সাভারের বায়ুদূষণ ঢাকার দ্বিগুণের বেশি, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণার পরও মিলছে না সুফল

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২৬

সাভারের বায়ুদূষণ ঢাকার দ্বিগুণের বেশি, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণার পরও মিলছে না সুফল

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৪ মার্চ ২০২৬ : রাজধানী ঢাকার পাশের জনপদ সাভারে বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় বায়ুর মান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স—এ কিউ আই) ছিল ২৭০, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে সাভারের এ কিউ আই ছিল ৬৪০—যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ মাত্রার অনেক ওপরে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, ওই সময় বিশ্বের ১২৩টি নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’—কাগজে-কলমে উদ্যোগ?

সাভারের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালে উপজেলাটিকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ঘোষণার পর ইটভাটায় ইট পোড়ানো (টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া), উন্মুক্ত স্থানে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো এবং বায়ুদূষণের ঝুঁকি রয়েছে—এমন নতুন শিল্পকারখানাকে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
কিন্তু ঘোষণার দেড় বছর পরও দূষণ কমেনি; বরং পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ ছিল। তবে আমরা তখনই বলেছিলাম, শুধু ঘোষণা নয়—কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। গত দেড় বছরে আলোচনা বেশি হয়েছে, কাজ কম।”

নিষেধাজ্ঞা অমান্য, ভাটা চালু

Manual7 Ad Code

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সাভার উপজেলায় মোট ১০৬টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে পরিচালিত। ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর প্রথম তিন মাস মানহীন ইটভাটা বন্ধ থাকলেও পরে অনেকগুলো আবার চালু হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর ডিসেম্বর পর্যন্ত মানহীন ইটভাটা বন্ধ ছিল। পরে কিছু ভাটা চালু হয়েছে। সবকিছু যথাযথভাবে মানা যায়নি। তবে শুধু ইটভাটাই নয়, অন্য কারণও থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মৌসুমি প্রভাবেও বাড়ে দূষণ

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে উত্তর দিক থেকে দক্ষিণমুখী বাতাস প্রবাহিত হয়। সাভার ঢাকার উত্তরে হওয়ায় সেখানকার দূষিত বায়ু রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার বায়ুমানও দ্রুত অবনতি ঘটে—এমন যুক্তি দেখিয়েই সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়েছিল।

সরকারের অবস্থান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগ) মো. সাইদুর রহমান বলেন, “বায়ুদূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ করতেই ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। এখন সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

Manual3 Ad Code

জনস্বাস্থ্যে আশঙ্কা

Manual6 Ad Code

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০০-এর বেশি এ কিউ আই মানকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও অন্যান্য জটিলতা বাড়াতে পারে। ৬৪০-এর মতো সূচক জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

Manual6 Ad Code

সাভারের দূষণ পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের নয়, রাজধানীর কোটি মানুষের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। কার্যকর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ