জাতীয় পার্টির ২৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২৩

জাতীয় পার্টির ২৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ : ‘শান্তির জন্য পরিবর্তন, পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি’ এ স্লোগান সামনে রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির ইশতেহারে ২৪ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৩) দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

চুন্নু বলেন, ‘নব্বইয়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের পর বিগত ৩৩ বছর দেশের মানুষ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাহীন দুর্নীতি, দলীয়করণ, জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচার দেখে আসছে। যার ফলে গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, সুশাসন ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। বাস্তবে বিগত শাসকরা তার প্রতিফল দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।’

Manual7 Ad Code

ঘোষিত ইশতেহারে প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধ, দেশের চলমান বাস্তবতায় কর্মসংস্থান, বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার ব্যবস্থা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, ৫০ শতাংশ অফিস ঢাকার বাইরে করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে জাতীয় পার্টি দেশে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করবে। আট বিভাগকে ৮টি প্রদেশে উন্নীত করা হবে। নাম হবে- উত্তরবঙ্গ প্রদেশ, বরেণ্য প্রদেশ, জাহাঙ্গীরনগর প্রদেশ, জাহানাবাদ প্রদেশ, জালালাবাদ প্রদেশ, চন্দ্রদ্বীপ প্রদেশ, ময়নামতি প্রদেশ ও চট্টলা প্রদেশ।

এছাড়া সরকার কাঠামো হবে দুই স্তরবিশিষ্ট। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হবে ফেডারেল সরকার। থাকবে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ। আর প্রদেশ চালাবে প্রাদেশিক সরকার। থাকবে প্রাদেশিক সংসদ। প্রতিটি উপজেলা কিংবা থানাকে প্রাদেশিক সরকারের আসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ঢাকা থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সদরদপ্তর প্রাদেশিক রাজধানীতে স্থানান্তর করা হবে।

ক্ষমতায় গেলে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে জাতীয় পার্টির ইশতেহারে। উপজেলা আদালত ও পারিবারিক আদালতসহ পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা চালু করে স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করতে চায় জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টি বাজেট ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া ৭০ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে সব প্রতিনিধিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আওতায় এনে সংসদকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।

ক্ষমতায় গেলে নিবর্তনমূলক কালাকানুন বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় পার্টি। নিম্ন আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থার অনিয়ম, দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা ও অব্যবস্থার মূল কারণ উদঘাটন করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে কমিশন গঠন করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো হবে। গ্রাম ও শহরে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে বেকার যুবক-যুবতীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। যোগ্যতা অনুসারে বেকারদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র নিরূপণ করা হবে।

ক্ষমতায় গেলে পরবর্তী পাঁছ বছরের মধ্যে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ সেবা নিশ্চিত করতে ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করবে জাতীয় পার্টি।

Manual6 Ad Code

সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী শিক্ষায় বেশি জোর দেওয়া হবে। ক্ষমতায় গেলে কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপা।

সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে থাকবে দলটি, কৃষিভিত্তিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে।

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে জাপা।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ