চব্বিশ সাল হবে দেশি পণ্যে ই-কমার্সের বছর

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৪

চব্বিশ সাল হবে দেশি পণ্যে ই-কমার্সের বছর

Manual8 Ad Code

সৈয়দ অামিরুজ্জামান |

বিগত কয়েক বছরে ই-কমার্স সেক্টরে যে উল্লম্ফন ঘটেছে, তার সুবাতাস বইতে থাকবে ২০২৪ সালেও।
যদিও অার দশটা দোকান ঘুরে, অসংখ্য পণ্য দেখে, দামাদামি করে যেখানে পছন্দের পণ্য কেনাটাই ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। সেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়তো কল্পনা বিলাসের মতই ছিল। এখন ই-কমার্সের বাজার বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই-কমার্সের সহজ-সরল পরিসংখ্যান তাই বলছে আসলে।

সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির দেশ চীন ও পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলো যখন ই-কমার্সকে ইতোমধ্যে সহজভাবে নিয়ে পথচলা শুরু করেছে। অন্যদিকে আমরা এখনো ইন্টারনেটকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করছি। ২০০৮ সালের অাওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দিনবদলের সনদ ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন অসম্ভবই মনে করেছিলেন অনেকে। এইতো কদিন আগেও ই-কমার্সও অনেকের কাছে হাসিঠাট্টার ব্যাপারই ছিল। তবে অবস্থা ধীরে ধীরে পরিমাণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটা গুণগত অগ্রগতি বিশেষ লক্ষণীয়। সব হিসেব নিকেশ বদলে গেছে। বেশকিছু পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দেয়।

একটি গবেষণার তথ্যমতে, ২০১১-২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে ই-কমার্সের প্রসার বাড়ছে। বর্তমানে বই থেকে শুরু করে জামাকাপড়, খাবার, শৌখিনসামগ্রী ইত্যাদি ই-কমার্সের মাধ্যমে বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত গতি পেতে শুরু করে ২০১৩ সাল থেকে। সে বছর দুটি ঘটনা ঘটেছিল। প্রথমত, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক কেনাকাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই বছর দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো দ্রুতগতির তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা (থ্রিজি) চালু করে।
মূলত বাংলাদেশে ই-কমার্সের শুরুটা অনেকটা উঠানামার মধ্যে শুরু হয়। এরপর প্রসার লাভ করতে থাকে ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়ন ও লেনদেন ব্যবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্য আসার পর থেকে।

সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্সের বাজার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যা বেড়ে ২ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার হবে। আর ২০২৩ সালে বাজারের আকার হয় ৩ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলারের।

গতবছরের (২০২৩) ২৯ এপ্রিল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কর্তৃক আয়োজিত ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কর আদায় সংক্রান্ত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে বলা হয়, “আগামী চার বছরে ই-কমার্সের বাজার আরও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বাড়বে। বর্তমান বাজারদরে এর পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সাল শেষে ই-কমার্সের বাজারের আকার ছিল ৬৬০ কোটি ডলার। এই বাজার আগামী চার বছরে আরও বাড়বে। ২০২৬ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৫০ কোটি ডলার। বর্তমান বাজারদরে এর পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।”

আঙ্কটাড (বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতিসংঘ সম্মেলন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বিশ্বব্যাপী ই-কমার্সের বিক্রি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এই হিসাবের মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন ই-ক্যাব (ই- কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, বাংলাদেশে এই বিক্রির পরিমাণ আরও বেশি। আঙ্কটাডের দেওয়া তথ্যের প্রায় দ্বিগুণ বা ২৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, ১-৫ এপ্রিল বৈশ্বিকভাবে ই-কমার্স সপ্তাহ পালন করা হয়। বাংলাদেশে পালিত হয় ৭-১৪ এপ্রিল। আর ই-কমার্স দিবস পালন করা হয় ৭ এপ্রিল। এ তো গেলো বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও পরিসংখ্যান। তবে গত ২০২০ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের প্রসারের একটা বাস্তব চিত্র আমরা দেখেছি। লকডাউনে যখন সবকিছু স্থবির, তখনও মানুষের চাহিদাগুলো বরাবরের মতোই ছিল। তাই ভরসা ছিলো ই-কমার্সের মাধ্যমে কেনাকাটা করা। বিরূপ পরিস্থিতির কারণে মানুষ কেনাকাটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

Manual7 Ad Code

বিগত ২০২০ সালে অনলাইনে কেনাকাটা বুঝিয়ে দিয়েছে ই-কমার্স মানেই প্রতারণা নয়। বরং ই-কমার্স মানে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য। ই-কমার্সের প্রসারের কল্যাণে বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত ফিরে পেয়েছে নতুন জীবন। হাসি ফুটেছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের মুখেও। শত দুরাবস্থায়ও অজস্র বা লক্ষ লক্ষ পরিবার চলেছে ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য/সেবা বিক্রির মাধ্যমে, তার হিসেব নেই। ২০২০-২১ এর পরিস্থিতিতে ই-কমার্সের ভিতটা যেন মজবুত হয়েছে। এবার ২০২৪ সালে সেই ভিতের উপর নতুন নতুন উদ্যোক্তার ইতিহাস রচনার অপেক্ষা।

Manual4 Ad Code

ই-কমার্সের সম্ভাবনা নিয়ে কে কী বলছেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কিছু মূল্যবান মতামত জেনে আসা যাক। ই-ক্যাবের বর্তমান সভাপতি শমী কায়সার দেশীয় পণ্য নিয়ে ই-কমার্সের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলেন, ‘২০২৪ সালে দেশি পণ্যের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির বাজারের আকার বা মার্কেট সাইজ অনেক গুণ বাড়বে, সন্দেহ নেই। হয়তো আমরা এ বছরের শেষের দিকে বিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রির কথা বলবো। সেইসঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়ন তো বটেই। বেশিরভাগ গ্রামে অন্তত ১ জন হলেও দেশি পণ্যের ই-কমার্স উদ্যোক্তা দেখতে পাবো বলে আশা করি। তাছাড়া অনেক প্রবাসীর অর্ডারও আসবে। অনলাইনের মাধ্যমে দেশি পণ্য রপ্তানি হয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।’

কাকলী’স এটিয়ারের স্বত্বাধিকারী কাকলী রাসেল তালুকদার বলেন, ‘‘২০২৪ সালে দেশী পণ্যের ই-কমার্সের সম্ভাবনা ব্যাপক। কারণ, অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা করার এই উদ্যোগ আমাদের দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা ফেলবে। এতে মাথাপিছু আয় আরো বৃদ্ধি পাবে।
এখানে একটি কথা উল্লেখ করতে হয়, ই-কমার্সের উদ্যোক্তারা ফেসবুকে খুব ভালো করছে। বিশেষ করে বই, পোশাক, গহনা, খাবার এসব দিকে অনেক দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। তাছাড়া ঐতিহ্যবাহী পণ্য, কুটির শিল্পে তৈরি পণ্য এসবকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতেও তাদের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখবে।’’

বই বিক্রি নিয়ে ই-কমার্স সেক্টরে সম্ভাবনা নিয়ে তিউড়ি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কবি মাইবম সাধন বলেন, ‘‘ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে দেশীয় প্রকাশনার বই বিক্রির সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বাড়বে ২০২৪ সালে।

দেশীয় পণ্য নিয়ে ই-কমার্সের সম্ভাবনা নিয়ে আরিয়া’স কালেকশনের স্বত্বাধিকারী নিগার ফাতেমা বলেন, ‘‘ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে দেশীয় পণ্যের সম্ভাবনা আরো বাড়বে ২০২৪ সালে। ২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশীয় পণ্যের সুফল সম্ভাবনার শক্ত ভিত তৈরি করেছে। নিজের দেশের পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তারা যখন কাজ করবে, তখন দেশে ও বিশ্বের সব দেশের মানুষের পরিসেবা প্রদান করতে পারবে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের বিক্রি আরো বৃদ্ধি হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নারীরা ঘরে বসে নিজ উদ্যোগে কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। যার মাধ্যমে অনেক নারী ও পুরুষের কর্মস্থান বৃদ্ধি পাবে। ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের ক্রেতা ও বিক্রেতা সংখ্যা বাড়বে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ ভূমিকা রাখতে পারবে দেশীয় পণ্যের উদ্যোক্তারা।’’

পরিধান শৈলী’র স্বত্বাধিকারী রাকিমুন বিনতে মারুফ জয়া বলেন, ‘২০২০ সালে অভাবনীয় গতিতে দেশি পণ্যের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির ভিত তৈরি হয়েছে। ই-কমার্সে দেশি পণ্যের বিক্রি ও দাপট দুটোই বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ই-কমার্সে দেশি পণ্যের প্রচার ও প্রসার আরো বৃদ্ধি পাবে। ই-কমার্সে দেশি পণ্যের বিক্রি ও চাহিদা পূর্বের তুলনায় এবছর আরো বৃদ্ধি পাবে। তার পাশাপাশি দেশি পণ্যের উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়বে। দেশি পণ্যের সঙ্গে জড়িত সব কর্মী ও কারিগর এর সুফল ভোগ করবে। কারণ ই-কমার্সে দেশি পণ্যের বিক্রি এখন আর অসম্ভব ব্যাপার নয়। বরং ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে এখন দেশি পণ্যেরই সুদিন।’

রুপ’স হ্যাভেন-এর স্বত্বাধিকারী মেহজাবীন রাখী বলেন, ‘‘দেশি পণ্যের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির ভিত গঠন শেষ। এখন সময় এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ২০১৯ এর শেষ থেকে ২০২৩ এর শেষ, অর্থাৎ গত চার বছরে এই ইন্ডাস্ট্রি এত বড় হয়েছে, যা আমরা চার বছর আগেও ভাবতে পারিনি। আমি মনে করি, ইন্ডাস্ট্রির এই অবস্থানের পেছনে ই-ক্যাবের সাবেক সভাপতি রাজিব আহমেদ স্যার ও ই-ক্যাবের বর্তমান সভাপতি শমী কায়সারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমরা প্রায় অনেকেই অবগত তাঁদের অবদানের বিষয়ে। পাশাপাশি বর্তমানে দেশি পণ্যের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সেরা প্ল্যাটফর্ম উই’র (উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম) অবদান উল্লেখযোগ্য।

উই গত চার বছরে দেশিপণ্যের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করেছে। এর ফলস্বরূপ গ্রুপটিতে প্রায় ২২ লাখের বেশি কন্টেন্ট বা পোস্ট জমা পড়েছে, যার প্রতিটি দেশি পণ্য নিয়ে। দেশি পণ্যের উদ্যোক্তাদের কষ্ট, পরিশ্রম ও চেষ্টা সমানভাবে ভূমিকা রেখেছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে।’’

Manual8 Ad Code

ই-কমার্সের বর্তমান প্রেক্ষাপট যদি বিবেচনা করতে যাই, তাহলে বলতে হয়, এখন প্রায় সবার হাতে হাতেই স্মার্টফোন। তাই ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসার সমস্ত কিছু সবার কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটা আগের থেকে তুলনামূলক সহজ। যে বাঙালির কাছে এক সময় ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাস্তবে না দেখে কেনাকাটা করাটা হাস্যকর ছিল, সেই বাঙালিই এখন চাল, ডাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানারকম পণ্যসামগ্রী, পোশাক, জুতা, গহনা, ব্যাগ, গৃহস্থালি জিনিসপত্রসহ প্রায় সবকিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই কেনাকাটা করছে। এতে করে সময়ের সাশ্রয় যেমন হচ্ছে, তেমনি উঠে আসছে নানারকম পণ্য।

বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর তথ্য দিয়েছিল জার্মান ভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাও গতবছরের মধ্যেই (২০২৩)।
এ থেকেই বোঝা যায়, ২০২৩ সালের ঐ পরিসংখ্যানকে অতিক্রম করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এই চব্বিশের বছরেই অর্থাৎ ২০২৪ সালে।

বিগত ২০২০ সাল থেকে ই-কমার্স সেক্টরে যে উল্লম্ফন ঘটেছিল, তার সুবাতাস বইতে থাকবে ২০২৪ সালেও। যা বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞদের মূল্যবান মতামত দ্বারা সহজেই অনুমেয়।

Manual5 Ad Code

#

সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, মৌলভীবাজার জেলা;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯
Bikash number : +8801716599589 (personal)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ