ধর্ষণের মতো অপরাধীর বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করুন: সৈয়দ অামিরুজ্জামান

প্রকাশিত: ২:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

ধর্ষণের মতো অপরাধীর বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করুন: সৈয়দ অামিরুজ্জামান

বিশেষ প্রতিনিধি || শ্রীমঙ্গল, ১১ অক্টোবর ২০২০ : “নারী ও শিশু নির্যাতনসহ ধর্ষণের মতো অপরাধীর বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করুন।”

দেশব‍্যাপী ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন ও সমাবেশে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান এ কথা বলেন।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের চৌমুহনা চত্বরে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় ও সহ-সভাপতি শামীম আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস ক্লাব, ইনার হুইল ক্লাব ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শ্রীমঙ্গল শাখা কমিটি।
মানববন্ধন ও সমাবেশে যোগ দিয়ে অারও বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল সন্ধানী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি দেবব্রত দত্ত, সাংবাদিক দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, এশিয়ান টিভির শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ প্রতিনিধি এস কে দাশ সুমন, বৈশাখী টিভির জেলা প্রতিনিধি ইমন দেব চৌধুরী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি রজত শুভ্র চক্রবর্তী, কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক সুমন বৈদ্য, বিটিআরআই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়েক আহমেদ, ইনার হুইল ক্লাবের উপদেষ্টা ও গার্ল গাইডস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক রীতা দত্ত, রহিমা বেগম, ইনার হুইল ক্লাবের সভাপতি দিল আফরোজ, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী চৌধুরী শিখা, সেন্ট মার্থাস স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা দিপ্তী চক্রবর্তী, কুশমী গোস্বামী, পায়েল গোস্বামী, প্রভাসিনী সিনহা, মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি সঞ্জয় দে, কেয়া পাল, প্রিয়াংকা গোস্বামী প্রমুখ।
সম্প্রতি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী স্বত:স্ফুর্ত প্রতিবাদকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রেখেছে। এর বিপরীতে দেশব‍্যাপী ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন অামাদের প্রত্যাশিত না।
এটা স্বস্তির যে দেশের মানুষের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সরকারও ধর্ষণ আইনের পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কেবল আইন করে নয়, আইনের প্রয়োগ বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আইনের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধই ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য এ অপরাধ বন্ধ করতে পারে।”
নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের জন্য সবাইকে বিশেষ করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ধর্ষণ জাতীয় এ ধরনের সকল অপরাধ রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্পর্কে তিনি বলেন, “এসিড নিক্ষেপজনিত সময়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে তদ্বিষয়ক আইনের পরিবর্তন ওই অপরাধ কমাতে সাহায্য করেছে ঠিকই, তবে সে ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা রেখেছে সামাজিক প্রতিরোধ। ধর্ষণের ক্ষেত্রে এই সামাজিক প্রতিরোধের উপরেই বিশেষ গুরুত্বআরোপ করছি এবং এ ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থা, পাঠ্যসূচি, চলাফেরা ও কার্য্যক্ষেত্রে নারীকে সম্মান করা ও তার অধিকার সমুন্নত রাখার বিষয়টি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাজের মধ্যে সামনে আনতে হবে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, নারীরা এ দেশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই আমাদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় নেবেন। বিচারের এই দুর্বল জায়গাটুকু ঠিক করতে হবে। নইলে মৃত্যুদণ্ড দিয়েও এগুলো কমানো সম্ভব নয়। তবে মাতৃগর্ভে কোনো ধর্ষক বা অপরাধী জন্মায় না। অপরাধী সৃষ্টি হয় সমাজে। পরিবার যদি সন্তানকে মূল্যবোধের দীক্ষা দিতে না পারে, শিক্ষক যদি নৈতিক ভিত্তি গড়ে দিতে না পারে, তাহলে একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং সবার আগে সমাজের অবক্ষয় দূর করার প্রয়াস নিতে হবে। শুধু বিচার বা পুলিশিং নয়, কাউন্সিলিংয়ের পরিধি বাড়াতে হবে। যাতে ধর্ষক সৃষ্টি হতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। কেউ ধর্ষক হোক তা আমরা চাই না।’