২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রমৈত্রী নেতা শহীদ আইয়ুব হোসেনের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রমৈত্রী নেতা শহীদ আইয়ুব হোসেনের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

Manual2 Ad Code

রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী নেতা শহীদ আইয়ুব হোসেনের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবমৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর উদ্যোগে সংগঠন কার্যালয়ে কালোপতাকা উত্তোলন। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিকেলে ছাত্র-যুব সংগঠনের স্মরণ সভা।

সকাল ৭টা ১ মিনিটে স্মৃতিস্তম্ভে পূষ্পার্ঘ অর্পণ ও নীরাবতা পালন এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় সংগঠনের কার্যালয়ে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও স্মরণ সভায় নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

১৯৯৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীদের গুলিতে যশোর শহরের ভোলাট্যাংক রোডের নবকিশলয় স্কুলের সামনে ছাত্রনেতা আইয়ুব হোসেন নিহত হন।

শহীদ আইয়ুব হোসেন। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর যশোর জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন সম্মুখে থেকে যশোরে ছাত্র-জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচারী শাসনের পতন এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যেই আন্দোলনের ফসল শেষ পর্যন্ত যারা খাল কেটে যুদ্ধাপরাধীদের এদেশের মাটিতে পাকিস্তান থেকে নিয়ে এসেছিল সেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘরে গিয়ে উঠে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে যেমন পুনরায় পুনর্বাসন শুরু হয় খালেদার নেতৃত্বে, অন্যদিকে তারই দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ক্যাডারদের লেলিয়ে দেয়া হয় মুক্তবুদ্ধির প্রগতিশীল ব্যক্তি-শিক্ষক-ছাত্রদের দমন করতে। শহীদ আইয়ুব হোসেন আদর্শিকভাবে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রহসনের কাছে মাথা নত করেন নাই।

Manual5 Ad Code

২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ সাল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শকুনি দৃষ্টি পড়ে ছাত্র মৈত্রীর সংগ্রামী সৈনিক শহীদ আইয়ুব হোসেনের উপর। ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আইয়ুব, যশোরের রাজপথে সেই রক্তের দাগ আজও তার সহযোদ্ধাগণ দেখেন আর মুখ লুকিয়ে কাঁদেন, আবার আইয়ুবের দেখানো পথে চলতে শুরু করেন। আইয়ুবের মৃত্যু বৃথা যেতে পারে না, আইয়ুবের স্বপ্ন মিথ্যা হতে পারে না। তার ত্যাগ? তার ত্যাগের কি কোনও মূল্য নেই? সময় এসেছে, সময় এসেছে ঘুরে দাড়াবার, শত্রুপক্ষের প্রতিটি জখমের জবাব দেওয়ার।

ঘুমাও আইয়ুব!
তোমার দেখানো পথে আমরা আজো অবিচল।
লাল সালাম শহীদ আইয়ুব হোসেন।
“শ্রদ্ধাঞ্জলি”
শহীদ আইয়ুব লাল সালাম।

ছাত্রমৈত্রী নেতা শহীদ আইয়ুব হোসেনকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

শহীদ আইয়ুব

— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

২৩ ফেব্রুয়ারি—
ইতিহাসের পাতায় রক্তে লেখা দিন,
যশোরের রাজপথ আজও চেনে সেই ঋণ।
ভোলাট্যাংকের মোড়ে জমে থাকা রোদ্দুর,
নবকিশলয় স্কুল দেখে নীরব নীল দূর।

Manual4 Ad Code

এই দিনটিতে থেমে যায় সময়ের ঘড়ি,
মায়ের চোখে নামে অশ্রুর ঝরঝরি।
ছাত্রমৈত্রীর লাল পতাকা কাঁপে হাওয়ায়,
নামটি উচ্চারিত—আইয়ুব, আগুন গাঁথায়।

অক্ষরে অক্ষরে আজ স্মরণ করি তাই,
এক তরুণের স্বপ্ন, এক অসমাপ্ত দায়।
যে তরুণ দাঁড়িয়েছিল বুক পেতে সামনে,
স্বৈরাচারের মুখে ছুড়ে দিয়েছিল চ্যালেঞ্জে।

স্বৈরাচার যখন গর্জে উঠেছিল নগরে,
ভয়ের শিকল ভাঙার ডাক উঠেছিল ঘরে ঘরে,
আইয়ুব ছিল সেই কণ্ঠ, ছিল সেই সাহস,
যে জানত—নিরপেক্ষতা মানেই পরাজয়, লজ্জার।

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছাত্র-জনতা নামে,
গণতন্ত্রের পতাকা তুলে ধরে নামে,
আইয়ুব হাঁটে সবার আগে, চোখে আগুন জ্বলে,
সে জানে—ইতিহাস বদলায় রাজপথের ঝাঁকে।

কিন্তু ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর খেলোয়াড়,
লাভের খাতায় লেখে রক্তের বাজার।
স্বৈরাচার পতনের ফসল ছিনিয়ে নেয় যারা,
মুক্তিযুদ্ধের শত্রুকে ফের বসায় সিংহাসনে তারা।

খাল কেটে যারা ফিরিয়ে আনে অন্ধকার,
যুদ্ধাপরাধীর হাতে তোলে ক্ষমতার ভার,
তাদের প্রহসনে মাথা নত করেনি আইয়ুব,
সেই অপরাধেই বুকে বিদ্ধ হয় বারুদ।

২৩ ফেব্রুয়ারি, দুপুরের নিষ্ঠুর ক্ষণ,
ছাত্রদলের শকুনি চোখে নির্ধারিত পণ,
যশোরের রাজপথে গুলির ঝাঁঝরা শব্দ,
একটি তরুণ শরীর পড়ে—রক্তে লাল সব।

নবকিশলয়ের সামনে থেমে যায় তার হাঁটা,
কিন্তু থামে না তার স্বপ্নের ছাঁটা।
রক্তের দাগ ধুয়ে যায়নি এত বছরেও,
সহযোদ্ধারা দেখে—চোখ ভিজে যায় এখনো।

Manual3 Ad Code

কে বলবে মৃত্যু মানেই শেষ?
আইয়ুব মরে নাই—সে এখনো দেশ।
সে এখনো মিছিলে, স্লোগানের কণ্ঠে,
সে এখনো জেগে আছে শোষিতের অন্তে।

তার মৃত্যু বৃথা যেতে পারে না কভু,
তার স্বপ্ন মিথ্যা—এ কথা মেনে নেবো না কেউ।
তার ত্যাগের দাম আছে ইতিহাসে লেখা,
প্রতিটি রক্তবিন্দু একেকটি দীপ্ত রেখা।

আজো লেলিয়ে দেয়া হয় ক্যাডার বাহিনী,
আজো দমন হয় মুক্তচিন্তার জানি,
কিন্তু আইয়ুব শিখিয়ে গেছে মাথা না নোয়াতে,
শাসকের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে।

সময় এসেছে, ঘুরে দাঁড়াবার সময়,
শোষণের প্রতিটি ক্ষতের দিতে জবাব ভয়হীন দায়।
সময় এসেছে রাজপথ আবার ডাকবে,
আইয়ুবের স্বপ্ন নতুন প্রজন্ম আঁকবে।

ঘুমাও না আইয়ুব—ঘুম ভাঙাও আমাদের,
তোমার দেখানো পথে হাঁটতে দাও প্রতিদিনের।
লাল সালাম তোমায়, শহীদের অগ্নিপথে,
লাল সালাম তোমার রক্তে লেখা প্রত্যয়ে।

কালো পতাকা উঠবে, ফুল পড়বে বেদিতে,
নীরবতা নামবে এক মিনিটের ক্ষণে,
কিন্তু আমাদের শপথ—নীরব থাকবো না আর,
শোষণের বিরুদ্ধে থাকবে অবিরাম হুঙ্কার।

ঘুমাও আইয়ুব, ইতিহাসের বুকে,
তোমার নাম লেখা থাকুক লাল অক্ষরে সুখে।
লাল সালাম শহীদ আইয়ুব হোসেন—
শ্রদ্ধাঞ্জলি, সংগ্রাম, অবিচল উচ্চারণে।

লাল সালাম।

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ