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে ঔষধ নীতি’তে বদল এসেছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনা রয়েছে, স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের সময় আমরা তার প্রতিফলন লক্ষ্য করেছি। সেসময় বিএমএ তাঁর সদস্য পদ বাতিল করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দানের জন্য ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠা।

‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু’র অবদান ছিলো। নামটিও তাঁরই দেয়া। সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য ৩১ একর জমিও তিনি দান করেছিলেন। কিন্তু হাল আমলে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল মাছচুরির অভিযোগসহ নানান মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিলাতের রয়াল কলেজে শিক্ষা অসমাপ্ত রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। একটা সময় বিলাসবহুল জীবন যাপন করেছেন। বিলাতে মার্সিডিজ বেঞ্জের চাইতেও বেশি দামি গাড়ি চালিয়েছেন। রাজপরিবারের দর্জি তাঁর স্যুট সেলাই করতো। ব্যক্তিগত বিমান চালনার জন্য পাইলট হিসেবে নিজস্ব লাইসেন্স ছিলো। সেই বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে, এখন তিনি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করেন।

Manual2 Ad Code

চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবা ছিলেন সরাসরি সূর্যসেনের ছাত্র । মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নের সময় তিনি বামধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।

Manual2 Ad Code

অতি সম্প্রতি বৈশ্বিক মহামারী করোনা মোকাবেলায় তার প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দিক থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা এসেছে অনেকবেশি।

বাংলাদেশের সচেতন মহলের কাছে তিনি নানানভাবে আলোচিত-সমালোচিত ক্ষেত্রবিশেষে বিতর্কিত।

বাংলাদেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছেন, সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, পরিণত বয়সে অসুস্থ শরীরে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন- বিপরীতে তিনি কী দেশের মানুষের কাছে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়েছেন?

দেশের জন্য তাঁর অবদান কিংবদন্তীতুল্য। তিনি যে দেশ প্রত্যাশা করেছিলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন? বললেন সেসব কথা, বললেন অপূর্ন স্বপ্ন ও বাস্তবতার কথা।

বিকেলটা ভারী হয়ে এলো, এই স্বাপ্নিক মানুষটির দীর্ঘায়ু কামনায় বেরিয়ে এলাম। সূর্য তখন নিভে যাওয়ার আগে আরো খানিকটা ম্লান আলো ছড়িয়ে দিচ্ছিলো গোধূলি-লগ্নে…

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ