অবরুদ্ধ নাটোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ২১ ডিসেম্বর

প্রকাশিত: ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩

অবরুদ্ধ নাটোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ২১ ডিসেম্বর

Manual7 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদক | নাটোর, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ : বিজয়ের পাঁচদিন পর অবরুদ্ধ নাটোরে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তাই স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্যে, বিজয়ের আনন্দ অনুভব চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে নাটোরবাসীকে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে হয় ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

২১ ডিসেম্বর ১৯৭১ উত্তরা গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে হানাদার বাহিনী। বিজয়ের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।

২৬ মার্চের কালো রাতে ঢাকায় অপারেশন সার্চ লাইটে অসংখ্য বাঙ্গালি হত্যার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। যোগাযোগ সুবিধার কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নাটোরে তাদের ২য় হেড কোয়াটার প্রতিষ্ঠা করে। সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের যুদ্ধ নাটোর থেকে পরিচালনা করা হতো। শহরের ফুলবাগানে সিও অফিসে স্থাপিত হয় প্রধান কার্যালয়। এছাড়া তৎকালীন গভর্ণর হাউস তথা বর্তমান উত্তরা গণভবন, রাণীভবানী রাজবাড়ী, আনসার ক্যাম্প, পি.টি.আই এবং নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা কলেজে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অবস্থান নেয়।

Manual7 Ad Code

বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীউর রহমান পিপলু বলেন, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অবস্থান নেওয়ায় নাটোর শহর ১৩ এপ্রিলের পর থেকে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ইতোপূর্বে নাটোর টাউন পার্কে খন্দকার আবু আলীর নেতৃত্বে গঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ এবং নাটোর রিক্রিয়েশন ক্লাব থেকে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ে। নাটোর শহরে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা নাটোর ছাড়তে শুরু করেন বলে জানান, মুক্তিযুদ্ধের এ অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক এডভোকেট মাজেদুর রহমান চাঁদ। তিনি বলেন, নাটোরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

Manual8 Ad Code

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গন থেকে নাটোরে ফিরে আসতে শুরু করেন। ১৩ এপ্রিল থেকে ১৫ ডিসেম্বর নাটোর শহর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১৬ ডিসেম্বর থেকে তারা নিজেদের গুটিয়ে নেয়। ১৬ থেকে ২০ ডিসেম্বর উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাবাহিনী নাটোরে আসতে থাকে। নাটোরে আসে মিত্রবাহিনী।

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ। ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন গভর্ণর হাউস তথা বর্তমান উত্তরা গণভবনে ১৪১ জন অফিসার, ১১৮ জন জি.ও.সি, পাঁচ হাজার ৪৫০ জন সিপাহী এবং এক হাজার ৮৫৬ জন প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অধিনায়ক মেজর জেনারেল নজর শাহ্ ও ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণ দলিলে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মিত্র বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল লসমন সিং। ১০ হাজার ৭৭৩টি অস্ত্রসহ জমা হয় ট্যাংক, মর্টার এবং অসংখ্য সাঁজোয়া যান। সকালের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কোন সিভিলিয়নের প্রবেশাধিকার ছিল না বলে জানান, এলাকার ঐ সময়ের যুবক বর্তমানে ব্যবসায়ী সাদেক খামারু। একই মত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নাটোর জেলা শাখার প্রাক্তন কমান্ডার আব্দুর রউফ। আত্মসমর্পণের খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সারাদিন ধরে শহরে চলে বিজয় মিছিল আর মুক্ত আকাশে গান ফায়ার। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় সারা শহর।

Manual8 Ad Code

২১ ডিসেম্বর নাটোর মুক্ত দিবস উপলক্ষে গত বছর শহরে বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নাটোর জেলা কমান্ড। শোভাযাত্রা শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠান। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।

Manual1 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ২১ ডিসেম্বর-নাটোর মুক্ত দিবসকে রেড লেটার ডে হিসেবে অভিহিত করেছেন তৎকালীন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ