কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫

কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual5 Ad Code

কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি (জন্ম: ১২ আগস্ট ১৯৫২ – ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং এর সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন।

ভারতের বাম রাজনীতির ইতিহাসে কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির নাম এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

আজ তার ১ম প্রয়াণ দিবসে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে নয়, বরং এক প্রজন্মের পথপ্রদর্শককে স্মরণ করা। মার্ক্সবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ইয়েচুরি তার সারাজীবন ব্যয় করেছেন সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে।

Manual8 Ad Code

ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনীতির মূলধারায় আসা ইয়েচুরি শুরু থেকেই বাম রাজনীতিকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার, বক্তৃতা- লেখনী ও চিন্তাধারা সবসময়ই স্পষ্ট এবং বাস্তবভিত্তিক ছিল। শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-যুবক—সকলের স্বার্থরক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য ও গণতন্ত্রকে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনদর্শনের কেন্দ্রে রেখেছিলেন। সাংসদ হিসেবে সংসদে তার যুক্তিনির্ভর বক্তব্য বহু বিতর্কে দিশা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতীয় বাম রাজনীতির মুখ হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে কমরেড ইয়েচুরি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। সহজ-সরল ব্যবহার দিয়ে তিনি শুধু দলীয় কর্মীদের নয়, বিরোধী শিবিরের নেতাদেরও সম্মান অর্জন করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা প্রমাণ করেছে যে সত্যিকারের নেতৃত্ব মানে শুধুমাত্র ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্ক গড়ে তোলা।

Manual7 Ad Code

আজ যখন রাজনীতিতে বিভাজন, সংকীর্ণতা ও ব্যক্তিস্বার্থ দিন দিন বেড়ে চলেছে, তখন কমরেড সীতারাম ইয়েচুরির জীবন আমাদের শেখায় কিভাবে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তাঁর চিন্তা ও কর্মপ্রেরণা আগামী দিনের তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়।

তাঁকে হারানো শুধু বাম রাজনীতির নয়, ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর রচনা, তাঁর সংগ্রামের ইতিহাস এবং আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রমজীবি-মেহনতী মানষের সংগ্রামের অনুপ্রেরণায়।

 

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ