সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার দাবীতে ফেনীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৫

সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার দাবীতে ফেনীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেনী, ২০ আগস্ট ২০২৫ : দেশব্যাপী সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার বিচার সহ বিভিন্ন দাবীতে ফেনীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

বুধবার (২০ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Manual7 Ad Code

মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব ও দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মেহেদী হাসান রাসেল।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক এম এ রহমান দুলাল ভূইয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নুরুল আমিন, সাংবাদিক কাজী নোমান, সাংবাদিক উমর ফারুক, সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন, সাংবাদিক জালালউদ্দিন, সাংবাদিক আক্কাস, আব্দুল আজিজ সায়েম সহ আরও অনেকে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক মেহেদী হাসান রাসেল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রকে আঘাত করে। দেশে মুক্ত সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করে দেশে মত-প্রকাশের স্বাধীনতা আজ ভয়াবহভাবে সংকুচিত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকরা নিরাপদ না থাকলে জনগণের কণ্ঠস্বরও নিরাপদ থাকে না।

মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে সাংবাদিকদের পক্ষে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং টিএ ও ডিএ এবং সম্মানী প্রদানসহ বিভিন্ন দাবীতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ফেনী জেলা শাখার আহবায়ক এম এ দেওয়ানী ও সদস্য সচিব এম এ রহমান দুলাল মিয়া কর্তৃক স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অপর তিনটি স্তম্ভ হচ্ছে, আইনসভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। বোঝাই যাচ্ছে গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও অবস্থান কোথায়! জনস্বার্থ অভিমুখী মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় না। সরকার ও প্রশাসনের অসঙ্গতি ধরিয়ে দেওয়াসহ জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা হিসেবে গণমাধ্যমকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হয়।
আসলে গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা, নীতি-আদর্শের যৌথ প্রচারক ও যৌথ আন্দোলনকারী, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের পাহারাদার। গণমাধ্যমই সঠিক পথ বাতলে দেয় যাতে সরকার, প্রশাসন ও জনগণ সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে। গণমাধ্যম সরকার, প্রশাসন ও জনগণের প্রতিপক্ষ নয়; তবে জনস্বার্থে নজরদারী করবে। কাজেই বলিষ্ট ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া জনস্বার্থের রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে না।
রাষ্ট্রের অন্য তিনটি স্তম্ভ নড়বড়ে হয়ে গেলেও চতুর্থ স্তম্ভ শক্ত থাকলে রাষ্ট্রকে গণমুখী রাখা যায়। আর চতুর্থ স্তম্ভ নড়বড়ে হলে রাষ্ট্রব্যবস্থা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, রাষ্ট্র বিপদগ্রস্ত হয়।
গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় প্রায়ই নানা ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা মুক্তভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রকাশে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন, যা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

Manual7 Ad Code

আর তাই নিম্নলিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করে বলা হয়,
১. সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনেই সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল সাংবাদিকদের জন্য টিএ ও ডিএ সহ সম্মানী প্রদান করতে হবে। জেলা পর্যায়ে সাংবাদিক তালিকা সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা এবং সুরক্ষা মনিটরিং সেল গঠন করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ।
২. সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা।
৩. সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের জন্য পুলিশি সহায়তা ও জরুরি হটলাইন চালু করা।
4. মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে সাংবাদিকদের রক্ষায় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান।
5. সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আপনার উদ্যোগ ও সদিচ্ছার মাধ্যমে সাংবাদিকরা নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং এর ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ