রবীন্দ্রনাথ

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

রবীন্দ্রনাথ

Manual6 Ad Code

আল মাহমুদ |

✍️
এ কেমন অন্ধকার বঙ্গদেশ উত্থান রহিত
নৈশব্দের মন্ত্রে যেন ডালে আর পাখিও বসে না।
নদীগুলো দুঃখময়, নির্পতগ মাটিতে জন্মায়
কেবল ব্যাঙের ছাতা, অন্যকোন শ্যামলতা নেই।

বুঝি না, রবীন্দ্রনাথ কী ভেবে যে বাংলাদেশে ফের
বৃক্ষ হয়ে জন্মাবার অসম্ভব বাসনা রাখতেন।
গাছ নেই নদী নেই অপুষ্পক ঝসময় বইছে
পুনর্জন্ম নেই আর, জন্মের বিরুদ্ধে সবাই

শুনুন, রবীন্দ্রনাথ আপনার সমস্ত কবিতা
আমি যদি পুঁতে রেখে দিনরাত পানি ঢালতে থাকি
নিশ্চিত বিশ্বাস এই, একটিও উদ্ভিদ হবে না
আপনার বাংলাদেশ এ রকম নিষ্ফলা, ঠাকুর!

Manual4 Ad Code

অবিশ্বস্ত হাওয়া আছে, নেই কোন শব্দের দ্যোতনা,
দু’একটা পাখি শুধু অশত্থের ডালে বসে আজও
সঙ্গীতের ধ্বনি নিয়ে ভয়ে ভয়ে বাক্যালাপ করে;
বৃষ্টিহীন বোশেখের নিঃশব্দ পঁচিশ তারিখে।

Manual6 Ad Code

#

এই কবিতায় আল মাহমুদ এক গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সুরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক শূন্যতার কথা বলেছেন।

সারমর্ম:
কবি দেখাচ্ছেন, বাংলাদেশে আর সবুজ নেই, নদী শুকিয়ে গেছে, গাছ নেই, ফুল নেই—সবকিছু নিস্ফলা ও নির্জীব হয়ে পড়েছে। এমন এক শূন্য ও অন্ধকার দেশে রবীন্দ্রনাথের মতো মহাকবি বৃক্ষ হয়ে জন্ম নেওয়ার স্বপ্নও অর্থহীন। রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলো মাটিতে পুঁতে জল দিয়েও আর কোনো নতুন প্রাণ বা সবুজ জন্মাবে না, কারণ এই দেশ উর্বরতা ও সৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। কেবল ভয়ের মধ্যে অল্প কিছু পাখি গান গায়, আর বৃষ্টিহীন বৈশাখের পঁচিশ তারিখে (রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে) নীরবতা বিরাজ করে।

Manual1 Ad Code

???? মূলত কবিতাটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অবক্ষয়, শূন্যতা ও হতাশার চিত্র তুলে ধরে, যেখানে কবি প্রশ্ন করছেন—এমন এক নিষ্ফলা পরিবেশে রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার বা কবিতা কীভাবে বিকশিত হবে।

Manual1 Ad Code