শাহরিয়ার কবিরের অপরাধটা কী!

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

শাহরিয়ার কবিরের অপরাধটা কী!

Manual6 Ad Code

ইশরাত জাহান উর্মি |

এই ভদ্রলোকের অপরাধটা কী আমারে কেউ বলবেন? শাহরিয়ার কবির মানেই আমার কাছে “নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়” এর লেখক।

উনি ঠিক কী অপরাধে জেলে আছেন কেউ বলতে পারেন? উনি কি আওয়ামী লীগের টাকা খাইছেন? প্লট নিছের? ফ্ল্যাট নিছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া কী অপরাধে? উনি বিদেশে পালান নাই, বলেছেন, আমি কোনও অপরাধ করি নাই, নিজ দেশের মাটি ছেড়ে কোথাও যাবো না।

গুরতর অসুস্থ শাহরিয়ার কবীরের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে জেলেই, সাধারণ বন্দিদের মতো তাঁকে রাখা হয়েছে। তাঁর একমাত্র কন্যা কিছুদিন আগে আত্মহত্যা করেছেন, স্ত্রী মারা গেছেন আগেই। এখন উনার জেলে মৃত্যু নিশ্চিত করাই হয়তো এদের প্রতিশোধপরনয়তার একমাত্র নিদান!

মানবাধিকার নিয়ে কথায় কথায় “বিবৃতি” দিয়ে ফ্যালা তাবড় মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সম্পাদকেরা এখন যার যার পাছা বাঁচাচ্ছেন। অথচ মানবাধিকার কর্মী বা অ্যাকটিভিস্ট বলতে আমি বুঝতাম, যারা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। যাদের সাথে আমি গত ১৫টা বছর চলেছি, একসাথে পথে নেমেছি, তাদের এই চুপ করে থাকা আমাকে কি পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা, ট্রমা আর মানুষ চিনতে না পারার অপরাধবোধ দিচ্ছে তা বলার না!

এই সরকারে আমার খুবই প্রিয় কয়েকজন মানুষ আছেন। শাহরিয়ার কবির হাতজোড় করবেন না, তাঁর সেই মেরুদণ্ড আছে, কিন্তু তাঁর হয়ে আমরা যারা এই অন্যায় মানতে পারছি না, তারা হাতজোড় করছি, উনাকে মুক্তি দিন। এই অন্যায় আর ঘটতে দেবেন না।

Manual7 Ad Code

পুনশ্চ : এই লেখায় দেইল্লা রাজাকারের সন্তানদের “হাহা” প্রত্যাশা করছি?

নীরবতার রাষ্ট্রে সত্য হবে দিক
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

কে বলে অপরাধী সে, কী তার অপরাধ?
বই লিখেছে, সত্য বলেছে—এই কি তার সাধ?
ইতিহাসের অন্ধকারে জ্বালিয়েছে আলো,
মিথ্যার ভিড়ে সত্য বলে হয়েছে আজ কালো।

সে তো কোনও রাজদরবার চায়নি জীবনে,
চায়নি সোনার প্রাসাদ, বিলাসী আয়োজন।
সে তো শুধু লিখতে চেয়েছে মানুষের কথা,
যুদ্ধ, রক্ত, বিশ্বাসঘাতক, ইতিহাসের ব্যথা।

নুলিয়াছড়ির পাহাড় ডাকে সোনালি সেই নাম,
শব্দে শব্দে গড়ে উঠেছে বাংলার অবধাম।
কলম ছিল তার অস্ত্র, কাগজ ছিল ঢাল,
সত্য ছিল একমাত্র পথ, একমাত্র জ্বলাল।

আজ সে কেন কারাগারে, প্রশ্ন জাগে মনে,
সত্য বলা কি অপরাধ এই রাষ্ট্রযন্ত্রে?
যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়া কি দোষ?
নাকি সত্য বললেই হয় মানুষের সর্বনাশ?

সে তো পালায়নি বিদেশে রাতের অন্ধকারে,
বলেনি— “আমি বাঁচতে চাই অন্য কোনো দ্বারে।”
বলেছে— “এই মাটিতেই আমার জন্ম-শপথ,
অন্যায় যদি অপরাধ হয়, তবু এ আমার পথ।”

আজ সে অসুস্থ, জেলের ভেতর থেমে আসে শ্বাস,
রাষ্ট্র তখন নীরব বসে দেখে মানুষের সর্বনাশ।
হার্ট অ্যাটাকে কেঁপে ওঠে লোহার সেই দেয়াল,
তবু রাষ্ট্রের চোখে নেই এক বিন্দু খেয়াল।

Manual6 Ad Code

তার ঘরে আজ কেউ নেই আর, শূন্য সব দরোজা,
স্ত্রী গেছে, কন্যা গেছে—নেই জীবনের খোঁজা।
এক মানুষ একা দাঁড়িয়ে লোহার কারাগারে,
রাষ্ট্র যেন প্রতিশোধ নেয় নীরব অত্যাচারে।

মানবাধিকার—এই শব্দ আজ কত সহজ মুখে,
বিবৃতি দেয়, সভা করে, ছবি তোলে সুখে।
কিন্তু যখন সত্য মানুষ পড়ে অন্ধকারে,
সবাই তখন চুপ হয়ে যায় অদ্ভুত আচারে।

যারা ছিল পথে পথে, স্লোগানে একসাথে,
আজ তারা সব নীরব কেন ক্ষমতারই হাতে?
বিবেক কি আজ বিক্রি হয়ে গেছে কোনো দামে?
নাকি সবাই বাঁচতে চায় নিজের নিরাপদ ঘামে?

Manual4 Ad Code

ইতিহাস একদিন লিখবে নীরব মানুষের নাম,
কে ছিল তখন অন্যায়ের পাশে নির্লজ্জ অবিরাম।
কে ছিল চুপ, কে ছিল ভয়, কে ছিল স্বার্থে অন্ধ,
আর কে ছিল সত্যের পথে একা কিন্তু দ্বন্দ্ব।

কারাগারের লোহার শিক আজও কথা কয়,
সত্যকে যে বন্দি করে সে কখনো জেতে নয়।
রাষ্ট্র বড় নয় কখনো সত্য মানুষের চেয়ে,
ইতিহাস তার বিচার করে সময় শেষে গিয়ে।

আজ যদি সবাই চুপ থাকে, নীরব থাকে দেশ,
অন্যায় তখন শক্তি পায়, সত্য হয় নিঃশেষ।
একজন মানুষ জেলে মানে শুধু একজন নয়,
সাথে সাথে বন্দি হয় দেশের বিবেকময়।

প্রশ্ন আজও বাতাস জুড়ে ঘুরে ফিরে কয়—
সত্য বলা কি অপরাধ? উত্তর কোথায় হয়?
যে মানুষটি মাথা নত করেনি কোনও দিন,
তার জন্যই লজ্জা পায় নীরবতার ঋণ।

Manual5 Ad Code

একদিন এই কারাগার ভেঙে যাবে ঠিক,
মিথ্যার প্রাসাদ ভাঙবে, সত্য হবে দিক।
মানুষ তখন মনে রাখবে এক মানুষের নাম,
অন্যায়ের সামনে যে দাঁড়িয়েছিল অবিরাম।

রাষ্ট্র বদলায়, ক্ষমতা বদলায়, বদলায় সময়,
কিন্তু সত্য মানুষের নাম ইতিহাস ভোলে নয়।
যারা আজকে নীরব বসে দেখছে সব অন্যায়,
ইতিহাস তাদেরও একদিন প্রশ্ন করবেই হায়।

তাই আজও লিখি, আজও বলি, আজও করি গান,
সত্য মানুষের কারাগার মানে জাতির অপমান।
একজন মানুষ মানে শুধু একজন নয়,
একটি দেশের বিবেক তখন বন্দি হয়ে রয়।

যদি প্রশ্ন করো আবার—অপরাধ তার কী?
উত্তর হবে—সত্য বলা, মাথা নত না-কি।
এই অপরাধে দণ্ড যদি দেয় কোনো রাষ্ট্র,
তবে ইতিহাস লিখবে তাকে অন্ধকারের পাত্র।

তবু সত্য থামে না কখনো, থামে না তার পথ,
একজন পড়ে গেলে আবার উঠবে শত শত।
কারাগারের দেয়াল ভেঙে আসবে নতুন ভোর,
সত্য মানুষের জয় হবে—এই ইতিহাস ঘোর।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ