নারীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ উস্কানীমূলক বক্তব্যের তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ বাম গণতান্ত্রিক জোটের

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৫

নারীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ উস্কানীমূলক বক্তব্যের তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ বাম গণতান্ত্রিক জোটের

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৪ মে ২০২৫ : হেফাজতে ইসলামসহ উগ্রধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর নারীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ উস্কানীমূলক বক্তব্যের তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

আজ রবিবার (৪ মে ২০২৫) সকাল ১১টায় সিপিবি কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভায় এ প্রতিবাদ জানান।

বাম জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণসম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আলোচনা করেন সিপিবির সভাপতি কমরেড শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)-র কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু এবং সমাজতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।

Manual8 Ad Code

সভার এক প্রস্তাবে দেশের বর্তমান পরিস্হিতে নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে হেফাজত-জামাতসহ উগ্রধর্মান্ধ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির নারী বিদ্ধেষী উস্কানীমূলক বক্তব্য এবংসংস্কার কমিশনের সদস্যদের “বেশ্যা” ইত্যাদি অশ্লীল গালিগালাজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, জুলাইআগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করেন। এর মধ্যে নারী সংস্কার কমিশন একটি। প্রতিটি কমিশন ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল দল এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপারিশ চেয়েছেন। তার ভিত্তিতে কমিশন একটি সুপারিশ প্রণয়ন করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। নারী সংস্কার কমিশনও তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার পর থেকে হেফাজত-জামাতসহ দেশের বিভিন্ন উগ্র ধর্মান্ধ মৌলবাদী দল ও গোষ্ঠী নারী বিদ্বেষী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে, যার চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট মনোভাবেরই প্রকাশ। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর এহেন বক্তব্য নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাএবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাংখা বিরোধী।

প্রস্তাবে বলা হয়, গতকাল হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে বিভিন্ন বক্তা নারী প্রশ্নে যেসব অশ্লীল বক্তব্য দিয়েছেন তা শুধু অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং অন্ধকার যুগে ফিরে যাওয়ার সামিল। দেশের জনগোষ্ঠীর ৫০% নারীর গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে অস্বীকার করে বৈষম্যহীন সমাজ দূরে থাক, একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র -সমাজ বিনির্মাণি কোনভাবেই সম্ভব নয়।

Manual7 Ad Code

প্রস্তাবে বলা হয়, নারী কমিশনের প্রস্তাব কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, এই প্রতিবেদনের কোন কোন সুপারিশের ব্যাপারে কেউ একমত, কেউ দ্বিমত বা ভিন্নমত পোষণ করতেই পারে। শুধু নারী কমিশন নয় সবকটি কমিশনের রিপোর্ট নিয়েই প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে কমিশনসমূহের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা চলছে সেখানেই সবাই তাদের নিজস্ব মতামত জানাতে পারে। তা না করে একধরনের মবতন্ত্রের মাধ্যমে নিজ মত অন্যদের উপর যারা চাপিয়ে দিতে চায় তারা কখনো গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনা মূল্যবোধ ধারণ করেনা।

প্রাস্তাব বলা হয়, নারীর সমানাধিকারকে অস্বীকার করা ’৫২, ’৬২, ’৭১,এবং ’২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণকেই অস্বীকার করা। তারা নারীকে ঘরে বন্দী করে রেখে ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যাবহার করার মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেই নারীকে দেখে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রস্তাবে বলা হয়, আমাদের দেশে নারীরা পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এখনো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার। তাই, নেতৃবৃন্দ ’২৪ এর গণআকাঙ্খাকে বাস্তবায়ন এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় হেফাজতে ইসলামি-জামাতসহ উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর এই নারী বিদ্ধেষী অপতৎপরতা বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করার আহ্বান জানান।

বাম জোটের প্রস্তাবে বলা হয়, গতকাল রাজু ভাস্কর্যের সামনে নারী প্রতিকৃতিতে জুতা মেরে বস্ত্র হরণ করে সমগ্র নারী সমাজকে অসম্মান করেছে। এটা চরম অসভ্যতা ও বর্বরতা-যা সভ্য দেশে গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মানুষের কাছে কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Manual7 Ad Code

প্রস্তাবে নারী অবমাননা, নারী বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ