জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬

জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ মার্চ ২০২৬ : ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ।

Manual4 Ad Code

১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব সর্বপ্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পরদিন ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অপর ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ।

২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম নিজ হাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসভবনে। বিদেশের মাটিতে ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় সর্বপ্রথম জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

প্রথমে জাতীয় পতাকাটি ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়।

পতাকা উত্তোলন দিবস
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

আজ সেই দিন, ইতিহাস জাগে রক্তিম প্রভাতে,
বটতলার ছায়ায় ওঠে স্বাধীনতার গান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বুকে,
জেগে উঠেছিল স্বপ্ন—অদম্য, দুর্দমন।

উনিশ শত একাত্তরের উত্তাল সে মার্চে,
বাতাস কাঁপে শপথে, চোখে অগ্নিশিখা;
ডাকসুর তরুণ নেতা আবদুর রব তখন
তুলে ধরেন পতাকা—স্বাধীনতার দীক্ষা।

Manual1 Ad Code

সবুজের বিস্তারে লাল সূর্য দীপ্ত,
বুকের রক্তে লেখা মানচিত্র সোনালি;
ছাত্রসমাবেশে ওঠে বজ্রধ্বনি শপথ—
“বাংলা হবে স্বাধীন”—ধ্বনি যায় টলমল।

পরদিন আবার মার্চের তৃতীয় প্রভাতে,
বঙ্গবন্ধুর সামনে সুর তোলে প্রাণ;
শাজাহান সিরাজ কাঁপা অথচ দৃপ্ত হাতে
উত্তোলেন পতাকা—গেয়ে জাতীয় গান।

Manual7 Ad Code

সেই সুরে মিশে ছিল সাতকোটি কণ্ঠ,
অশ্রু আর অগ্নির মিলিত আরতি;
লাল-সবুজ আকাশে লিখে দেয় ঘোষণা—
এই মাটি, এই মানুষ, এই আমাদের স্মৃতি।

তেইশে মার্চ আবার ধানমন্ডির ঘরে
বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে তোলেন পতাকা;
শোষিতের স্বপ্ন তখন রূপ নেয় দৃশ্যে,
দিগন্তে দিগন্তে জাগে মুক্তির শিখা।

Manual4 Ad Code

বিদেশের মাটিতে কলকাতার বুকে
আঠারোই এপ্রিল ওঠে সেই নিশান;
বাংলাদেশ মিশনে উড়ে স্বাধীন চেতনা,
বিশ্বমাঝে জানায়—আমরাও এক প্রাণ।

মেহেরপুরের আম্রকানন, মুজিবনগর,
সতেরোই এপ্রিল গম্ভীর আয়োজন;
প্রথম জাতীয় সংগীত ধ্বনিত হয় যখন,
পতাকার তলে গড়ে ওঠে নতুন শাসন।

যুদ্ধের দিনগুলো রক্তাক্ত অধ্যায়,
গ্রাম পুড়ে ছাই, নদী লাল স্রোতে ভাসে;
তবু পতাকা ছিল আশার অমর প্রদীপ,
অন্ধকার বিদীর্ণ করে দাঁড়ায় পাশে।

সবুজ মানে শস্যক্ষেত, প্রাণের বিস্তার,
এই ভূখণ্ডের শান্ত নদীর দোলা;
লাল মানে শহীদের অগ্নিময় রক্ত,
সূর্যের মতন জ্বলে অবিনশ্বর বেলা।

প্রথম পতাকাতে সোনালি মানচিত্র
অঙ্কিত ছিল হৃদয়-নিবিড় টানে;
বারোই জানুয়ারি বাহাত্তরের প্রাতে
সরল রূপে ফিরে আসে নতুন মানে।

সতেরোই জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি,
বাংলাদেশ পায় তার নিজস্ব পরিচয়;
লাল-সবুজ পতাকা আকাশে উড়ে বলে—
স্বাধীনতা মানে সংগ্রাম, ত্যাগ, অমল জয়।

আজও যখন মার্চের বাতাস ছুঁয়ে যায়,
বটতলার ছায়া কাঁপে স্মৃতির আলোয়;
তরুণের হাতে হাতে জেগে ওঠে শপথ—
অন্যায় রুখিব আমরা দৃপ্ত কণ্ঠস্বরে।

পতাকা শুধু কাপড় নয়, রঙিন কোনো ঢেউ,
এ আমাদের ইতিহাস, রক্তের দলিল;
মায়ের মুখের ভাষা, কৃষকের ঘামের গন্ধ,
যোদ্ধার অগ্নিদৃষ্টি, বন্দুকের শিসধ্বনি মিল।

যেখানে শহীদরা নিঃশব্দে শুয়ে আছেন,
পতাকার ছায়া পড়ে শ্রদ্ধার মতন;
প্রতি উত্তোলনে জাগে তাদের আহ্বান—
“রক্ষা কর স্বাধীনতা, রক্ষা কর মন।”

হে লাল-সবুজ, তুমি আকাশের প্রার্থনা,
তুমি বাংলার অমর আত্মপরিচয়;
তোমার তলে দাঁড়িয়ে শপথ করি আজ—
মানবতা, ন্যায়, সমতা হোক চিরজয়।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ,
শুধু স্মৃতিচারণ নয়, জাগরণের ডাক;
একাত্তরের চেতনা বুকে ধারণ করে
গড়ি স্বপ্ন-সমৃদ্ধ ন্যায়ের বাংলাদেশ পাক।

যতদিন পদ্মা-মেঘনা বহমান থাকবে,
যতদিন সাগর ছুঁয়ে দিগন্ত জ্বলে,
ততদিন লাল-সবুজ উড়বে অমলিন—
স্বাধীনতার গান নিয়ে অনন্ত কালে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ