সিলেট ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ : জাতীয়ভাবে নন-ফিকশন বইমেলার আয়োজনের আশা ব্যক্ত করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ফিকশন বই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাল্পনিক। এটি ক্রিয়েটিভ কাজ করতে সহযোগিতা করে। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেই যেন তারা ফিকশন বইয়ের পাশাপাশি নন-ফিকশন বা মৌলিক বইয়ের দিকে মনযোগী হয়। কারণ তথ্য ও ফ্যাক্টস সম্পর্কে জানতে হয়। এ মেলা দেখে একসময় হয়ত জাতীয়ভাবে নন-ফিকশন বইমেলার আয়োজন করা হবে।
আজ সোমবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২২) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনদিনব্যাপী নন-ফিকশন বইমেলা উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও বণিক বার্তা যৌথভাবে ৬ষ্ঠ বারের মতো এ বইমেলার আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। সূচনা বক্তব্য দেন ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এবং অ্যাকাডেমি যে যৌথভাবে ভিন্নধর্মী আয়োজন করতে পারে এটি তারই উদাহরণ। এ বইমেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। কারণ এমন আয়োজন দ্বিতীয়টি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ নন-ফিকশন বইমেলা আয়োজনের সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। হয়তো এ মেলা দেখে একসময় জাতীয়ভাবে নন-ফিকশন বইমেলার আয়োজন করা হবে। আর এর বীজ বপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বণিক বার্তা।’
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘বণিক বার্তা যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন ইনোভেটিভ কার্যক্রম পালন করে আসছে। এটি তারই ধারাবাহিকতা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমরা আইটির উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু আইটিতে কোনো কিছুই দীর্ঘমেয়াদে ফেলে রাখা যায় না। প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হয়। কিন্তু বইয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। হাজার বছরের আগের বইও একদম অপরিবর্তিত রাখা যায়। বই পড়া আনন্দের। এটা উপভোগ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় ফিকশন বই নিয়েই সবাই আগ্রহী। কিন্তু নন-ফিকশন বইয়ের অনেক বেশি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, পড়াশোনার অভ্যাস নিয়ে যখন আমরা একধরনের সংকটে রয়েছি, ঠিক এই সময়ে এমন আয়োজন সত্যিই আনন্দের। এ আয়োজন আরো এগিয়ে যাবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে যুক্ত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, বণিক বার্তা একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করছে। আমি এর সফলতা কামনা করছি। আমি আশা করবো ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ মেলার আয়োজন করা হবে।
আগামী বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে নন-ফিকশন বইমেলা প্রাঙ্গণ। এ বছর সর্বমোট ৩৯ প্রকাশনা ও গবেষণা সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে। এগুলো হলো আদর্শ, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, অনিন্দ্য প্রকাশ, আলোঘর, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, এএইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, সংহতি প্রকাশন, শ্রাবণ প্রকাশনী, বাংলা একাডেমি, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড, বাতিঘর, অন্যপ্রকাশ, সময় প্রকাশন, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, আগামী প্রকাশনী, প্রথমা প্রকাশন, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, পাঠক সমাবেশ, ঐতিহ্য, নালন্দা প্রকাশনী, দিব্যপ্রকাশ, তাম্রলিপি, রকমারি, জাগৃতি প্রকাশনী, অনুপম প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, অনন্যা, কথাপ্রকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, কাকলী প্রকাশনী, সাহিত্য প্রকাশ, একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি, স্বরে অ, ডেইলি স্টার বুকস, বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, ভাষাচিত্র, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট এবং কোয়ান্টাম প্রকাশনী।
আয়োজকরা জানান, নন-ফিকশন বইমেলা আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবসা, অর্থনীতিসহ নন-ফিকশন বইয়ের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং এ ধরনের বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা। নন-ফিকশন বইমেলা এরই মধ্যে শিক্ষার্থী ও পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি পুস্তক বিপণনের ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
মেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ে বই কেনার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। বইয়ের বিকিকিনির পাশাপাশি আগত দর্শনার্থীদের জন্য ফটো কনটেস্ট ও র্যাফল ড্রর আয়োজনও থাকছে মেলায়। এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতে নেয়ার সুযোগ থাকছে। এ বছর প্রথমবারের মতো ‘বর্ষসেরা নন-ফিকশন বই’ পুরস্কার প্রবর্তন করতে যাচ্ছে বইমেলা কর্তৃপক্ষ। মেলায় অংশ নেয়া প্রকাশকদের মনোনীত বই থেকে বিচারক প্যানেল ২০২২ সালের সেরা নন-ফিকশন বই নির্বাচিত করবেন। মেলার শেষদিন সমাপনী অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা নন-ফিকশন বই পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
ফটো কনটেস্ট:
মেলায় ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে জিতে নিতে পারেন স্মার্টফোন। সর্বোচ্চ লাইক ও শেয়ারপ্রাপ্ত ছবি পোস্টকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বণিক বার্তার ফেসবুক পেজ ও ইভেন্ট পেজে ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে। ফটো কনটেস্টে অংশ নেয়ার নিয়ম হলো, ‘ষষ্ঠ নন-ফিকশন বইমেলা (6th Non Fiction Book Fair)’ ইভেন্টে যুক্ত হয়ে ইভেন্ট পেজে ছবি পোস্ট করতে হবে। ছবির পোস্টে হ্যাশট্যাগ (#Bonikbarta #nonfictionbook fair2022) দিতে হবে। এছাড়া চেকইন-এ (Daily Bonik Barta বণিক বার্তা) দিতে হবে।
র্যাফেল ড্র:
মেলায় যেকোনো প্রকাশনার স্টল থেকে প্রতি ১০০ টাকা সমমূল্যের বই কেনার জন্য থাকছে ১টি করে কুপন। বণিক বার্তার স্টলে মানি রিসিট দেখিয়ে কুপন (সর্বোচ্চ ১০টি) সংগ্রহ করা যাবে। পুরস্কার হিসেবে প্রতিদিন থাকছে, এয়ার টিকেট, বেঙ্গল পাবলিকেশনের বই, রাইস কুকার আয়রন মেশিন, ইলেকট্রিক কেতলি, থার্মোফ্লাস্কসহ আরো অনেক আকর্ষণীয় পুরস্কার।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি