সাংবাদিকদের জবাই করতে চাওয়া সেই কওমি শিক্ষক ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২১

সাংবাদিকদের জবাই করতে চাওয়া সেই কওমি শিক্ষক ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী গ্রেপ্তার

Manual6 Ad Code

ময়মনসিংহ, ১২ এপ্রিল ২০২১ : খেলাফত তথা ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম হলে সব সাংবাদিককে জবাই করার ঘোষণা দেয়া কওমি শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী নামের ওই শিক্ষক ইসলামপ্রতিষ্ঠার জন্য সহিংস হতে কর্মী-সমর্থকদের উত্তেজিত করে আসছিলেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ জামান তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে বেশ কয়েকটি উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করাসহ সাধারণ মানুষকে ভিন্ন পথে ধাবিত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মাওলানা নোমানীর উগ্র আক্রমণাত্মক বক্তব্যের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। মাহফিলটি কবে কোথায় হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও তার নাম, পরিচয় ও ঠিকানা পাওয়া যায়।

Manual6 Ad Code

নোমানী ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়ার ফজলুল হক মারকাযুল উল্লুম মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পড়ান। পাশাপাশি বিভিন্ন মাহফিলে ওয়াজ করেন।

এই মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষক রাশেদ মাহমুদ জানান, নোমানীর বাড়ি ও জন্ম নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায়। তিনি ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। ২০১২ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হন। এরপর থেকে তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে আছেন।

মাওলানা নোমানী সানকিপাড়ারই সরকার রোডের ১১০/২ নম্বর বাড়ি সুখ আলয় এ ভাড়া থাকেন।

Manual6 Ad Code

কওমি আশের মাওলানা শরীফ উদ্দিন জানান, মাওলানা নোমানী হেফাজতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন। তবে জেলায় সংগঠনটির কোনো কমিটি নেই।

একই কথা বলেছেন মাওলানা নোমানীর মাদ্রাসার মোহতামিম আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মাইমেনসিংয়ে তো হেফাজতের কোনো কমিটি নেই। তিনি হেফাজতের কোনো নেতা না আমার জানামতে।’

Manual5 Ad Code

ধর্মীয় জলসায় মাওলানা নোমানীর বক্তব্য ভাইরাল হলে তার খোঁজে রোববার সানকিপাড়ার সেই বাসায় গেলে তার স্ত্রী বাড়ির ভেতর থেকে বলেন, ‘কারা জানি আসছিল, তাদের সাথে গেছে।’

নোমানীর বিষয়ে আরও জানতে প্রশ্ন করলে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমি পর্দা করি, বাইরের কারো সাথে কথা বলি না।’

ময়মনসিংহে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, নোমানীর সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে তারাই নিয়ে এসেছেন।
তবে দিনভর বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে তা নিশ্চিত করছিলেন না। গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিকেলে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি না বলে তাহলে আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

তবে রাতে পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিকেলে নগরীর সানকিপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। মামলাসহ অন্যান্য বিষয়ে কাল জানানো হবে।’

মাওলানা নোমানী যা বলেছেন

তিন মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে মাওলানা নোমানী স্পষ্টত তার সমর্থকদের আইন ভঙ্গের প্ররোচনা দিয়েছেন। হত্যা, রক্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

নোমানীকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহ যদি আমাদেরকে তৌফিক দেয়, আর যদি ইনশাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যদি আল্লাহ তৌফিক দেয় আর যদি ইনশাল্লাহ খেলাফত কায়েম করতে পারি, আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম। সংবাদ দেখার টাইম পাবি না। সংবাদ দেখার টাইম পাবি না। একটা একটা ধরব আর জবাই করব, জবাই করব ইনশাল্লাহ।’

এ সময় মাওলানা নোমানী হাত দিয়ে জবাই করার বিষয়টি দেখান। আর ওয়াজে উপস্থিত শ্রোতারা সবাই উচ্চস্বরে চিৎকার করেন।

এ সময় অমুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানি দিতেও শোনা যায় নোমানীকে। তিনি বলেন, ‘অমুসলমান, এখন থেকে আমরাও তইয়ার (তৈরি)। আমাদেরকে ঘাড় ভাঙবি, আমরাও ঘাড় ভাঙব। কারা কারা তইয়ার?’

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘যতদিন বাঁচব, বাঘের মতো বাঁচব। আর যদি মরতে হয় ইনশাল্লাহ দুই চার দশটাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে এরপর মরব ইনশাল্লাহ। সবাই রাজি আছি তো ইনশাআল্লাহ।’

শ্রোতারা এই পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করতে থাকলে মাওলানা নোমানী বলেন, ‘তবে রক্ত দিতে হবে, রক্ত, রক্ত। আমার বয়ানই আজকে রক্ত নিয়ে। ও মুসলমান রক্ত দিতে রাজি আছেন?’

তাকে আরো বলতে শোনা যায়, ‘সবাই সবাই। বুঝেন, চিন্তা করে বলেন। ভয় পাচ্ছেন না তো, নাকি? ভয় পাচ্ছেন না তো? রক্ত দেবেন ইনশাল্লাহ? রক্ত দেবেন তো ইনশাল্লাহ? রক্ত দিয়েছে কে? তাহলে মুসলমান, আজকে থেকে ডাইলগ পরিবর্তন। ডাইলগ চেঞ্জ।

‘এখন থেকে আর রক্ত দেব না, অনেক রক্ত দিয়েছি আমরা। রক্ত দিতে দিতে এ জীবন শেষ করে দিল। এখন থেকে সাফ সাফ কথা। এখন থেকে আর রক্ত দেব না। কারা কারা তইয়ার? রক্ত নেব, রক্ত নেব, রক্ত নেব ইনশাল্লাহ।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ