তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শ্রীমঙ্গলের প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৫

তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শ্রীমঙ্গলের প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ

Manual6 Ad Code
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনায় তথ্যপ্রাপ্তি সহজতর ও ওয়েবপোর্টাল হালনাগাদের আহ্বান

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৭ অক্টোবর ২০২৫ : তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা সম্পর্কে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন শ্রীমঙ্গলের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ‘‘ডিজিটাল যুগে পরিবেশসংক্রান্ত তথ্যে অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণ’’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনুপ্রাণিত দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সভায় উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অর্ধশতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক-শ্রীমঙ্গলের সহসভাপতি কাজী আছমা আক্তার, আর প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আবু বকর।

সভায় বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ নেসার আহমেদ, তথ্য উপকমিটির আহ্বায়ক ও সাংবাদিক সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বীলিপ কুমার বর্ধন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দীন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সুয়েব হোসেন চৌধুরী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

তরুণদের দৃষ্টিতে তথ্য অধিকার

মুক্ত আলোচনায় ইয়েস সদস্যদের পক্ষে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সাবেক ইয়েস দলনেতা সৈয়দ আরমান জামি। তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই তথ্য অধিকার আইন নিয়ে আলোচনা করি, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার করি না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। তাই তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়া ও এর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।”

আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গনিত (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সাবেক ইয়েস দলনেতা সৈয়দ আরমান জামিন – ছবি: আরপি নিউজ।

Manual8 Ad Code

প্রধান অতিথির বক্তব্য

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রে গুণগত পরিবর্তন আনতে সরকারি অফিসের ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ রাখা অপরিহার্য। এতে নাগরিকরা সহজে সরকারি সেবার তথ্য জানতে পারবেন, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।”

তিনি সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের ওয়েবপোর্টাল নিয়মিত আপডেট রাখার আহ্বান জানান।

টিআইবি ও সনাকের ১৫ দফা সুপারিশ

আলোচনা সভায় টিআইবি ও সনাকের পক্ষ থেকে ১৫ দফা সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়—

১. তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ধারা পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে হবে।

২. রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতাভুক্ত করতে হবে।

৩. রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন তা নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।

৪. বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতের অধিকার রক্ষায় তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

৫. জনগণের ওপর যেকোনো ডিজিটাল নজরদারি কাঠামো বিলুপ্ত করতে হবে।

৬. তথ্যপ্রকাশে সহায়ক ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

Manual6 Ad Code

৭. অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ সহ সাংঘর্ষিক আইন সংস্কার বা বাতিল করতে হবে।

৮. নতুন কোনো আইন যেন তথ্য অধিকার সীমিত না করে—এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

৯. সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রদানে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

Manual1 Ad Code

১০. তথ্যপ্রাপ্তি প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

Manual1 Ad Code

১১. প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

১২. তথ্য কমিশনের তদারকি ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

১৩. গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও এনজিওদের সমন্বিত উদ্যোগে তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।

১৪. ‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১’ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

১৫. সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বাজেট, নিরীক্ষা, প্রকল্প ও অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত ও নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে হবে; এবং এসব তথ্য বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সহজলভ্য করতে হবে, পাশাপাশি ব্রেইল ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্যও অভিগম্য করতে হবে।

উপসংহার

সভায় অংশগ্রহণকারীরা তথ্য অধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত ও সরকারি তথ্য নাগরিকদের নাগালে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সবশেষে টিআইবি ও সনাকের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এবং আগামী বছরে তথ্য অধিকার বিষয়ক নাগরিক অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ