সিলেট ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২০ মার্চ ২০২৬ : বিশ্ববিখ্যাত জাপানি অ্যানিমে সিরিজ ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা আর নেই।
গত শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ৮৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই গুণী শিল্পী।
বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
সুতোমু শিবায়ামা ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ‘ডোরেমন’ টিভি সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ডোরেমনের জনপ্রিয় ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। নোবিতা, শিজুকা ও ডোরেমন চরিত্রগুলোকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলার পেছনে তার অবদান অনবদ্য।
১৯৬৩ সালে ‘তোয়েই অ্যানিমেশন’-এ কাজের মাধ্যমে তার পথচলা শুরু হয়।
১৯৭৮ সালে তিনি নিজের অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ প্রতিষ্ঠা করেন। ডোরেমন ছাড়াও তিনি ‘নিনতামা রানতারো’, ‘চিবি মারুকো’ ও ‘কাইকেসু জোরোরি’-র মতো জনপ্রিয় সিরিজ পরিচালনা করেছেন।
অ্যানিমে শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে তাকে জাপানের ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে ডোরেমন ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রিয় ছোটবেলার কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এই নক্ষত্রের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডোরেমনের রূপকার সুতোমু শিবায়ামাকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—
ডোরেমনের নীল আকাশে ম্লান হলো আজ আলো,
স্মৃতির ভাঁজে কাঁদে মন, নিভে গেল যে ভালো।
শিশুদের সেই স্বপ্নপুরী, রঙিন দিনের গান,
গড়ে যিনি তুলেছিলেন—তিনি আজ নিঃসঙ্গ প্রাণ।
সুতোমু শিবায়ামা নাম, সৃজনের এক দীপ,
চোখের জলে ভিজে ওঠে ভক্তের অগণিত চিত্ত।
চলে গেলেন নীরব পথে, ফেলে রেখে ছায়া,
ডোরেমনের প্রতিটি দৃশ্য তারই স্নেহমায়া।
নোবিতার সেই অজুহাতে, হাসির ছোট ঢেউ,
শিজুকার মায়াবী সুরে জেগে থাকত কেউ—
সেই গল্পের অমর কারিগর আজ হলেন দূর,
সময়েরই গহীন ডাকে থেমে গেল সুর।
দুই দশকের বেশি সময়, অক্লান্ত পরিশ্রম,
একটি স্বপ্ন গড়েছিলেন, ছিল না কোনো ভ্রম।
১৯৮৪ থেকে শুরু, দীর্ঘ পথের গান,
২০০৫-এ থামল শুধু কর্মের বাহন।
চব্বিশ নয়, বাইশটি ছবি—জাদুর মতো রঙ,
প্রতিটি ফ্রেমে লিখে গেছেন জীবনেরই ঢঙ।
শিশুমনের গভীর ভাষা বুঝতেন অন্তরে,
তাই তো আজও ডোরেমন বেঁচে থাকে ঘরে ঘরে।
তোয়েই-এর সেই প্রথম দিন, ১৯৬৩,
স্বপ্নগুলো ডানা মেলে ছুঁয়েছিল যে ধীর।
তারপর নিজের স্টুডিও—‘এশিয়া দো’ নাম,
সৃষ্টি যেথায় কথা বলে, জ্বলে শিল্পের ধাম।
‘নিনতামা’র হাসির ঢেউ, ‘মারুকো’র সেই ছল,
‘জোরোরি’র দুষ্টুমিতে ভেসে যেতো দল—
সবখানেই তার ছোঁয়ায় ছিল জীবনেরই রঙ,
প্রতিটি কাজে লুকিয়ে ছিল গভীর মানব ঢঙ।
ফুসফুসের ক্লান্ত যুদ্ধে হার মানেননি তিনি,
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্তও ছিলেন দৃঢ় ঋণী—
শিল্পের কাছে, মানুষের কাছে, স্বপ্নের সেই ডাকে,
তাই তো আজও বেঁচে আছেন কোটি হৃদয়ের ফাঁকে।
২০১২-র সম্মাননা—জীবনের স্বীকৃতি,
জাপানেরই শ্রেষ্ঠ মঞ্চে পেয়েছিলেন যে নীতি।
লাইফটাইমের গৌরবখানি শুধু পুরস্কার নয়,
একটি যুগের পরিশ্রমের মহিমাময় জয়।
আজ যখন খবর এল—নিভে গেছে প্রদীপ,
নিস্তব্ধ হলো আকাশভরা সেই হাসির নীড়।
ডোরেমনের ঘণ্টাধ্বনি যেন থেমে যায় ক্ষণ,
কাঁদে নোবিতা, কাঁদে শিজুকা, কাঁদে শিশু মন।
সামাজিক সব মাধ্যমে আজ স্মৃতিরই ঢেউ,
ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরতে চায় যে কেউ।
একটি মানুষ, একটি নাম, অসংখ্য প্রাণে ছোঁয়া,
তারই ছায়া জড়িয়ে আছে প্রতিটি স্বপ্ন বোনা।
একটি যুগের অবসান কি সত্যিই হয় শেষে?
যেখানে তার সৃষ্টি থাকে সময়েরই দেশে—
যতদিন শিশু হাসবে, কল্পনা করবে উড়ান,
ততদিন বেঁচে থাকবেন শিবায়ামার গান।
বিদায় নিন, প্রিয় কারিগর, নক্ষত্রেরই পথে,
আপনারই আঁকা রঙিন স্বপ্ন রবে সাথে।
ডোরেমনের নীল ব্যাগে লুকিয়ে আছে প্রাণ—
আপনারই অমর সৃষ্টির অশেষ সম্মান।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি