শ্রীমঙ্গলে অধ্যাপকের বাসায় চুরি: ১৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি ১৫ ভরি স্বর্ণসহ ৩২ লাখ টাকার মালামাল

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে অধ্যাপকের বাসায় চুরি: ১৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি ১৫ ভরি স্বর্ণসহ ৩২ লাখ টাকার মালামাল

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৭ মার্চ ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীলের বাসায় সংঘটিত চুরির ঘটনার ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে তারা কাজ করছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুলাউড়া উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় বাসাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল প্রায় ৪টার দিকে তিনি বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

পরবর্তীতে তিনি ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান আলমারি ও ওয়ারড্রব ভাঙা এবং খোলা। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওয়ারড্রবে রাখা নগদ দুই লাখ টাকা এবং আলমারি ও ওয়ারড্রবে সংরক্ষিত বিয়ের প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Manual1 Ad Code

ঘটনার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। বুধবার বা বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে এ চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি মামলা রুজু করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত অধ্যাপক সুদর্শন শীল বলেন, “আমাদের প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। ঘটনার পর অনেক দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কিছু উদ্ধার হয়নি। এতে আমরা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন। তবে আমরা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ভরসা রাখছি এবং আশা করছি দ্রুত মালামাল উদ্ধার হবে।”

Manual4 Ad Code

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গুহ রোড ও আশপাশের এলাকায় চুরির ঘটনা কিছুটা বেড়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা রাতে পুলিশের টহল জোরদার এবং চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব চৌধুরী জানান, ঘটনার সূত্র ধরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “চুরির ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলোর ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।”

Manual4 Ad Code

এদিকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, বাসাবাড়িতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ