শ্রীমঙ্গলে হাজী মুজিবের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক অনুদান প্রদান

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে হাজী মুজিবের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক অনুদান প্রদান

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় তিনি শ্রীমঙ্গলের ভূনবীর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে কুশলাদি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং কয়েকটি পূজা মণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে হাজী মুজিব স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজখবর নেন ও শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করেন। তিনি উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সরকারের পর্যায়ে ভোগান্তি ও অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলেন।

Manual7 Ad Code

হাজী মুজিব মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সাবেক কৃষিমন্ত্রী দীর্ঘ ৩৬ বছর এই আসনের জনপ্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু তিনি মানুষের উন্নয়ন না করে, নিজের উন্নয়ন করে গেছেন।” তাঁর অভিযোগ, এত দীর্ঘ সময় একজন জনপ্রতিনিধি থাকলে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ—এই দুই উপজেলার উন্নয়ন সিঙ্গাপুরের মত করা উচিত ছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষের মৌলিক সেবা আজও নেই।

রাস্তাঘাট ও মৌলিক অবকাঠামোর অভাব নিয়ে কথা প্রসঙ্গে হাজী মুজিব স্থানীয়দের প্রতি আশ্বাস দেন যে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চারণ করা হবে এবং উন্নয়নের দাবিকে জেলা ও কেন্দ্রে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, জনগণের সমস্যা রাজনীতির ঊর্ধ্বে—সেবা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Manual2 Ad Code

এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে বলেন, ভোরের ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব নেগো করে না — তিনি অনুরোধ করেন, ‘‘দয়া করে আপনারা আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট সেন্টারে ভোট দিতে যাবেন এবং ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়নের সুযোগ করে দিবেন। একটি দলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আগামীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে না। তাই আপনারা তাদের অপেক্ষায় বসে না থেকে ভোট সেন্টারে গিয়ে যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে এ এলাকার উন্নয়নের সুযোগ করে দিবেন।’’

Manual5 Ad Code

হাজী মুজিব আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী আপনাদের জন্য অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করবে, যাতে উৎসব নির্ভয়ে সম্পন্ন হয়। ‘‘আপনারা নির্ভয়ে পূজা উদযাপন করুন, কোন সমস্যা হলে আমাদের জানাবেন, আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবো,’’ তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ হাজী মুজিবের এই আগমন ও সহানুভূতিপূর্ণ মনোভাবকে স্বাগত জানান। তারা জানান, ‘‘হাজী মুজিবকে পেয়ে আমরা আনন্দিত হয়েছি। ২০০১ সাল থেকে তিনি এ আসনে নির্বাচিত না হয়েও মানুষের সুখ ও দুঃখের সাথী হয়ে পাশে থেকেছেন। এটাই প্রমাণ করে তিনি একজন জনবান্ধব নেতা।’’’ স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, তাঁর সক্রিয় থাকা অনেক ক্ষণে গ্রাম্য পর্যায়ে মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাজী মুজিবের সঙ্গে ছিলেন। পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে জনতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও বিভিন্ন সমস্যা শুনে তিনি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজে দেখার নির্দেশ দেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে চলমান অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বিবেচনায় এনে হাজী মুজিব বারবার সুস্পষ্টভাবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা পালন করার আহ্বান জানান। তিনি আস্থাভাজন উন্নয়নমূলক কাজ নিশ্চিত করতে জনগণকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ভাঙতে অনুরোধ জানান।

পূজা উদযাপনের নিরাপত্তা ও চাঙ্গা পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয়রা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন—এমনটাই স্থানীয়দের মত।

Manual8 Ad Code

উপসংহার: শ্রীমঙ্গলে হাজী মুজিবের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন কেবল ধর্মীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ই নয়; এটি রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নেও তাগিদ অনুভব করেছেন। স্থানীয় রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উন্নয়নের অভাব ও আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষিত—এসব ইস্যুতে জনমত মঞ্চে উঠে এসেছে। এলাকার জনগণের কাছে এখন প্রধান দাবি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ