মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গৃহবধূর পরিবারে হামলা, আহত ৩

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গৃহবধূর পরিবারে হামলা, আহত ৩

Manual4 Ad Code

মেহেদী হাসান রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর, ০৮ মার্চ ২০২৬ : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ৪ নম্বর চররুহিতা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর লামছি এলাকায় গত ৬ মার্চ বিকেলে।

Manual1 Ad Code

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার ইউসুফ আলী হাজীবাড়ির আমিন চৌধুরীর ছেলে মুরাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে। মাদক কিনতে বিভিন্ন অচেনা লোকজন প্রায়ই ওই বাড়ির সামনের পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করায় বাড়ির নারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও পর্দা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এ বিষয়ে বাড়ির বাসিন্দা হালিমার পরিবার ও আশপাশের লোকজন একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সংক্রান্ত কাজে ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করলে হালিমার শ্বশুর হোসেন তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুরাদসহ কয়েকজন দা, চেনি ও লোহার রড নিয়ে হোসেন ও ইতি আক্তারের ওপর হামলা চালায়। চিৎকার শুনে হালিমা ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

Manual8 Ad Code

হামলায় হালিমার বাম হাত কেটে যায় এবং এতে ৮টি সেলাই দিতে হয়। একইভাবে ইতি আক্তারের হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার হাতেও ৮টি সেলাই দিতে হয়। এ সময় হোসেনকেও মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া হামলার সময় হালিমার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও তার ভাসুরের ছেলে আসিফের ব্যবহৃত একটি ইনফিনিক্স হট ৫০১ মডেলের স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

এ ঘটনায় হালিমা বাদী হয়ে মো. বাবর (৩৭), মুরাদ হোসেন (৪০), মো. ইউসুফ (৪৫), আমিন চৌধুরী (৬৫), বিউটি বেগম (৩০)সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা তা অস্বীকার করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার এসআই সাজ্জাদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাদী চাইলে এটি নিয়মিত মামলায় রূপ দেওয়া যেতে পারে।

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ